Health

সরকারি হাসপাতালের খাবার: মুখে রোচে না, মানেও প্রশ্ন

khrisna-edit-1788552842-919c2a2a65
Foto : Jennifer Jones - banglajibon.com
Table of Contents
  1. সরকারি হাসপাতালের রোগী-খাদ্য: কাগজে-কলমে পুষ্টি, প্লেটে হতাশা
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

সরকারি হাসপাতালের রোগী-খাদ্য: কাগজে-কলমে পুষ্টি, প্লেটে হতাশা

Banglajibon.com – সরক র হ সপ ত ল র – একজন রোগীর দিনের খাবারের হিসাব শুরু হয় একটা সংখ্যা দিয়ে—২০২২ সালের ১০ অক্টোবর থেকে প্রতি রোগীর দৈনিক খাদ্যবরাদ্দ ১৭৫ টাকা। পনেরো শতাংশ ভ্যাট বাদ দিলে কার্যকর পরিমাণ হয় ১৪৮ টাকা ৭৫ পয়সা। এই অঙ্কের মধ্যেই তিনবেলার খাবার, রান্নার খরচ, পরিবহন—সবকিছুর ব্যবস্থা করতে হয়। সংখ্যাটা শুনে মনে হয়, একজন মানুষের পুষ্টি-নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু রাজধানীর বিশেষায়িত হাসপাতালের ওয়ার্ডে ঢুকে দেখলেই বোঝা যায়, কাগজের অঙ্ক আর রোগীর প্লেটের বাস্তবের মধ্যে একটা বিশাল ফাটল।

ওয়ার্ডের ভেতরের অভিজ্ঞতা

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের ১০৪ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি একজন রোগী—ছদ্মনামে হনুফা আক্তার—যকৃতের জটিলতায় এক মাসের বেশি ধরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকায় এসেছেন, রাজধানীতে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনের কোনো উপস্থিতি নেই। ফলে হাসপাতালের রান্নাঘরের ওপরই তাঁর পুরো নির্ভরতা। সকালে তিন পিস রুটি, একটা কলা, একটা ডিম। বিকেলে চার পিস বিস্কুটের এক প্যাকেট। দুপুরে ভাত-ডাল-সবজি-মাংস, রাতে ভাত-মাছ-ডাল। তালিকা দেখলে কোনো ঘাটতি নেই।

মাংসের তরকারিতে স্বাদ নেই। ডাল যেন হলুদ গোলা পানি—তাতে ডালের দানা খুঁজে পাওয়া কঠিন। লাউ, পেঁপে কিংবা আলুর সবজিও বিস্বাদ।

এই অভিজ্ঞতা একা হনুফার নয়। ওয়ার্ডের অন্যান্য রোগীদের মধ্যেও একই কথা শোনা যায়। কখনো কখনো শহরে থাকা গুটিকতক স্বজন বাইরে থেকে খাবার কিনে আনতে বাধ্য হয়। লম্বা সময়ের চিকিৎসা এই বাহ্যিক খরচকে বাড়িয়ে দেয়, যা সীমিত আয়ের পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে।

জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সার্জিক্যাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের 703 নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি আকবর হোসেন (ছদ্মনাম, চুয়াডাঙ্গার বাসিন্দা) পিত্তথলির অস্ত্রোপচারের জন্য ভর্তি। তাঁর সকালের প্লেটে ছয় পিস রুটি, একটা ডিম, একটা কলা। দুপুরে ভাত, লাউ-আলুর সবজি, ডাল, মুরগি; রাতে ভাত, ডাল, রুই মাছ। পদের সংখ্যায় কোনো ঘাটতি নেই—সমস্যা একটাই: খাবার নিতান্ত স্বাদহীন।

একজন রোগীর এ খাবার খেয়ে সহজে সুস্থ হওয়ার কথা নয়।

বরাদ্দের ইতিহাস ও বাস্তবতায় ফাটল

রোগী-খাদ্যের দৈনিক বরাদ্দ এক দশকে ধাপে ধাপে বেড়েছে। ২০০৯ সালে তা ছিল ৪৫ থেকে ৭৫ টাকার মধ্যে। ২০১৩ সালে ওঠে ১২৫ টাকা। তার প্রায় এক দশক পর, ২০২২ সালের ১০ অক্টোবর থেকে বরাদ্দ হয় ১৭৫ টাকা। সংখ্যা বেড়েছে, কিন্তু রোগীদের অভিযোগ অপরিবর্তিত—নির্ধারিত পরিমাণের তুলনায় কম ও স্বাদহীন খাবার পৌঁছে যাচ্ছে প্লেটে।

