National

সিপিডির সংলাপ: বিদ্যুৎকেন্দ্র পাচ্ছে ২৯% গ্যাস ৩৮% পাচ্ছে সার কারখানা

cdp
Foto : Jennifer Jones - banglajibon.com
Table of Contents
  1. জ্বালানি সংকটে দেশের অর্থনীতি: সিপিডির বিশ্লেষণ
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

জ্বালানি সংকটে দেশের অর্থনীতি: সিপিডির বিশ্লেষণ

Banglajibon.com – স প ড র স ল প – বাংলাদেশের অর্থনীতিতে জ্বালানি সংকটের প্রভাব দিন দিন বাড়ছে। প্রাকৃতিক গ্যাসের অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সার কারখানা দুটোই চরম সমস্যার মুখে পড়েছে। বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তাদের প্রয়োজনের মাত্র ২৯ ভাগ গ্যাস পাচ্ছে। একই সাথে সার উৎপাদনকারী কারখানাগুলো ৩৮ ভাগ গ্যাসের সরবরাহ পেয়েছে। এই ঘাটতির কারণে সারা দেশে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পাশাপাশি কৃষি খাতেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টার ইনে গত বৃহস্পতিবার সিপিডি আয়োজিত একটি সংলাপে এই পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। সংলাপের বিষয় ছিল ‘বাংলাদেশের জ্বালানিসংকট মোকাবিলা: তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার এবং টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের পথ’। এই অনুষ্ঠানে সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী ফখরুদ্দিন আল কবীর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

গ্যাস উৎপাদন কমে, এলএনজি আমদানি ব্যাহত

সিপিডির তথ্য অনুযায়ী, দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে উৎপাদন কমে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে পর্যাপ্ত এলএনজি আমদানি করা যাচ্ছে না। ফলে দৈনিক গ্যাসের ঘাটতি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছেছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র এই সমস্যায় আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে।

সার কারখানাগুলোর সরবরাহ কমে যাওয়ার ফলে ইউরিয়া সারের দেশীয় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে আগামী কৃষি মৌসুমে সারের ঘাটতি এবং অতিরিক্ত আমদানিনির্ভরতার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও আর্থিক চাপ

জ্বালানি খাতের এই সমস্যার পেছনে বৈশ্বিক ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির বড় ভূমিকা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে। ফলে কাতার থেকে নির্ধারিত চুক্তিভিত্তিক এলএনজি সরবরাহ প্রায় অর্ধেক কমে গেছে। এই ঘাটতি মেটাতে পেট্রোবাংলাকে খোলাবাজার বা স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে হচ্ছে।

স্পট মার্কেটে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ১০ ডলার থেকে লাফিয়ে ১৬-১৭ ডলারে পৌঁছেছে। সিপিডির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এলএনজি খাতে সরকারের বাজেটে বরাদ্দ ছিল ৬ হাজার কোটি টাকা। উচ্চমূল্যে এলএনজি ক্রয়ের কারণে পেট্রোবাংলার এলএনজি ভর্তুকি বিল প্রায় তিন গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকায়।

মন্ত্রীর বক্তব্য ও সমাধানের পথ

অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বর্তমান পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ মেরামতে যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুরের প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। এফএসআরইউ মেরামত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো গতি নেই।

এখন শুধু আমাকে দিন গোনা ছাড়া; আর ওই যে ইঞ্জিনিয়াররা কাজ করছেন এফএসআরইউতে, এটা করা ছাড়া আমার কিছু নাই। আর কিছু ম্যানেজমেন্ট করা, যাতে কম লোডশেডিং হয়।

মন্ত্রী আরও বলেন, ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার কারণে চলমান সংকট শুরু হয়েছিল। যদিও বর্তমান প্রাতিষ্ঠানিক সংকটে সরাসরি কিছু করার সুযোগ সীমাবদ্ধ। কারণ, নতুন করে হঠাৎ গ্যাস উৎপাদন যেমন সম্ভব নয়, তেমনি এফএসআরইউ সচল না থাকা পর্যন্ত বিদ্যমান গ্যাস খালাস করে জাতীয় গ্রিডে দেওয়াও সম্ভব নয়।

জ্বালানি সংকটের বহুমাত্রিক প্রভাব

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন সংলাপের সূচনা বক্তব্যে বলেন, জ্বালানি এমন একটি পণ্য ও সেবা, যা ছাড়া অর্থনীতি অচল হয়ে পড়ে। তবে বাস্তবতা হলো, আমরা এখন এই সংকটের মধ্যেই রয়েছি। তিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকটের অভিঘাত বহুমাত্রিক উল্লেখ করে বলেন, আগে আমরা মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনার কথা বলতাম। কিন্তু এখন তাৎক্ষণিকভাবে কী করতে হবে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জ্বালানিসংকটকে একটি পুঞ্জীভূত সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে ফাহমিদা খাতুন বলেন, জ্বালানিসংকটের ফলে নতুন কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে। আমরা এমন একটি অবস্থানের মুখোমুখি হয়েছি, যেখানে আগামী দিনে দেশের অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।

এলপিজি আমদানিনির্ভরতা বাড়ছে

সিপিডির প্রবন্ধে এলপিজি পুরোপুরি আমদানিনির্ভর হয়ে পড়েছে বলে জানানো হয়। সিপিডি জানায়, দেশে ব্যবহৃত এলপিজির বেশির ভাগ আসছে বেসরকারি আমদানির মাধ্যমে, যেখানে সরকারি খাতের অবদান নেমে এসেছে মাত্র ১ শতাংশের নিচে। দেশের মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৯৮ দশমিক ৭ শতাংশ মেটাতে হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানির মাধ্যমে, যা গৃহস্থালি রান্নার জ্বালানি নিরাপত্তাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

আলোচনা সভার এপেক্স ফুটওয়েয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন, বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডেভিড হাসনাতসহ সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞ ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Frequently Asked Questions

What is স প ড র স ল প?

স প ড র স ল প is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does স প ড র স ল প matter?

স প ড র স ল প matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment