Business

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে অবনতি: অর্ধেকে বুড়িমারী স্থলবন্দরের বাণিজ্য

burimari-ajker-patrika
Foto : Susan Hernandez - banglajibon.com
Table of Contents
  1. চ্যাংরাবান্দা-বুড়িমারী করিডোরে বাণিজ্যের নতুন বাধা: রাজনৈতিক টানাপোড়ে স্থলবন্দরের সংকট
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

চ্যাংরাবান্দা-বুড়িমারী করিডোরে বাণিজ্যের নতুন বাধা: রাজনৈতিক টানাপোড়ে স্থলবন্দরের সংকট

Banglajibon.com – ব ল দ শ ভ রত সম – ২০২৫ সালের ১৭ মে ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে কার্যরত ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি) এক নতুন বিধিনিষেধ ঘোষণা করে। বাংলাদেশি তৈরি পোশাক, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য, ফল ও কার্বনেটেড পানীয়, তুলা-বর্জ্য, প্লাস্টিক-পিভিসি সামগ্রী এবং কাঠের আসবাব — এই শ্রেণির পণ্য আমদানিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়। ফলে পশ্চিমবঙ্গের চ্যাংরাবান্দা স্থলবন্দর দিয়ে এসব পণ্যের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়, আর বুড়িমারী থেকে রপ্তানিও আঘাতপ্রাপ্ত।

এই নতুন বাধার পেছনে রয়েছে দুটি দেশের রাজনৈতিক-কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি। স্থলবন্দরভিত্তিক আমদানিতে শর্ত আরোপ, পারমিশনের অনিশ্চয়তা এবং ট্রানজিট রুটে বাধার সম্মিলিত প্রভাব লালমনিরহাটের পাটগ্রামে অবস্থিত বুড়িমারী স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে গভীর ধাক্কা দিয়েছে। সরকারের রাজস্ব আয়ের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় কর্মসংস্থান ও আয়রোজগারেও টান পড়েছে।

বুড়িমারী: ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা

১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ-ভুটান ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্টের আওতায় ভারতের ট্রানজিট রুট ব্যবহার করে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে এই স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ২০০২ সালের ১২ জানুয়ারি এটি পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দরে রূপান্তরিত করা হয়। মোট ১১ দশমিক ১৫ একর জমিতে নির্মিত এই বন্দর থেকে ভুটান, ভারত ও নেপালের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

গত কয়েক বছর ধরে এই স্টেশন দিয়ে বিভিন্ন পণ্যের পাশাপাশি পাথরই সর্বাধিক আমদানির আইটেমে পরিণত হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ২৪ লাখ ৪২ হাজার ৯৯৯ টন পণ্য আমদানির মধ্যে পাথরের ভর ছিল ২২ লাখ ৩০ হাজার ৬২৯ টন — অর্থাৎ প্রায় ৯১ দশমিক ৩১ শতাংশ। পরবর্তী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট আমদানি বেড়ে ২৬ লাখ ৮১ হাজার ১০৯ টনে দাঁড়ায়, যার মধ্যে পাথর ছিল ২৪ লাখ ৩৬ হাজার ৫৯৪ টন (৯০ দশমিক ৮৮ শতাংশ)।

এই একই সময়ে ভারত থেকে কৃষি ও শিল্পপণ্যের আমদানিও সীমিত পরিসরে কমেছে। নদীর পাথর, চুনাপাথরের বোল্ডার ও টুকরা, ভাঙা পাথর, জিপসাম পাউডার, ডলোমাইটের টুকরা, বড় এলাচ, ফেস ভিনিগার, এমএস ব্লেড, সংরক্ষিত ফল, বাদাম, ভোজ্য উদ্ভিজ্জাংশ এবং কুইকলাইম — এসব পণ্যের প্রবাহেও নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে।

রপ্তানিতে তীব্র পতন

ডিজিএফটির বিধিনিষেধের সরাসরি ফল হিসেবে বুড়িমারী থেকে ভারতে রপ্তানির পরিসংখ্যান উদ্বেগজনকভাবে কমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে মোট ২ লাখ ১ হাজার ৭৩৫ টন পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। মাত্র এক বছরের মধ্যেই, অর্থাৎ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে, সংখ্যাটি নেমে আসে ১ লাখ ৩৬ হাজার ১৬৫ টনে। এক বছরে রপ্তানি কমেছে ৬৫ হাজার ৫৭০ টন — প্রায় ৩২ দশমিক ৫ শতাংশের পতন।

রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রায় সাত বছরের ঘাটতি

উচ্চ শুল্কের ১৩টি পণ্যের আমদানি নিষেধাজ্ঞা এবং পাথরনির্ভর বাণিজ্যের কারণে স্থলবন্দরের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ প্রায় থমকে গেছে। ফলে এনবিআরের নির্ধারিত রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা গত সাত অর্থবছরে একবারও অর্জিত হয়নি।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৪৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র ৮৭ কোটি ৮ লাখ ৪৮ হাজার টাকা; ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬০ কোটি ৮০ লাখ ৫২ হাজার টাকায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১২৪ কোটি ১১ লাখ ৩ হাজার টাকা, আদায় হয়েছে ৯০ কোটি ৬৬ লাখ ৮৩ হাজার টাকা; ঘাটতি ৩৩ কোটি ৪৪ লাখ ২০ হাজার টাকা।

উল্লিখিত ১৩টি নিষিদ্ধ আমদানি পণ্যের তালিকায় রয়েছে: সুতা, ডুপ্লেক্স বোর্ড, নিউজপ্রিন্ট, ক্রাফট পেপারসহ সব প্রকার পেপার ও পেপার বোর্ড, গুঁড়া দুধ, টোব্যাকো (প্রতিষ্ঠিত মূসক নিবন্ধিত বিড়ি উৎপাদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান কর্তৃক কাঁচামাল হিসেবে আমদানির তামাক ডাঁটা বাদে), রেডিও-টিভি পার্টস, সাইকেল পার্টস, ফরমিকা শিট, সিরামিকওয়্যার, স্যানিটারিওয়্যার, স্টেইনলেস স্টিলওয়্যার, মার্বেল স্লাব অ্যান্ড টাইলস এবং মিক্সড ফেব্রিকস।

সুবিধাজনক পক্ষের অভিজ্ঞতা

Frequently Asked Questions

What is ব ল দ শ ভ রত সম?

ব ল দ শ ভ রত সম is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ব ল দ শ ভ রত সম matter?

ব ল দ শ ভ রত সম matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment