ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ: তালা খোলা নিয়ে গাইবান্ধায় ফের উত্তেজনা
Table of Contents
ফ্যামিলি কার্ড নিয়োগে অনিয়ম: গাইবান্ধায় তালা খোলা নিয়ে উত্তেজনা
Banglajibon.com – ফ য ম ল ক র ড – গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ইউএনও কার্যালয় ও সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রধান ফটকে ঝোলানো তালা খুলে ফেলা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিএনপি নেতা-কর্মীরা এই কার্যালয়গুলোতে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিল। তবে রাতের আঁধারে কে বা কারা তালা খুলেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ নিয়ে প্রশাসন ও বিএনপির মধ্যে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
বুধবার সকাল থেকে দুই কার্যালয়ের প্রধান ফটকের তালা খোলা পাওয়া গেলেও কারা তা খুলেছে তা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে। ইউএনও কার্যালয়ের দুজন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সকালে অফিসে এসে দেখেন তালা খোলা। কে তালা খুলেছে তা তারা জানেন না। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখন স্বাভাবিকভাবে দাপ্তরিক কাজ করছেন।
তালা লাগানোর পেছনের কারণ
এর আগে মঙ্গলবার ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেন উপজেলা ও পৌর বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। তারা নিয়োগের ফলাফল বাতিল এবং ইউএনও ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার অপসারণের দাবি জানান। দুপুর ১২টার দিকে পৌর শহরের বাহিরগোলা জামে মসজিদ মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।
মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে গিয়ে প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের মূল ফটকেও তালা দেওয়া হয়। এতে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে থাকা ইউএনও কার্যালয়, উপজেলা কৃষি অফিস, উপজেলা প্রকৌশলী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়, উপজেলা তথ্যসেবা অফিস ও উপজেলা আইসিটি অফিসের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
বিক্ষোভকারীরা ‘অবৈধ নিয়োগ মানি না, মানবো না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিয়োগ বাতিল না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মসূচিতে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে যথাযথ নিয়ম, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতা অনুসরণ করা হয়নি। পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দিয়ে যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
তালা খোলার পর বিএনপির অভিযোগ
বুধবার সকাল থেকে দুই কার্যালয়ের প্রধান ফটকের তালা খোলা পাওয়া গেলেও রাতের আঁধারে তালা কে বা কারা খুলেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ নিয়ে বিএনপি ও প্রশাসনের মধ্যে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
সুন্দরগঞ্জ পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও উপজেলা বিআরডিবির চেয়ারম্যান ইফতেখার হোসেন পপেল তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে অভিযোগ করেন, রাতের আঁধারে প্রশাসন তালা ভেঙে অফিসে প্রবেশ করেছে। তিনি লেখেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড জরিপকারী নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রতিবাদে আমরা উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অফিসের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়ভাবে উপজেলা প্রশাসন রাতের আঁধারে সেই তালা ভেঙে আজ অফিসে প্রবেশ করেছে।’ তিনি আরও বলেন, অনিয়ম-দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে।
বিএনপি ও প্রশাসনের বক্তব্য
উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. মাহমুদুল ইসলাম প্রামাণিক বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে উপজেলা প্রশাসন অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছে। এসব অনিয়মের প্রতিবাদেই আন্দোলনকারীরা কার্যালয়ে তালা লাগিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে তালা খুলে দেওয়ার কোনো আশ্বাস দেওয়া হয়নি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আমাদের সঙ্গে কোনো কথা বলা হয়নি। তাহলে কীভাবে তালা খুলল, তা আমাদের জানা নেই। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।’ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. বাবুল আহমেদ বলেন, ‘আমরা তালা লাগিয়েছি। এখনো বিষয়টির সমাধান হয়নি। তাহলে কে তাদের তালা খোলার অনুমতি দিয়েছে? বিষয়টি আমরা জানতে চাই।’
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘যাঁরা সরকারি দপ্তরে তালা দেন, তাঁরা মূলত সরকারকে বেকারদাঁড় ফেলতেই এ ধরনের কাজ করেছেন। সরকারি অফিস সরকারি নিয়ম অনুযায়ীই চলবে। স্বাভাবিকভাবেই অফিসের কার্যক্রম চলছে।’ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, ‘আমার জানামতে, নিয়োগ প্রক্রিয়ার কোনো অনিয়ম হয়নি। বরং যোগ্য প্রার্থীরাই নির্বাচিত হয়েছেন। ছয়টি বোর্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং বোর্ডগুলোই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। কারও কোনো অভিযোগ থাকলে তারা আমাকে জানাতে পারতেন। তাহলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেত।’
ফুলছড়িতেও উত্তেজনা
এদিকে একই কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে গাইবান্ধার ফুলছড়িতেও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগের পর বুধবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা বিএনপি। ফুলছড়ি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম সরকার দাবি করেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, একটি চিহ্নিত কুচক্রী মহল প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং এলাকা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়েছে। প্রশাসনকে বিতর্কিত পরিস্থিতি থেকে মুক্ত করতে দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
ফ্যামিলি কার্ড নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ কী? বিএনপি নেতা-কর্মীরা দাবি করেন, ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে যথাযথ নিয়ম, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতা অনুসরণ করা হয়নি। পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দিয়ে যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করা হয়েছে।
গাইবান্ধায় তালা কেন লাগানো হয়েছিল? ফ্যামিলি কার্ড নিয়োগে অনিয়মের প্রতিবাদে বিএনপি নেতা-কর্মীরা সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ইউএনও কার্যালয় ও সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিল। তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিয়োগ বাতিলের দাবি জানায়।
তালা কে খুলেছে? বুধবার সকালে তালা খোলা পাওয়া গেলেও কে বা কারা তা খুলেছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিএনপি অভিযোগ করে যে, রাতের আঁধারে প্রশাসন তালা ভেঙে অফিসে প্রবেশ করেছে।
প্রশাসনের বক্তব্য কী? উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়ার কোনো অনিয়ম হয়নি। ছয়টি বোর্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং যোগ্য প্রার্থীরাই নির্বাচিত হয়েছেন।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ফ য ম ল ক র ড?
ফ য ম ল ক র ড is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ফ য ম ল ক র ড matter?
ফ য ম ল ক র ড matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
