Bangladesh

‘মা, বাড়ি এসে কালই গরু কিনব’, কিন্তু বাড়ি ফিরল ৩টি লাশ

‘মা, বাড়ি এসে কালই গরু কিনব’, কিন্তু বাড়ি ফিরল ৩টি লাশ

ম ব ড় এস ক লই গর – মা, বাড়ি এসে কালই গরু কিনব বলে নিজের অপেক্ষাকৃত ভালো কালের জন্য একটি আশার সূচনা করেন মনির হোসেন। তিনি কিশোরগঞ্জ শহর থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে মিঠামইনের মহিষাকান্দি গ্রামে পৌঁছতে দুই ঘন্টা সময় লাগে। কিন্তু সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে তিনি আশা করেননি যে মাত্র ১০ মিনিটের দূরত্বে তিনটি প্রাণ হারাবেন। এই সংঘটনা ছাড়া তাঁদের সামনে ঈদের আনন্দ আরও বেশি ছায়া বিস্তার করছিল।

গতকাল সোমবার একটি মুখোমুখি সংঘর্ষে ত্রাসের কবর

গতকাল সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যায় ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম অলওয়েদার সড়কের ভাতশালা সেতুর কাছে মনির হোসেন করিমগঞ্জ নোয়াবাদ এলাকার মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক ও কোচিং সেন্টার চালানো ব্যবসায়ী তাঁর জন্য স্বপ্ন করেছিলেন মা-বাবা। কিন্তু কিশোরগঞ্জ থেকে এতটা পথ পাড়ি দিয়ে এসে মাত্র ১০ মিনিটের দূরত্বে সংঘর্ষে তিনজনের মৃত্যু হয়। সেই স্থানে পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে মনিরের সাজানো সংসার তছনছ হয়ে যায়।

মনির হোসেন করিমগঞ্জ নোয়াবাদ এলাকার মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক ছিলেন। তাঁর ছয় জন পরিবারের সদস্য ছিল, যাদের মধ্যে তিনি ছিলেন সবচেয়ে বড় ভরসা। তাঁর স্ত্রী মুন্নি আক্তার ও আট বছরের মুহাম্মদ আয়ান সামনে নিয়ে যাওয়ার সময় কোনো কষ্ট হয়নি। কিন্তু সেই সামগ্রিক সুখের কথা তাঁদের মনে হয়নি যে দুপুরে যে মানুষটি হাসিমুখে বাসা থেকে বেরিয়েছিল, সেই হাসিমুখে সন্ধ্যায় তাঁর নিথর দেহ ফিরবে।

মনির হোসেনের পরিবারের বিষয়ে আরও গুরুতর ধ্বংস ঘটেছিল। কিশোরগঞ্জ থেকে মাত্র ১০ মিনিটের দূরত্বে হাসিমুখে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি এবং তাঁদের পরিবার। এই দুর্ঘটনার ফলে তাঁদের কোরবানি বিষয়ে আসার কথা ছিল, কিন্তু প্রাণ হারানোর পর সেই আশার শেষ পর্যায় পৌঁছেছে।

ঈদের দিন কিশোরগঞ্জ থেকে বাড়ি ফিরে প্রাণহারা দুঃখ

ঈদের আনন্দের বদলে লাশের সারি হয়ে যায় মহিষাকান্দি গ্রামে কিশোরগঞ্জ থেকে এসে বাড়ি ফিরে মনির হোসেন পরিবার

Leave a Comment