Bangladesh

ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রি, ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড

Foto : Betty Thomas - banglajibon.com

রাজাপুরে ব্যবস্থাপত্র ছাড়া যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রিতে ব্যবসায়ীর জরিমানা

Banglajibon.com – ব যবস থ পত র ছ ড় – ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় চিকিৎসকের নির্দেশনা ও ব্যবস্থাপত্র ছাড়া যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রির অভিযোগে একজন ওষুধ ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করেছে। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার সময় হরিসভা মন্দির সড়কে অবস্থিত মেসার্স মৃণাল মেডিকেলের ওপর অভিযান চালিয়ে এই জরিমানা করা হয়। এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের অবৈধ ওষুধ বিক্রির বিষয়টি জানতেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ওষুধ ব্যবসায়ী মো. মহিউদ্দীন ভান্ডারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের মনোহরপুর এলাকার মৃত মোবারক ফকিরের পুত্র। ভ্রাম্যমাণ আদালতের তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকের পরামর্শ ও ব্যবস্থাপত্র ছাড়া যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রির অভিযোগে ওই দোকানে অভিযান চালানো হয়। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে দোকানমালিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এই জরিমানার টাকা তৎক্ষণাৎ আদায় করা হয়।

অর্থদণ্ডের পর মহিউদ্দীন ভান্ডারী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কবিরাজি চিকিৎসক। রোগী দেখা ও ওষুধ বিক্রির অনুমোদনসহ প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র তাঁর কাছে রয়েছে। তবুও কেন তাঁকে জরিমানা করা হলো, তা তিনি বুঝতে পারছেন না বলে জানান। তিনি আরও বলেন, কবিরাজি পদ্ধতিতে রোগী দেখার সময় সরাসরি ওষুধ দেওয়া হয়, তাই ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ওষুধ বিক্রি করলেও তা অবৈধ নয়।

নিয়মকানুন ও আইনি ব্যবস্থা

রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত আরা মৌরি এই বিষয়ে বলেন, চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রির সময় একজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। বিধি লঙ্ঘনের দায়ে তাঁকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই ধরনের ওষুধ বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট নিয়মকানুন রয়েছে যা মেনে চলতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রির সময় চিকিৎসকের পরামর্শ ও ব্যবস্থাপত্র ছাড়া সরাসরি বিক্রি করা যায় না। এই ওষুধগুলো সাধারণত রোগীর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। অনেক সময় অযথা ওষুধ সেবনে বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তাই সঠিক নির্দেশনায় ওষুধ সেবন করা জরুরি।

চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রির সময় একজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। বিধি লঙ্ঘনের দায়ে তাঁকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনার পর থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা আরও সতর্ক হয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, যৌন উত্তেজক ওষুধ কেনার সময় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অনেক সময় দোকান থেকে সরাসরি ওষুধ কিনে অযথা সমস্যা দেখা দেয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই ব্যবস্থা স্থানীয় মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।

মেসার্স মৃণাল মেডিকেলের ওপর এই অভিযানটি স্থানীয় প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই ধরনের অবৈধ ওষুধ বিক্রি রোধ করতে ভবিষ্যতে আরও অভিযান চালানো হবে বলে জানানো হয়েছে। ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে যে, তারা যদি নিয়মকানুন মেনে চলে, তবে কোনো সমস্যা হবে না।

Leave a Comment