Bangladesh

৯২ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেই কোনো চিকিৎসক

khrisna-edit-1788564195-5af6c5203b
Foto : Richard Smith - banglajibon.com
Table of Contents
  1. প্রত্যন্ত গ্রামে স্বাস্থ্যসেবার দরজা বন্ধ: চাঁদপুরের ৯২ কেন্দ্রে চিকিৎসকের অনুপস্থিতি
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

প্রত্যন্ত গ্রামে স্বাস্থ্যসেবার দরজা বন্ধ: চাঁদপুরের ৯২ কেন্দ্রে চিকিৎসকের অনুপস্থিতি

Banglajibon.com – ৯২ স ব স থ যক ন – সামান্য জ্বরেও উপজেলা বা জেলা সদরের দিকে পা বাড়ানোর বাধ্যবাধকতা এখন চাঁদপুরের প্রত্যন্ত গ্রামবাসীর দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা। আট উপজেলার ৯২টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র — যেসব প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা, মাতৃস্বাস্থ্য, পরিবারপরিকল্পনা এবং সাধারণ রোগের সেবা পৌঁছে দেওয়া — সেসব কেন্দ্রের কাউন্টারে বসে আছেন না একজনও এমবিবিএস চিকিৎসক। কাগজে বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে তাঁরা অন্য প্রতিষ্ঠানে সংযুক্তিতে নিয়োজিত। ফলে গ্রামের রোগী প্রাথমিক সেবা পেতেও কিলোমিটার পর কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে বাধ্যত হয়েছেন।

কাগজে বরাদ্দ, বাস্তবে শূন্য আসন

স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী চাঁদপুর জেলায় ইউনিয়ন পর্যায়ে মোট ৯২টি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ২০টি ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ৭২টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে এমবিবিএস ডাক্তার বরাদ্দ দেওয়ার নীতি আছে। কিন্তু সেই বরাদ্দপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে সংযুক্তিতে দায়িত্ব পালন করছেন। ইউনিয়ন পর্যায়ে তাঁদের নিয়মিত উপস্থিতি প্রায় শূন্য।

এই অবস্থার প্রভাব সবচেয়ে তীব্রভাবে অনুভব করেন যারা দরিদ্র, যাদের কাছে সদরে যাওয়ার খরচ নেই। বাগাদী ইউনিয়নের সোবহানপুর গ্রামের সুমাইয়া আক্তারের কথা শুনলে সেই তীব্রতা স্পষ্ট হয়।

ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকলেও সেখানে এমবিবিএস চিকিৎসক নেই। চিকিৎসার জন্য যেতে হয় জেলা সদরে। দেড় বছরের সন্তানকে নিয়ে সদর হাসপাতালে যাওয়া আমার জন্য কষ্টকর।

সম্প্রতি ওই কেন্দ্রে রোগীর উপস্থিতি অত্যন্ত কম দেখা গেছে। কয়েকজন রোগী জানান, সাধারণ জ্বর বা সর্দি-কাশির মতো ক্ষুদ্র রোগের ওষুধও অনেক সময় পাওয়া যায় না। ফলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ছাড়াই ফিরতে হয়। বাইরে থেকে ওষুধ কেনার সামর্থ্য অনেক পরিবারের নেই — এই বাস্তবতাই কেন্দ্রের ফাঁকা চেয়ারের পেছনের আসল কারণ।

জনবলসংকটের সংখ্যা

চিকিৎসকের অনুপস্থিতির পাশাপাশি অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের পদও ব্যাপকভাবে শূন্য। উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের ৫৩টি পদের মধ্যে কর্মরত মাত্র ১৪ জন; ৩৯টি পদ খালি। পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকার ১৪২ পদের মধ্যে ৫৯ জন বসে আছেন, ৮৩টি পদ পূরণহীন। পরিবারপরিকল্পনা পরিদর্শকের ৯১ পদের বিপরীতে ৮২ জন কর্মরত, ৯টি পদ শূন্য। আর পরিবারকল্যাণ সহকারীর ৫১৩ পদের মধ্যে ৩৩৭ জন নিয়োজিত; ১৭৬টি পদ এখনো খালি।

বালিশা ইউনিয়ন পরিষদের পাশে অবস্থিত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের অবস্থা এই সংখ্যার বাস্তব প্রতিফলন। স্থানীয় শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেনের বর্ণনা অনুযায়ী কেন্দ্রটি এখন প্রায় ভূতুড়ে পরিণত হয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটির ভূতুড়ে অবস্থা। চিকিৎসক নেই, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীও নেই। একসময় অধিকাংশ মানুষ এখানে এসে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিতেন। এখন মাত্র একজন স্বাস্থ্য সহকারী বসেন।

বালিশা ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান, চিকিৎসক না থাকলে কেন্দ্র থাকা-না-থাকা একই কথা। তাঁদের দাবি — গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো দ্রুত পূরণ করে কেন্দ্রগুলো সচল করা হোক।

ওষুধের অভাব: দ্বিতীয় বাধা

সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নীতিমালা অনুযায়ী দরিদ্র রোগী বিনা মূল্যে বা স্বল্পমূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ পেতে পারেন। কিন্তু পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় অনেককে বাইরের ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে হয় — যা আর্থিকভাবে সম্ভব নয়। সিভিল সার্জন স্বীকার করেছেন বর্তমানে কিছুটা ওষুধ সংকট চলছে, তবে দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের অবস্থান

চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নুর আলম দীন ব্যাখ্যা করেন, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র এবং উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সংযুক্তিতে রাখা হয়েছে। এই কারণে তাঁরা ইউনিয়ন পর্যায়ে নিয়মিত সেবা দিতে পারছেন না।

সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে যথাযথ সংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হলে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের নিজ নিজ কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের সুযোগ তৈরি হবে।

চাঁদপুর পরিবারপরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক মো. মোস্তফা কামাল জানান, জনবলসংকটের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আছে। শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য সরকার ইতিমধ্যে নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু করেছে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সংকটের তীব্রতা অনেকটা কমে যাবে বলে তাঁর দাবি।

প্রভাব ও সামনের পথ

গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার এই ফাঁক শুধু একটা প্রশাসনিক ত্রুটি নয় — এটি মানে, একজন মা তার দুই বছরের শিশুকে নিয়ে জেলা সদরের দিকে পা বাড়ানোর বাধ্যবাধকতায় পড়ে। মাতৃস্বাস্থ্য সেবা, টিকাদান, পরিবারপরিকল্পনা — এইসব প্রাথমিক সেবা যখন দোরগোড়ায় পৌঁছায় না, তখন প্রত্যন্ত অঞ্চলের সর্বনিম্ন স্বাস্থ্যসুরক্ষারও ঝুঁকি বাড়ে। চাঁদপুরের ৯২টি কেন্দ্রের কাউন্টারে চিকিৎসকের আসন পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই ঝুঁকি চলবে। কর্তৃপক্ষের ঘোষিত নিয়োগসময়সীমা বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হয়, তাই এখন গ্রামবাসীর সবচেয়ে জরুরি প্রশ্ন।

Frequently Asked Questions

What is ৯২ স ব স থ যক ন?

৯২ স ব স থ যক ন is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ৯২ স ব স থ যক ন matter?

৯২ স ব স থ যক ন matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment