Op Ed

মবের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে

Mind-control
Foto : Mary Taylor - banglajibon.com
Table of Contents
  1. মবের নিয়ন্ত্রণে আইনের শাসন কেন জরুরি
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

মবের নিয়ন্ত্রণে আইনের শাসন কেন জরুরি

Banglajibon.com – মব র ন য়ন ত রণ ক – মব র ন য়ন ত রণ এখন বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিক নিরাপত্তার বড় প্রশ্ন। দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ উঠলেই সংঘবদ্ধ জনতার হামলার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। চুরি, ব্যক্তিগত বিরোধ বা অপরাধের অভিযোগের পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিচয়, ধর্মীয় বিশ্বাস, মতপ্রকাশ, পেশা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডও অনেকের জন্য বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। এটি শুধু আইনশৃঙ্খলার দুর্বলতা নয়, সমাজের নৈতিক ভিত্তির জন্যও গুরুতর সতর্কসংকেত।

গণপিটুনিকে বিচ্ছিন্ন উত্তেজনার ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ ক্রমেই কমছে। যখন কোনো দল মনে করে তদন্ত, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আদালতের প্রয়োজন নেই, তখন তারা নিজেদেরই বিচারক ও শাস্তিদাতা বানিয়ে ফেলে। এতে অপরাধ কমে না; বরং কার অপরাধ কী, সেই সিদ্ধান্ত চলে যায় সবচেয়ে উচ্চকণ্ঠ ও সহিংস গোষ্ঠীর হাতে।

মবের সহিংসতা জনমতের প্রকাশ নয়; এটি আইন ও বিচারব্যবস্থার জায়গা দখলের চেষ্টা।

প্রতিবাদের অধিকার, প্রতিহিংসার নয়

রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, প্রতিবাদ এবং ন্যায়বিচারের দাবি নাগরিকের বৈধ অধিকার। কিন্তু সেই ক্ষোভের নামে হত্যা, বাড়িঘরে হামলা কিংবা মৃতদেহ কবর থেকে তুলে পুড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই ন্যায় প্রতিষ্ঠার পথ নয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরের অস্থিরতায় ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত প্রতিশোধকে স্বাভাবিক করে তোলার প্রবণতা দেখা গেছে।

২০২৪ সালের আগস্টের বিস্ফোরক পরিস্থিতির পটভূমি এক দিনে তৈরি হয়নি। দীর্ঘ রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, ভয়, ক্ষোভ এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অনাস্থা মানুষের আচরণে প্রভাব ফেলেছে। কিন্তু অতীতের অন্যায় নতুন অন্যায়ের অনুমতি হতে পারে না। অন্যায়ের প্রতিকার চাইতে গিয়ে যদি বিচারবহির্ভূত শাস্তিকে গ্রহণযোগ্য করা হয়, তবে সমাজ ন্যায়বিচারের বদলে প্রতিহিংসার চক্রে বন্দী হয়।

তৌহিদি জনতার ব্যানারে মাজার ও খানকায় হামলা এবং ইসলামবিরোধী অপবাদের ভিত্তিতে মানুষকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা সংকটের ভয়াবহতা দেখিয়েছে। অভিযোগ সত্য কি না, তা যাচাইয়ের আগেই জনতা শাস্তি দিলে নিরপরাধ মানুষের জীবনও নিরাপদ থাকে না। গুজব, ধর্মীয় উসকানি ও পরিকল্পিত অপপ্রচারের মুখে সবার আগে ভেঙে পড়ে নাগরিকের নিরাপত্তাবোধ।

রাষ্ট্রের দুর্বলতায় কারা লাভবান হয়

পুলিশ সদস্যদের হত্যা ও ভয়ভীতির কারণে বহু সদস্য কর্মস্থল থেকে সরে গেলে আইন প্রয়োগে বড় শূন্যতা তৈরি হয়। সেই শূন্যতা নিরীহভাবে পূরণ হয় না। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতার সুযোগে এমন ব্যক্তি ও গোষ্ঠী সামনে আসে, যারা জনতার আবেগকে ক্ষমতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। রাষ্ট্র দুর্বল হলে জনগণ শক্তিশালী হয়—এ ধারণা বিভ্রান্তিকর; বাস্তবে শক্তিশালী হয় সংগঠিত সহিংস অংশটি।

চব্বিশের পর বাংলাদেশের পরিস্থিতিতে মব রাজনীতির নতুন রূপ দেখা গেছে। কারও বিরুদ্ধে ‘ধর্মদ্রোহী’ বা ‘দেশদ্রোহী’ তকমা দেওয়ার পর বহু ক্ষেত্রেই যাচাই বা বিচারের অপেক্ষা করা হয়নি। আগে হামলা, পরে কারণ খোঁজার এই মানসিকতা সভ্য রাষ্ট্রের ধারণার সম্পূর্ণ বিরোধী। অভিযোগ যাচাই ও শাস্তি নির্ধারণের দায়িত্ব আদালতের, রাস্তায় জড়ো হওয়া মানুষের নয়।

মব র ন য়ন ত রণ কঠিন হয় যখন হামলাকারীরা শাস্তি এড়িয়ে যেতে পারে। একজন ব্যক্তি একা অপরাধে দ্বিধা করতে পারেন, কিন্তু আগের হামলাকারীদের অনায়াসে পার পেয়ে যেতে দেখলে সেই দ্বিধা দ্রুত কমে যায়। এভাবেই অপরাধের সামাজিক বাধা দুর্বল হয় এবং সহিংসতা ধীরে ধীরে গ্রহণযোগ্য আচরণে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।

পরিসংখ্যানের পেছনে মানুষের জীবন

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মব সহিংসতায় ১২৮ জন নিহত হয়েছেন। ২০২৫ সালে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৯৭-এ দাঁড়ায়। ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ১৩৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ২৫৬ জন। এই হিসাব শুধু সংখ্যা নয়; এটি দেখায় যে সহিংসতা কমার বদলে সামাজিক ও রাজনৈতিক আচরণের অংশ হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

প্রতিটি সংখ্যার পেছনে আছে একটি পরিবার, কর্মজীবন, সামাজিক সম্পর্ক এবং রাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তার দাবি। হামলায় নিহত ব্যক্তি অপরাধী হোক বা নির্দোষ, তাঁর অপরাধ নির্ধারণ ও শাস্তির জন্য বৈধ আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। বিচার ছাড়াই জীবন কেড়ে নেওয়া অপরাধের বিচার নয়; বরং বিচারব্যবস্থাকে অস্বীকার করা।

সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর দায়

৫ আগস্টের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে পুনর্গঠনের সুযোগ ছিল। কিন্তু মব সহিংসতা থামেনি; অনেক ক্ষেত্রে তা বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমান সরকারের তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানও অভিযোগ করেছেন যে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মবকে ব্যাপক প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। আইন প্রয়োগে শিথিলতা বা নীরবতা সহিংস গোষ্ঠীর কাছে উৎসাহ হিসেবে কাজ করে।

রাজনৈতিক দলগুলোরও নীতিগত অবস্থান প্রয়োজন। নিজের সমর্থক আক্রান্ত হলে প্রতিবাদ করা, কিন্তু প্রতিপক্ষের ওপর একই ধরনের হামলায় নীরব থাকা কোনো ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতি নয়। এতে সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে ওঠে না; বরং ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সহিংসতার মালিকানা বদলের আশঙ্কা বাড়ে।

মব র ন য়ন ত রণ তাই কেবল পুলিশের দায়িত্ব নয়। রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, গণমাধ্যম, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃত্ব—সবারই দায়িত্ব গুজব প্রতিরোধ করা, হামলাকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির ন্যায়বিচারের অধিকার নিশ্চিত করা। শিক্ষক, সাংবাদিক, সংখ্যালঘু, সুফি, মুক্তমনা, সংস্কৃতিকর্মী কিংবা ভিন্নমতের নাগরিক—কেউই যেন জনতার রোষের মুখে অসুরক্ষিত না থাকেন।

সাধারণ প্রশ্ন

মব হামলার ঘটনা দেখলে কী করা উচিত?

নিজে ঝুঁকিতে না পড়ে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো উচিত। গুজব ছড়ানো, হামলার ভিডিও উসকানিমূলকভাবে প্রচার করা বা যাচাইহীন অভিযোগ শেয়ার করা থেকে বিরত থাকা জরুরি।

অভিযোগ সত্য হলেও কি জনতা শাস্তি দিতে পারে?

না। অপরাধের অভিযোগ তদন্ত, প্রমাণ ও আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। জনতার হাতে শাস্তি নিরপরাধ মানুষকেও ক্ষতির মুখে ফেলে এবং আইনের শাসনকে দুর্বল করে।

মব সহিংসতা কমাতে সবচেয়ে জরুরি পদক্ষেপ কী?

দ্রুত ও নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগ, হামলাকারীদের বিচার, গুজব প্রতিরোধ এবং রাজনৈতিকভাবে সহিংসতাকে প্রশ্রয় না দেওয়া—এই চারটি পদক্ষেপ জরুরি।

Frequently Asked Questions

What is মব র ন য়ন ত রণ ক?

মব র ন য়ন ত রণ ক is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does মব র ন য়ন ত রণ ক matter?

মব র ন য়ন ত রণ ক matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment