দক্ষতার ঝুলি ভরিয়ে তরুণরা এগিয়ে যাচ্ছেন
Banglajibon.com – তর ণ র য খ ন ব – কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আগমনে চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা সত্য। কিন্তু গবেষকদের মতে, এআই শুধু চাকরি কেড়ে নেয় না—বরং নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করছে। এই যুগে টিকে থাকতে হলে দক্ষতা অর্জন অপরিহার্য। প্রাতিষ্ঠানিক সনদ থাকলেও তা যথেষ্ট নয়; নিজের দক্ষতার ঝুলি বাড়াতে হবে।
দক্ষতার মাধ্যমে নতুন পথ খুঁজে পাওয়া
আলী হাসনাইন মওলা চৌধুরী সফটওয়্যার প্রোডাক্টের জটিল কাজগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করেন। অ্যাপ তৈরি, এর কার্যকারিতা, মানুষের কাছে পৌঁছানোর কৌশল—সবকিছুই তিনি এআই-এর সাহায্যে নির্ধারণ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতারণার শিকার হন মো. ফাহিম আবু আশরাফ। একদিন অনলাইনে প্রতারণার কবলে পড়ে বাবার দেওয়া সেমিস্টার ফি এবং ভাইয়ের কাছ থেকে ধার করা সব টাকা হারান তিনি। সেই কঠিন পরিস্থিতি তাকে ভেঙে ফেলেনি; বরং জেদ চেপে বসেছে, যেকোনো মূল্যে ধারের টাকা শোধ করে নিজের পায়ে দাঁড়াতেই হবে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ওপর নির্ভর না করে নিজের ইচ্ছাশক্তি থেকে কাজ শিখতে শুরু করেন। চলতি বছরের মার্চে একটি ডিরেক্টরি ওয়েবসাইট ডিজাইন করে প্রথম কাজ পান। বর্তমানে তিনি একজন সফল ওয়ার্ডপ্রেস ডিজাইনার এবং ওয়েব ডেভেলপার।
প্রথম কাজটা পাওয়ার পর আমার ভেতরে একধরনের আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়। মনে হতে থাকে, যেহেতু শুরুটা করতে পেরেছি, সামনেও নিশ্চয় কাজ পাব।
ফাহিম বর্তমানে নিজের ফ্রিল্যান্সিং কাজের পাশাপাশি একটি প্রতিষ্ঠানেও নিয়মিত চাকরি করছেন।
যোগাযোগের ঘাটতি পূরণে দক্ষতা
মারিয়া নাওয়ার কাজ করেন ডেটা অ্যানালিস্ট এবং বিজনেস ইন্টেলিজেন্স প্রফেশনাল হিসেবে। এআইইউবি থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে পাঠশোনা শেষ করে কাজের বাজারে নেমে তিনি বুঝতে পারেন, শুধু প্রাতিষ্ঠানিক সনদ নয়, টিকে থাকতে হলে নিজের দক্ষতার ঝুলি বাড়াতেই হবে। সিভি লেখা থেকে শুরু করে একটি চাকরিতে সফল হওয়া পর্যন্ত যাত্রাটা সহজ নয়।
কাজের ক্ষেত্রে যোগাযোগের ঘাটতি অথবা কমিউনিকেশন গ্যাপ বড় বাধা হিসেবে দেখা দেয়। সেই গ্যাপগুলো পূরণ করতে পারলে যেকোনো কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়।
জিপি একাডেমি: ভবিষ্যৎ-উপযোগী দক্ষতার প্ল্যাটফর্ম
আলী হাসনাইন, মারিয়া কিংবা ফাহিম—সবার কাজ শেখার যাত্রা শুরু হয়েছিল নিজস্ব উদ্যোগে। তবে তাদের এই দক্ষতা অর্জনের পথ সুগম করেছে জিপি একাডেমি। কোভিড-পরবর্তী সময়ে ডিজিটাল দক্ষতার গুরুত্ব বুঝে ২০২২ সালের মে মাসে গ্রামীণফোন তাদের এই বিশেষ ভবিষ্যৎ দক্ষতা উন্নয়ন প্ল্যাটফর্মটির যাত্রা শুরু করে। বাংলাদেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ-উপযোগী প্রযুক্তিগত ও ফ্রিল্যান্সিং দক্ষতা অর্জনে প্ল্যাটফর্মটি দারুণ এক ভূমিকা রাখছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ তরুণ এতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন এবং ১ লাখ ৫০ হাজার প্রশিক্ষণার্থী সনদ পেয়েছেন।
গ্রামীণফোনের এনভায়রনমেন্ট, সোশ্যাল ও গভর্ন্যান্স প্রধান ফারহানা ইসলাম বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ধীরে ধীরে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারে অভ্যস্ত হচ্ছেন। এই যাত্রায় অনেকে বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হন। আমরা যদি এই মানুষদের স্কিল ডেভেলপমেন্ট বা বিভিন্ন দক্ষতার বিষয়গুলো শেখাতে পারি, তাহলে তারা নিজদের ক্যারিয়ারে চমৎকার কিছু অর্জন করতে পারবেন।
চাকরির ক্ষেত্রে দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা আসলেই কাজটা করতে পারি কি না, সেটাই আসল কথা। জিপি একাডেমি তরুণদের শুধু শেখায় না, শিক্ষাটা তাদের বাস্তব জীবনে কতটা কাজে আসছে, সেদিকেও বিশেষ নজর রাখে।
জিপি একাডেমিতে ক্যারিয়ার রেডিনেস, ডিজিটাল অ্যান্ড ফ্রিল্যান্সিং স্কিলস এবং এআই অ্যান্ড ফিউচার-রেডি স্কিলস—এই তিনটি মূলধারায় সম্পূর্ণ নিখরচায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এগুলোর মধ্যে কথা বলার সফট স্কিল, ফ্রন্ট-এন্ড ও ব্যাক-এন্ড কাজ, ক্যারিয়ার লঞ্চ প্যাড থেকে শুরু করে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং, মেশিন লার্নিং, জিরো-কোড অ্যাপ তৈরি এবং এআই এজেন্টের মতো আধুনিক সব হার্ড স্কিল শেখানো হয় ইন্ডাস্ট্রি বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে।

