Op Ed

সামাজিক ব্যবসার হাত থেকে স্বাস্থ্যকে বাঁচান

সামাজিক ব্যবসার হাত থেকে স্বাস্থ্যকে বাঁচান

স ম জ ক ব যবস র – বাংলাদেশে হাজার হাজার শিশুর মৃত্যুর ঘটনা এখন সর্বজন পরিচিত হয়ে উঠেছে অন্তর্বর্তী সরকারের অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অমানবিক অবহেলার কারণে। এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে বিচারের দাবি গড়ে উঠছে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা চলছে যেহেতু তাঁদের সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

অন্তর্বর্তী সরকার থেকে বিদায় নেওয়ার পর ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও নূরজাহান বেগমের নতুন কর্মকাণ্ডের প্রতি সামাজিক ব্যবসার ক্ষেত্রে দৃষ্টিকোণ বদল হয়েছে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সংগঠন তাঁদের বিচারের দাবি জানিয়েছে।

জাতিসংঘের ইউনিসেফ সংস্থার কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া গণমাধ্যমকে জানান যে হামের টিকার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে সতর্ক করার পরও তারা গুরুত্ব দেয়নি।

টিকা কেনা বন্ধ করা হয়েছিল কারণ ড. ইউনূস ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের ক্ষতি হতে চাইছিলেন। তিনি চট্টগ্রামের জোবরা গ্রাম থেকে ১৯৭৬ সালে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠা করেন যেটি পরে গ্রামীণ ব্যাংক হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়। তবে দারিদ্র্য দূরীকরণে তার ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত কর্মকাণ্ডে অনেক বিতর্ক উঠেছে।

গ্রামীণ ব্যাংকের গ্রাহকদের দরিদ্র সম্প্রদায় ছিল, কিন্তু গ্রামীণ হেলথ কেয়ার সার্ভিসেসের গ্রাহকদের আর্থিক সামর্থ্য ও সংখ্যা ক্ষুদ্রঋণের চেয়ে বেশি। ফলে তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের টিকা কার্যক্রমকে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করেছিলেন।

২০২৫ সালের মার্চে তিনি বাংলাদেশে চিকিৎসাসেবা ব্যবসার বিস্তারের লক্ষ্যে ইউনিসেফকে সরিয়ে দিয়ে টিকা আমদানি বন্ধ করে দেন। এই কার্যক্রমের পরিণতি হিসেবে ইতিমধ্যে প্রায় ৫০০ শিশু মৃত্যুবরণ করেছে। বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়নে এটিকে হত্যার সামাজিক ঘটনা হিসেবে গণ্য করা যায়।

তিনি সামাজিক ব্যবসার পরিবেশে স্বাস্থ্য খাতকে দুর্বল করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন নিজস্ব কর্মকাণ্ডের জন্য। সে বিবেচনায় আন্তর্জাতিক চিকিৎসাসেবা কোম্পানি অ্যাপেক্স হেলথের সঙ্গে গ্রামীণ হেলথ সার্ভিসেসের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

Leave a Comment