২০ হাজার থেকে ২০ লাখ, এক ম্যাচ যেভাবে বদলে দিল ভোজিনিয়াকে
২০ হ জ র থ ক ২০ – আটলান্টার স্টেডিয়ামে রেফারির শেষ বাঁশি শুনার পর স্পেনের তারকারা শিথিল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তাদের বিপক্ষে পর্তুগিজ দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব চাভেসের হয়ে খেলা ভোজিনিয়ার দলবদল সেই ক্ষুদ্র ব্যবধানে স্পেনের আক্রমণকে বাঁধিয়ে রেখেছিল। পেদ্রি–রদ্রিদের দুর্দান্ত আঘাত বাঁচিয়ে ম্যাচসেরার সুবিধা করে দিয়েছিলেন তিনি।
কাগজে কলমে দুই দলের মূল্য ছিল আকাশ আর পাতালের মতো। স্পেনের ফুটবলারদের বাজারমূল্য কোটি কোটি ইউরো হিসেবে প্রকাশিত হতো তখন, ভোজিনিয়াকে তাদের সাথে তুলনা করা হতো মাত্র ৫০ হাজার ইউরো বৃত্তি দ্বারা। কিন্তু মাঠে তাঁর দেখা হয়েছিল ভীষণ ভাবে শক্তিশালী গ্লাভসের জন্য।
ম্যাচ শেষে সাক্ষাৎকারে ভোজিনিয়া আবেগ স্বাক্ষর করতে পারেননি। তাঁর সাথে চোখের জল রেখে বলেন, “বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করেছিলাম এই দিনটার জন্য। জানতাম বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষে খেলছি, তবু নিজেদের সামর্থ্যে বিশ্বাস ছিল। ম্যাচটি ভীষণ কঠিন হলেও এই অর্জনে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ছিলাম।”
“ও চোখের জল ছিল আমাদের দীর্ঘ কঠিন পরিশ্রমের ফসল। ও বহু বছর ধরে আমাদের দলের সাথে আছে। পুরো দল নিজেদের কাজটা করেছে বলে ও পোস্টের নিচে শান্ত থেকে নিজের সেরাটা দিতে পেরেছে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাঠের বীরত্বের প্রভাব ছিল বিশাল। ম্যাচের আগে ভোজিনিয়ার অনুসারীর সংখ্যা ছিল মাত্র ২০ হাজার। কিন্তু স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে দেখানো অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তা বিশাল গতিতে ২০ লাখে ছাড়িয়ে গেছে। যা কেপ ভার্দের জনসংখ্যার চেয়েও প্রায় তিন গুণ বেশি।
বিশ্বকাপের শুরুতেই স্পেনকে রুখে দিয়ে ভোজিনিয়া একটি মুখোমুখি বার্তা বহন করেছেন দলের কোচ বুবিস্তাকে জানানোর মাধ্যমে। “আমাদের দেশের মানুষের কাছে এই ফলের অর্থ অনেক বড়। আমরা চেয়েছিলাম বিশ্ব দেখুক আমাদের দল মাঠের ফুটবলে কতটা লড়াকু; আমরাই তো ঘুরে দাঁড়ানোর এবং সহনশীলতার আসল রূপ।”
