সিপিবি বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের দিকনির্দেশনা অনুপস্থিত করেছে
ব জ ট উচ চ ম ল – বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি তার দুর্বলতা ও অসারতা নিয়ে মন্তব্য করেছে। দলটি দাবি করেছে যে বাজেটে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি রোধে কোনো বাস্তব কার্যকর পরিকল্পনা রয়েছে না এবং মানুষের জীবনযাত্রার খরচ কমানো বা কর্মসংস্থান বৃদ্ধির দিকে কোনো সুস্পষ্ট আশা দেখা যাচ্ছে না।
বৈষম্য আরও বাড়বে বলে সিপিবির নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন এক যৌথ বিবৃতিতে এ কথা ঘোষণা করেন। তাঁদের মতে, বাজেটে সরকারের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে তা অর্জিত হবে এমন আস্থা জনগণের মধ্যে তৈরি হয়নি।
“২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট দেশের ইতিহাসের বৃহত্তম সংখ্যক টাকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের দিকনির্দেশনা নিয়ে আসেনি।”
ঋণ ও সুদ পরিশোধের প্রভাব
প্রস্তাবিত বাজেটে ঋণের সুদ পরিশোধের জন্য ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। একই সময়ে ঘাটতি মেটাতে নতুন আড়াই লাখ কোটি টাকার ঋণ গ্রহণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ব্যবস্থা দ্বারা বাজেট দুর্বলতা ও অসারতা প্রমাণিত হয়েছে।
তুলনা ও আর্থিক সক্ষমতা
২০১০-১১ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৮১৫ কোটি টাকা, যা সে সময়ের জিডিপির ১৬.৯ শতাংশ ছিল। অথচ বর্তমান বাজেটের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ খাত দেখিয়ে আস্থা তৈরি করা হয়নি। বিপরীতে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা সে অনুপাতে বৃদ্ধি পায়নি, বরং কমেছে বলে দাবি করা হয়।
বাজেটে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে সরকারের বাস্তবায়ন ক্ষমতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয়।
অসমান বৃদ্ধির আশংকা
নেতারা মন্তব্য করেন যে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত ও নীতির প্রভাবে কর আওতা সম্প্রসারণের পদক্ষেপ বড় অঙ্কের বাজেট দেখিয়ে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। এ ব্যবস্থা শ্রমিক, কৃষক, খেতমজুর ও মধ্যবিত্ত মানুষদের ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
