ফসল র খ ত ই ক কোম্পানি কার্যক্রমে নেমেছে ঝিনাইদহে
ফসল র খ ত ই ক টন – ফসল র খ ত ই ক কোম্পানি নিজেদের পণ্য প্রচারের জন্য কৃষিজমিতে একটি সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে। ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি পরিদর্শনে দেখা গেছে যে ধান ও সবজির খেতে বিভিন্ন কীটনাশক কোম্পানির সাইনবোর্ড বসানো হয়েছে। কৃষকদের কাছে পণ্যের প্রচার করতে তারা নিয়ন্ত্রিত বিষের ব্যবহারে উৎসাহিত করছেন। ঝিনাইদহ কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে যে কীটনাশকের ধরন অনুযায়ী স্প্রের পর নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করে ফসল সংগ্রহের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কৃষকরা প্রায় অনেক সময় তা অনুসরণ করছেন না। বোতলের গায়ে হলুদ চিহ্নিত কীটনাশকের ক্ষেত্রে ৭ দিন, সবুজে ১৫ দিন, নীলে ২১ দিন এবং লাল চিহ্নিত কীটনাশকের ক্ষেত্রে ৩১ দিন পর ফসল সংগ্রহের নির্দেশনা দেওয়া থাকে। কিন্তু পরিস্থিতির চাপে কৃষকরা বেশি শীঘ্র ফসল তুলতে হয়।
প্রচারের মাধ্যমে কৃষক উৎসাহিত হচ্ছে
ফসল র খ ত ই ক কোম্পানি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে কৃষকদের সারাদিন কীটনাশক ব্যবহারে উৎসাহিত করছেন। একজন কৃষক আব্দুল কুদ্দুস জানান, বিভিন্ন সময় কীটনাশক কোম্পানির প্রতিনিধিরা তাঁদের কাছে আসেন এবং ফসলের মাঝখানে কীটনাশকের বিজ্ঞাপন লাঠিতে পুঠে দেন। তারা কৃষকদের কীটনাশক ব্যবহার করলে ফসলের কী কী উপকার হবে বলে নিশ্চিত করছেন। কিন্তু এই বিষের ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে তাদের কখনো বলেন না। ফসল র খ ত ই ক কোম্পানির এই প্রচারণার কারণে কৃষকদের সুস্থ খাদ্য নিশ্চিত করতে বিপদের ঝুঁকি বাড়ছে।
জৈব পদ্ধতির বিরুদ্ধে রাসায়নিক ব্যবহার বাড়ছে
পরিবেশকর্মী জুয়েল রানা বলেন, কীটনাশক কোম্পানিগুলো নিজেদের পণ্যের বিজ্ঞাপনের প্রচারে বিলবোর্ড স্থাপনের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এর ফলে কৃষকরা জৈব বালাইনাশক ব্যবহারে উৎসাহিত হয়নি, বরং রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন। তিনি আরও বলেন, জমিতে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা হলেও ব্যবহৃত কীটনাশকের বোতল বা প্যাকেট ফেলার জন্য কোনো ডাস্টবিনের ব্যবস্থা রাখা হয় না। ফলে এসব বর্জ্য মাঠেই পড়ে থাকে, যা মাটির উর্বরতা শক্তি নষ্ট করার পাশাপাশি পরিবেশদূষণের ঝুঁকি বাড়ায়। ফসল র খ ত ই ক প্রচারের কারণে কৃষিজমি থেকে মানুষের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