২০১৩ সালের ‘ডায়েট স্কেলে’ সরকারি হাসপাতালের সাধারণ রোগীর জন্য সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারিত ছিল। সকালের নাশতায় ১৫০ গ্রাম পাউরুটি, চার ইঞ্চির একটি কলা, ২০ গ্রাম চিনি ও একটি সেদ্ধ ডিম। দুপুর ও রাতে এক কেজি ওজনের রুই বা কাতলা মাছের ১৪০ গ্রামের একটি টুকরা অথবা ৩৪০ গ্রাম মুরগির মাংস, সাথে ৩৪০ গ্রাম ভাত, ৪০ গ্রাম মসুর ডাল ও ৪০০ গ্রাম সবজি। এই কাগজি নির্দেশনা বাস্তবে কতটা পালিত হচ্ছে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন উঠে আসছে।

নির্বাচন-প্রক্রিয়া ও অঞ্চলভেদে পার্থক্য

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী হাসপাতালগুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় রোগীদের খাবারের ব্যবস্থা করে। প্রতিবছর দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে খাদ্যসরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হয়। অঞ্চলভেদে চাল, মাছ ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যের দামে পার্থক্য থাকায় দরপত্রের মূল্য সারা দেশে এক নয়।

পর্যায়ে ভেদাভেদও আছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে হাসপাতালে শয্যার বিপরীতে রোগীর পথ্য বরাদ্দ থাকে। টারশিয়ারি বা বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি রোগীর বিপরীতে পথ্য দেওয়া হয়। ফলে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে নির্ধারিত শয্যার বাইরে ভর্তি রোগীদের খাবারের জন্য কোনো সরকারি বরাদ্দ থাকে না।

পুষ্টিবিদের দৃষ্টি ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট

দেশের পুষ্টিবিদদের মতে, হাসপাতালের পথ্য শুধু খিদে মেটানোর জন্য নয়—রোগীর সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ। রোগীর বয়স, রোগের ধরন ও শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী খাবারের ধরন ও পরিমাণ নির্ধারণ করা জরুরি। প্রয়োজনীয় ক্যালরি, প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ ও তরল নিশ্চিত করতে হবে। খাবার হতে হবে নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও সহজপাচ্য। রোগভেদে খাদ্যতালিকাও পরিবর্তন প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় নেতৃত্বদানকারী প্রতিষ্ঠান জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালুর স্কুল অব মেডিসিনের মতে, রোগীর চিকিৎসার পাশাপাশি পুষ্টির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। রোগীর শারীরিক অবস্থা ও স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন অনুযায়ী পুষ্টিবিদের পরামর্শে খাদ্যতালিকা তৈরি করা প্রয়োজন।

শয্যা-অতিরিক্ত চাপ: চট্টগ্রামের উদাহরণ

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সরকারি হাসপাতাল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২ হাজার ২০০ শয্যার বিপরীতে রোগী ভর্তির হার ১৫০ শতাংশের বেশি। গত বছরজুড়ে এখানে ভর্তি হয়েছে মোট তিন লাখের বেশি রোগী। এই পরিস্থিতিতে খাদ্য-সরবরাহের চাপ আরও তীব্র হয়।

টেন্ডারের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান খাদ্যের উপকরণগুলো সরবরাহ করে। হাসপাতালের কর্মীরা সেগুলো রান্না ও বিতরণ করেন। ডায়েট চার্ট অনুযায়ী খাবারের পরিমাণ ও মান যাচাই করা হয়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন রোগীদের খাদ্যের বিষয়ে এই কথা বলেন। তবে প্রশ্নটা এই নয় যে রান্নাঘরে কে কাজ করছে বা উপকরণ কোথা থেকে আসছে—প্রশ্নটা এই যে, রোগীর প্লেটে পৌঁছানো খাবার কি সত্যিই সেই ডায়েট স্কেলের পরি

Frequently Asked Questions

What is সরক র হ সপ ত ল র?

সরক র হ সপ ত ল র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does সরক র হ সপ ত ল র matter?

সরক র হ সপ ত ল র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment