Islam

কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায়

Table of Contents
  1. ঈদ পবিত্র সময় হিসেবে জীবনের এক অনন্য উপহার বহন করে
  2. আদমের সন্তানদের মাধ্যমে কোরবানির প্রথম আকার
  3. সার্থকতা ও উৎসর্গের সামগ্রিক উদ্দেশ্য
  4. নিষ্ঠাপূর্ণ আত্মত্যাগের প্রমাণ

ঈদ পবিত্র সময় হিসেবে জীবনের এক অনন্য উপহার বহন করে

ক রব ন র ম ধ যম – ঈদের দিন মানে আনন্দ ও প্রাণীমুক্তি। মুসলিম উম্মাহর জীবনে সেই দিনটি সামান্য আনন্দের বার্তা ছাড়া এক ত্যাগের স্মৃতি তুলে ধরে। কোরবানি একটি আরবি শব্দ যার অর্থ হলো নৈকট্য লাভ, আত্মত্যাগ কিংবা উৎসর্গ করা। শরিয়তের বিধান অনুসারে সামর্থ্যবান ব্যক্তির নির্দিষ্ট সময়ে নির্ধারিত পশু আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য জবাই করাকেই কোরবানি বলা হয়। এ দিনকে বলা হয় ‘ঈদুল আজহা’ যার উৎস হলো মানব ইতিহাসের এক বিশেষ ঘটনা।

আদমের সন্তানদের মাধ্যমে কোরবানির প্রথম আকার

প্রথম কোরবানি হলো হজরত আদম (আ.)-এর দুই সন্তান হাবিল ও কাবিলের মাধ্যমে। তাদের বিয়ে সংক্রান্ত একটি ঘটনার পর হজরত আদম (আ.) তাঁদের উভয়কে আল্লাহর দরবারে উৎসর্গ করতে নির্দেশ দেন। যার ফলে কেবল হাবিলের কোরবানি আল্লাহর নিকট গৃহীত হয়েছিল। পরে এই প্রথার পূর্ণাঙ্গ বিকাশ ঘটে হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর এক অবিস্মরণীয় আত্মত্যাগ বিষয়ে।

ইবরাহিমের পরীক্ষার প্রতিফলন

হজরত ইবরাহিম (আ.) স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে তাঁর একমাত্র প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে আল্লাহর রাস্তায় উৎসর্গ করার পরীক্ষায় অবতীর্ণ হন। আল্লাহ তাআলা তাঁর সেই আত্মত্যাগ মহান কোরবানির বিনিময়ে মুক্ত করেন। এ বিষয়টি প্রজন্মের পর প্রজন্মে স্মরণীয় করেন।

‘মনে রেখো, এ ছিল এক সুস্পষ্ট পরীক্ষা। আমি তাকে মুক্ত করলাম এক মহান কোরবানির বিনিময়ে। পুরো বিষয়টি স্মরণীয় করে রাখলাম প্রজন্মের পর প্রজন্মে। ইবরাহিমের প্রতি সালাম। এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করি।’ (সুরা সাফফাত: ১০৬-১১০)

সার্থকতা ও উৎসর্গের সামগ্রিক উদ্দেশ্য

কোরবানি আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যমে করা হয়। সেই অনুযায়ী মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি প্রতি সম্প্রদায়ের জন্য কোরবানিকে ইবাদতের অংশ করেছি, যাতে জীবনোপকরণ হিসেবে তাদের দেওয়া গবাদিপশু জবাই করার সময় তারা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে। আর সব সময় মনে রাখবে, একমাত্র আল্লাহই তোমাদের উপাস্য। অতএব, তাঁর কাছেই পুরোপুরি সমর্পিত হও।’ (সুরা হজ: ৩৪)

অন্য কিছুতে সম্ভব নয় যে ত্যাগের মাধ্যমে অভাবী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো সম্ভব। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী খাদ্য, বস্ত্র ও কোরবানির মাংস দিয়ে দরিদ্র মানুষকে সাহায্য করা এক মানবিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। পবিত্র কোরআনুল কারিমে বলা হয়েছে, কোরবানি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা হয়। অতএব তাঁর কাছে সমর্পিত হওয়া এক মূল্যবান শিক্ষা দেয়।

নিষ্ঠাপূর্ণ আত্মত্যাগের প্রমাণ

আল্লাহর কাছে পৌঁছায় শুধু সামান্য মাংস ও রক্ত নয়

Leave a Comment