চাঁপাইনবাবগঞ্জ: আম খাতে সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে সমস্যা
চ প ইনব বগঞ জ – চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার আম মৌসুম শুরু হলে শহরে এবং গ্রামে প্রচুর কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়। তবে উৎপাদনের বিপুল সম্ভাবনা সত্ত্বেও জেলায় এখনো কোনো প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে ওঠেনি। ফলে কৃষক ও উদ্যোক্তারা অর্থনৈতিক সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
একটি জানান দেওয়া হয়েছে যে, কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী বর্তমান মৌসুমে ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে আম চাষাবাদ হয়েছে। এই মৌসুমে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯১২ টন। তবে এই খাতে কৃষি কর্মসংস্থান ও পরিবহন সম্পর্কে কৃষকদের মুখে হতাশা আসে।
আম চাষি এরশাদ আলী বলেন, গত দশকে উৎপাদন খরচ বেশি হয়েছে, কিন্তু বাজারে আমের দাম বেড়েছে না। মৌসুম শুরুতে দাম কিছুটা ভালো থাকলেও সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম ধস নামে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে আমের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে এটি প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে না। ড. মো. শরফ উদ্দিন বলেন, আমকে কেন্দ্র করে আধুনিক প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তুলতে পারলে কৃষক, উদ্যোক্তা ও দেশের অর্থনীতি সমানভাবে উপকৃত হবে।
আন্তর্জাতিক বাজারে আম বিপণনের বৃদ্ধি
কৃষি উদ্যোক্তা মুনজের আলম মানিক উল্লেখ করেন যে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আম কেন্দ্র করে জুস, পিউরি, পাল্প, আচার ও অন্যান্য মূল্য সংযোজন পণ্য তৈরি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে আম ভিত্তিক পণ্যের বাজার কয়েক দশকে ২৮ বিলিয়ন ডলার পৌঁছেছে।
মুনজের আলম মানিক বলেন, দেশে উৎপাদিত আমের অধিকাংশ সরাসরি ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রি হয়। তবে সেই সম্ভাবনাকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে রূপ দিতে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর বিনিয়োগ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. ইয়াছিন আলী বলেন, জেলার কৃষকদের সংরক্ষণ ও রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তিনি যোগ করেন যে, বিপণন ও রপ্তানি অবকাঠামো উন্নয়ন করা হলে আম খাত আরও শক্তিশালী হবে।
