ঈদে কোটি টাকার গরু বিক্রির আশা গৃহবধূ ইলার
ঈদ ক ট ট ক র গর – ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার মঠবাড়ি এলাকায় অবস্থিত ফাহিয়ান এগ্রো ফার্ম খামারে বর্তমানে গরু পালনের সাথে হাঁস, মুরগি, কবুতর এবং ছাগলের চাষও করা হচ্ছে। আত্মীয়স্বজনের সমালোচনা ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হলেও এই খামার গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়েছেন গৃহবধূ ফারিয়া আক্তার ইলা। স্বামী মো. সুমন খানের পরিচালনার সাথে তাঁর দৃঢ় মনোবল ও অগ্রগতি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
খামারের উদ্যোগটি শুরু হয় ২০২৩ সালে, যখন ইলা কেবল একটি গরু থেকে কাজ শুরু করেন। প্রাথমিক পর্যায়ে তাঁর উদ্যোগ নিয়ে বিতর্ক ও অসমর্থনের মুখে পড়া সত্ত্বেও তিনি পরিকল্পনা আঁকতে থাকেন। সামনে আসা ঈদুল আজহার প্রসংগে খামারটি ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছে। এই মুহুর্তে তাঁর হাতে প্রায় ৬৪টি গরু রয়েছে, যার মধ্যে ৩০টি কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। বর্তমানে কয়েকটি গরু বিক্রি হয়েছে, কিন্তু ইলা এবার প্রায় এক কোটি টাকার গরু বিক্রির আশা রেখেছেন।
খামারটি পরিচালনা করতে গিয়ে ইলা নিজেই দৈনন্দিন কাজ করছেন। গরু পালন করা হচ্ছে দেশীয় পদ্ধতি অনুসারে, যাতে খড়, ঘাস ও দানাদার খাদ্য ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে। গৃহবধূ ইলার কথা, ‘শখের বশে একটি গরু দিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম। তখন অনেকে আমার প্রচেষ্টাকে অগ্রাহ্য করত। কিন্তু স্বামীর সহযোগিতার সাথে আমার পরিবার সমর্থন দিয়েছে। ধীরে ধীরে খামারের পরিধি বাড়তে থাকে।’
খামারে কর্মরত শ্রমিকদের মতে, গরুগুলো স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে লালন পালন করা হচ্ছে। এই কাজের মাধ্যমে তারা নিয়মিত আয় করছেন এবং পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম হয়েছেন। ইলার উদ্যোগে স্থানীয় কয়েকটি পরিবারের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া তাঁর খামারে ফাইটার, শাহিওয়াল, ওয়েস্টার্ন ফ্রিজিয়ান সহ বিভিন্ন জাতের গরু রয়েছে।
“আমাদের লক্ষ্য এবার প্রায় এক কোটি টাকার গরু বিক্রি। ভবিষ্যতে খামার আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।”
রাজাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানান, ইলা একজন পরিশ্রমী ও সফল নারী উদ্যোক্তা। দেশীয় পদ্ধতি অনুসারে গরু পালন করে তিনি সফলতা অর্জন করেছেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে তাঁকে নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
