Bangladesh

খুলনা ওয়াসা: দুর্নীতিগ্রস্ত প্রকৌশলীকে ২৬০০ কোটির প্রকল্প

ariful_OkpMq5H
Foto : Jennifer Jones - banglajibon.com
Table of Contents
  1. খুলনা ওয়াসার বড় পানি প্রকল্পের দায়িত্বে বিতর্কিত প্রকৌশলী
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

খুলনা ওয়াসার বড় পানি প্রকল্পের দায়িত্বে বিতর্কিত প্রকৌশলী

Banglajibon.com – খ লন ওয় স – খুলনা ওয়াসার ২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকার পানি সরবরাহ প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জুয়েল। অতীতে ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে শাস্তি পাওয়া, কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিতি ও সহকর্মীদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পরও তাঁর এই দায়িত্ব পাওয়া নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

আরিফুল ইসলাম জুয়েল আগে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। তিনি বিএনপি-সমর্থিত প্রকৌশলীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (অ্যাব) খুলনা জেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি ওয়াসায় গুরুত্বপূর্ণ পদে এসেছেন—এমন অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন মহলে। তবে তিনি এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় একাডেমিক ভবন নির্মাণকাজের তত্ত্বাবধানে ছিলেন আরিফুল ইসলাম জুয়েল। ওই ভবনের নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর ২০১৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ শিক্ষকরা ছিলেন।

তদন্তে ভবনের ছাদের কংক্রিটের পুরুত্বে বড় ধরনের ঘাটতির তথ্য উঠে আসে। নকশা অনুযায়ী ছাদে সাড়ে ৫ ইঞ্চি কংক্রিট থাকার কথা থাকলেও কিছু স্থানে তা ৩ ইঞ্চি এবং কোথাও ৩ দশমিক ৭৫ ইঞ্চি পাওয়া যায়। এ অবস্থাকে স্থাপনার নিরাপত্তা ও শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়।

তদন্ত কমিটি আরও জানতে পারে, ছাদ ঢালাইয়ের সময় বিদেশে অবস্থান করলেও দেশে ফিরে প্রয়োজনীয় যাচাই ছাড়াই নির্মাণকাজের নথিতে অনুপস্থিত সময়ের এমবি স্বাক্ষর করা হয়েছিল। এতে ঠিকাদারের বিল পরিশোধে সহায়তা করা হয় বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় জুয়েলসহ সাতজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

জুয়েলকে নির্বাহী প্রকৌশলীর পদ থেকে সহকারী প্রকৌশলী পদে নামিয়ে দেওয়া হয় এবং চার বছরের জন্য তাঁর পদোন্নতি আটকে রাখা হয়। পরে জুলাই অভ্যুত্থানের পর তিনি ওই শাস্তি প্রত্যাহার করাতে সক্ষম হন বলে জানা যায়। ২০২৫ সালে তাঁকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-প্রধান প্রকৌশলী পদে উন্নীত করা হয়।

ওয়াসায় প্রেষণ ও প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁকে খুলনা ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে প্রেষণে পাঠানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কর্মকর্তাকে অন্য সংস্থায় এভাবে পাঠানোর ঘটনা এটিই প্রথম বলে জানা গেছে। গত ২৮ জুন তিনি ওয়াসায় যোগ দেন।

ওয়াসায় আসার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি ২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকার পানি সরবরাহ প্রকল্পের ফেজ-২-এর পরিচালকের দায়িত্ব নেন। প্রকল্পটির দায়িত্ব আগে রুটিনভাবে পালন করছিলেন নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল ইসলাম। গত ২৬ এপ্রিল তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে ২৯ জুলাই ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফিরোজ শাহকে প্রকল্প পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এখন সেই দায়িত্ব জুয়েলের হাতে গেছে।

ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফিরোজ শাহ বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন,

পিডি নিয়োগ মন্ত্রণালয়ের বিষয়। এখানে আমার কিছু বলার নেই।

বৃহৎ পানি সরবরাহ প্রকল্পের সঙ্গে নগরবাসীর দৈনন্দিন সেবা সরাসরি যুক্ত। প্রকল্পের কাজ, ব্যয় ব্যবস্থাপনা, সময়মতো বাস্তবায়ন ও মান নিয়ন্ত্রণে পরিচালকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এ পদে নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে প্রকল্পের জবাবদিহি ও জনআস্থার বিষয়টিও সামনে আসে।

