Bangladesh

১২ ঘণ্টার অপেক্ষায় পাওয়া গ্যাসে চলে ৫ ঘণ্টা

drgh-sr-cttgrm
Foto : Mary Taylor - banglajibon.com
Table of Contents
  1. ১২ ঘণ্টার অপেক্ষায় ধরাশায়ী চট্টগ্রামের সিএনজিচালক
  2. এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটি ও গ্যাস-সংকটের মূল কারণ
  3. প্রায়শ্নোত্তর
  4. Related Reading
  5. Frequently Asked Questions

১২ ঘণ্টার অপেক্ষায় ধরাশায়ী চট্টগ্রামের সিএনজিচালক

Banglajibon.com – ১২ ঘণ ট র অপ ক ষ – রাত সাড়ে ১১টা। কর্ণফুলীর মইজ্জ্যারটেক এলাকায় সারি সারি সিএনজিচালিত অটোরিকশা দাঁড়িয়ে আছে গ্যাসপাম্পের সামনে। কেউ গাড়ির পাশে বসে ক্লান্ত চোখ বুজে আছেন, কেউ সিটে হেলান দিয়ে ঘুমাচ্ছেন। তাঁদের একমাত্র প্রশ্ন — কখন গ্যাস পাবেন, কখন রাস্তায় ফিরবেন। এই দৃশ্য গত রোববার চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এলাকার পাশাপাশি চারটি ফিলিং স্টেশনে দেখা গেছে: রহমান সিএনজি রিফুয়েল স্টেশন, হজরত তাজিব শাহ সিএনজি লিমিটেড, জিলানি সিএনজি ফিলিং স্টেশন এবং কর্ণফুলী সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশন। প্রতিটি স্টেশনে গ্যাসের জন্য গাড়ির সারি কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত।

চালকের মুখে জীবিকার টান

মইজ্জ্যারটেকে হজরত তাজিব শাহ সিএনজির সামনে দাঁড়িয়ে মুফিজুর রহমান নামে এক চালক বলছিলেন, গত ১৫ দিন ধরে এই চিত্র চলছে। কখনো ১০ ঘণ্টা, কখনো ১২ ঘণ্টার অপেক্ষা করে গ্যাস পাওয়া যায়। দিনে গাড়ি চালাতে গিয়ে রাতে গ্যাসের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। কখনো ভোররাতে, কখনো সকালে বাসায় ফেরা সম্ভব। ঘুমাতে চেষ্টা করে আবার গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়া — এই চক্রই তাঁর দৈনন্দিন জীবন হয়ে গেছে।

«গত ১৫ দিনে বেশিরভাগ রাতেই বাসায় যেতে পারিনি। কত ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করে আবার গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ি।» — মুফিজুর রহমান, সিএনজিচালক

একই স্টেশন থেকে গ্যাস নিয়ে বের হওয়ার সময় মো. মিনহাজ উদ্দিন বলছিলেন, প্রতিদিন গাড়ির মালিককে ১ হাজার টাকা জমা দিতে হয়। গ্যাসসহ খাবারের খরচ প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা। অথচ দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে আগের মতো আয় করা সম্ভব নয়। ধার-দেনায় সংসার চলছে, এই মাসেও ধার করতে হবে। পরিবারের না খাওয়া রাখার প্রশ্ন তাঁর মুখেই ফিরে আসে।

এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটি ও গ্যাস-সংকটের মূল কারণ

গ্যাস-সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের গণপরিবহনে। উবার, পাঠাও ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার উপস্থিতি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কমে গেছে। ফলে অফিসগামী সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। অন্যদিকে পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপচয়ের অজুহাতে চালকেরা যাত্রীদের কাছ থেকে স্বাভাবিকের তিন গুণ ভাড়া আদায় করছেন।

এই সংকটের শিকড় মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের সরবরাহে একের পর এক সমস্যা। এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের একটি বালস্টার গত ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে সীমিত সরবরাহ শুরু হলেও শুক্রবার কারিগরি ত্রুটির কারণে আবার বন্ধ হয়ে যায়। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সামিট টার্মিনালে সম্মত এলএনজি কার্গো যুক্ত করা যায়নি, ফলে মজুত কমে গিয়ে একপর্যায়ে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। গত শনিবার সামিট থেকে সরবরাহ বাধলেও এক্সিলারেট পুরোপুরি চালু না হওয়ায় সংকট রয়ে গেছে।

কর্ণফুলীর বন উঠান ফোর স্টার সিএনজি রি-ফুয়েলিং স্টেশন (ইউনিট-২)-এর দায়িত্বরত ম্যানেজার আবু তাহের জানিয়েছেন, শনিবার রাত ৯টা থেকে রোববার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গ্যাস দেওয়া হবে, মাঝখানে পাঁচ ঘণ্টা সরবরাহ নেওয়ার জন্য বন্ধ রাখা হবে। তিনি বলছেন, এটি জাতীয় সংকট এবং আশা করা হচ্ছে স্বাভাবিক হবে। কর্ণফুলীর পাঁচটি পাম্পের মধ্যে এই স্টেশনটিই রাত ৯টা থেকে পরদিন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গ্যাস দিচ্ছে।

প্রায়শ্নোত্তর

১২ ঘণ্টার অপেক্ষার পর গ্যাস পেলেও কি চালকের আয় আগের মতো হয়? না। ইমু খান নামে এক চালক জানান, ১২ ঘণ্টার অপেক্ষার পর মাত্র ২১৬ টাকার গ্যাস পেয়েছেন। আগে ৩২০ টাকার গ্যাস নিলে সারাদিন গাড়ি চালাতে পারতেন; এখন সেই পরিমাণও পাওয়া যায় না এবং যা পাওয়া যায় তা ৫ ঘণ্টার মধ্যে শেষ হয়ে যায়।

গ্যাস-সংকট কবে পর্যন্ত চলবে? সংশ্লিষ্টদের আশা, এক্সিলারেট টার্মিনালের মেরামত শেষ হলে সরবরাহ বাড়বে। তবে তার আগ পর্যন্ত গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হওয়ার নিশ্চয়তা নেই।

সাধারণ যাত্রী কীভাবে ভোগান্তি কমাতে পারেন? দক্ষিণ চট্টগ্রামে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কমে গেছে। যাত্রীদের বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা ব্যবহার বা ভাড়া-মূল্যের তুলনা করে যাতায়াত পরিকল্পনা করা উচিত।

Frequently Asked Questions

What is ১২ ঘণ ট র অপ ক ষ?

১২ ঘণ ট র অপ ক ষ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ১২ ঘণ ট র অপ ক ষ matter?

১২ ঘণ ট র অপ ক ষ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment