International

শিক্ষামন্ত্রীর মন্ত্রণালয় পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছিল ককরোচরা

Foto : Michael Davis - banglajibon.com

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের আগে সরকারি প্রস্তাব ও সিজেপির প্রত্যাখ্যান

Banglajibon.com – শ ক ষ মন ত র র – শনিবার দুপুরে ধর্মেন্দ্র প্রধান তাঁর পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এরপর ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) জাতীয় রাজধানীতে চলমান তাদের ৩৬ দিনের আন্দোলন প্রত্যাহারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে। কিন্তু পদত্যাগের আগেই সরকার একটি প্রস্তাব দিয়েছিল, যা সিজেপি গ্রহণ করেনি।

সরকারি প্রস্তাব ও সিজেপির অবস্থান

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার ঠিক আগে ধর্মেন্দ্র প্রধান সরকারি সমঝোতার অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় পরিবর্তনের প্রস্তাব দেন। এই প্রস্তাবটি সিজেপিকে রাজি করানোর লক্ষ্যে দেওয়া হয়েছিল। তবে সিজেপি সেই প্রস্তাব মেনে নেয়নি।

সরকারের আশা ছিল, যদি ধর্মেন্দ্র প্রধান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে সরে যান কিন্তু মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে বহাল থাকেন, তবে সিজেপি এবং ছাত্রনেতারা সেটি স্বীকার করবে। আলোচনায় অংশ নেওয়া দুই মন্ত্রী—জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং—সিজেপির সঙ্গে বৈঠকে নতুন শিক্ষামন্ত্রী নিয়োগের প্রস্তাব রাখেন। পাশাপাশি সিজেপির বাকি সকল আনুষঙ্গিক দাবিও মেনে নেওয়ার কথা জানান তারা।

দীর্ঘ আলোচনা ও অচলাবস্থা

সরকারি শীর্ষ সূত্র ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছে, শিক্ষার্থীরা যদি এই প্রস্তাবে সন্তুষ্ট হয় তবে আন্দোলন প্রত্যাহার করতে পারে বলে তারা আশা করেছিল। কিন্তু আন্দোলনকারীরা ধর্মেন্দ্র প্রধানের সরাসরি পদত্যাগের দাবিতে অনড় ছিল। সিজেপির সূত্রও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সিজেপির দাবি, সরকারি দুই মন্ত্রী বলেছিলেন যে মন্ত্রিসভার পরিবর্তন আনার ক্ষমতা একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর। তাই মন্ত্রিসভার রদবদল হতে পারে এবং শিক্ষামন্ত্রীর জায়গায় অন্য কাউকে আনা যেতে পারে। কিন্তু সিজেপি এই প্রস্তাব মানতে রাজি হয়নি।

দীর্ঘ সময় ধরে যোগাযোগের কার্যকর পথ তৈরি না হওয়ায় অচলাবস্থা তৈরি হয়। এর ফলে সিজেপি আরও কঠোর অবস্থান নেয়। আন্দোলনকারীরা তাদের অবস্থানে অনড় থাকে। জনমতের চাপ বাড়তে থাকে এবং একাধিক দফা আলোচনা ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত সরকার আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়।

আগেই মেনে নেওয়া দাবিগুলো

সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, সিজেপির দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি আগেই মেনে নেওয়া হয়েছিল। একটি ছিল ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং অন্যটি ছিল আন্দোলন-সংক্রান্ত এফআইআর প্রত্যাহার করা। সাধারণত আন্দোলনের সময় যদি সরকারি সম্পদের বড় ধরনের ক্ষতি না হয়, তবে দাখিল করা এফআইআর পরে প্রত্যাহার করা হয়।

এছাড়াও, নীট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষা বাতিলের ঘটনার পর আত্মহত্যা করা পরীক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়াও সরকার শুরু করেছিল। এসব কারণে সরকারের আশা ছিল, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রস্তাবে সিজেপি শেষ পর্যন্ত রাজি হবে।

সরকার এই প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু আন্দোলনকারীরা ধর্মেন্দ্র প্রধানের সরাসরি পদত্যাগের দাবিতে অনড় ছিল।

Leave a Comment