রাজনৈতিক প্রভাব ও তদবিরের অভিযোগ

জুলাই অভ্যুত্থানের পর বিএনপি ও অ্যাবের কিছু সাবেক কেন্দ্রীয় নেতার প্রভাব কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে জুয়েল প্রভাব বিস্তার শুরু করেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানে বদলি, পদায়ন ও নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর হস্তক্ষেপের কথাও বলা হয়েছে।

এ নিয়ে ২০২৫ সালে অ্যাব সভাপতি ও আইইবির চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলামকে চিঠি দেন খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এস এম শফিকুল আলম মনা এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন। চিঠিতে তাঁদের অভিযোগ ছিল, দলের পরিচয় ব্যবহার করে জুয়েল কুয়েটসহ নানা প্রকৌশল দপ্তরে হুমকি দিচ্ছেন, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অযাচিতভাবে জড়াচ্ছেন এবং আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে তদবিরের কথা বলছেন।

গত ৭-৮ মাস ধরে একের পর এক অভিযোগ আসছে, দলের পদ ব্যবহার করে আরিফুল ইসলাম জুয়েল কুয়েটসহ বিভিন্ন প্রকৌশল দপ্তরে গিয়ে হুমকিধমকি, নিয়োগ পদোন্নতিতে অযাচিত হস্তক্ষেপ করছেন। বিভিন্ন অফিসে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে কাজ করে দেবেন বলে তদবির করছেন। এতে দলের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

চিঠি দেওয়ার পরও তাঁর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বরং তিনি ওয়াসার বড় প্রকল্পের দায়িত্বে আসেন।

হাজিরা ও আচরণ নিয়ে পুরোনো প্রশ্ন

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় সহকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং নিয়মিত সময়ে কর্মস্থলে না আসার অভিযোগে তাঁকে একাধিকবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন সময়ে তিনি শোকজ নোটিশ পেয়েছেন বলেও জানা যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থার ফিঙ্গারপ্রিন্ট রেকর্ডে দেখা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে পরের বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৫৪ কর্মদিবসের প্রতিদিনই তিনি দেরিতে অফিসে উপস্থিত হন। ওই সময় তাঁর গড় কর্মঘণ্টা ছিল প্রতিদিন ২ দশমিক ৮৬ ঘণ্টা। এ বিষয়ে গত ৪ মার্চ তাঁকে আবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

ওয়াসায় যোগ দেওয়ার পরও তিনি নিয়মিত কার্যালয়ে যান না এবং উপব্যবস্থাপনা পরিচালকের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেন না বলে অভিযোগ আছে। দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ও কাজের তদারকি বিশেষত এত বড় প্রকল্পে সেবার মানের সঙ্গে সম্পর্কিত—এ কারণে বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

জুয়েলের বক্তব্য ও নাগরিকদের উদ্বেগ

আরিফুল ইসলাম জুয়েল তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, অতীতের অভিযোগ ও শাস্তি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে দেওয়া হয়েছিল।

রাজনৈতিকভাবে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা ও শাস্তি দেওয়া হয়। অভ্যুত্থানের পর সেই শাস্তি প্রত্যাহার ও আমাকে পদোন্নতি দিয়ে ত্যাগের মূল্যায়ন করা হয়েছে।

খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব আইনজীবী বাবুল হাওলাদার বলেছেন, সুপেয় পানি সরবরাহে ব্যর্থতা, বিল নিয়ে ভোগান্তি এবং সড়ক খোঁড়াখুঁড়িসহ নানা কারণে ওয়াসার সেবা নিয়ে নগরবাসীর অসন্তোষ রয়েছে। তাঁর মতে, সংস্থাটিকে কার্যকর করতে সততা ও দক্ষতার ভিত্তিতে কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া জরুরি।

খুলনা নগরবাসীর জন্য পানি সরবরাহ প্রকল্পটি শুধু অবকাঠামোগত বিনিয়োগ নয়; এটি নিরাপদ পানি, সেবা ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি নাগরিক সুবিধার সঙ্গে যুক্ত। তাই প্রকল্প পরিচালনা, আর্থিক স্বচ্ছতা ও কাজের মান নিয়ে নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

Frequently Asked Questions

What is খ লন ওয় স?

খ লন ওয় স is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does খ লন ওয় স matter?

খ লন ওয় স matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment