বিশ্বকাপ মঞ্চে নারীদের প্রতিবাদের ডাক
ব শ বক প মঞ চ ন – মেক্সিকোতে এখন পর্যন্ত নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৬০ জনে পৌঁছেছে, যা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দর্শকদের সংখ্যা অপেক্ষা বেশি। এই সংখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে মেক্সিকোর সরকার উদাসীন হয়ে পড়েছে বলে দাবি করছে নারী সংগঠনগুলো। তারা প্রতিবাদের জন্য দেশের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শিনবাম পার্ডো সরকার ও ফিফার আয়োজনে একটি জাতীয় পদযাত্রা আয়োজন করেছে।
পারিবারিক সহিংসতা এবং মাদক চক্রের সদস্যদের কারণে নিখোঁজ হওয়া বা তাদের বিরুদ্ধে সংঘর্ষে মৃত্যু হওয়া সন্তান, স্বামী বা ভাইদের স্মরণে নারীরা প্রতিবাদে অংশ নিচ্ছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বিশ্বকাপের আয়োজনকারীদের কঠোর অভিবাসন নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের তীব্র সমালোচনা করেছে।
“শুধু টিকিটের আকাশচুম্বী দামই মানুষকে এই বিশ্বকাপ পুরোপুরি উপভোগ করা থেকে দূরে রাখবে না,” বলেন মেক্সিকোর সরকারি পরিচালনার ইডিথ অলিভারেস ফেরেতো।
মেক্সিকো বিশ্বকাপ আয়োজন করার মাধ্যমে নারীদের সুরক্ষার প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছে ক্লাউডিয়া শিনবাম পার্ডো। তিনি পেশাগত জীবনে জলবায়ু প্রকৌশলী হিসেবে পরিচিত। সরকারিভাবে তাঁর দ্বারা শুরু হয়েছে মেক্সিকোতে নারীদের প্রতি নতুন ধাপের পরিচয়।
শিনবামের নির্দেশনায় এ বছরের গোড়ায় পাস হয়েছে সাবস্ট্যান্টিভ ইকুয়ালিটি ডিক্রি। এটি সমকাজের জন্য সম মজুরি নীতি ও জেন্ডার সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণের কার্যক্রম নিশ্চিত করেছে। নারী মন্ত্রণালয় গঠন করেছেন তিনি যাতে বিচারব্যবস্থায় নারীবিষয়ক মামলা সুস্পষ্ট হয়। এর মাধ্যমে ভিকারিয়াস ভায়োলেন্স ও সন্তান জিম্মি করা নারীদের মানসিক নির্যাতনের বিষয়ও আইনের আওতায় আসে।
মেক্সিকোতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ জন নারী হত্যার মতো গভীর জেন্ডারভিত্তিক ট্র্যাজেডি বিদ্যমান। তবে পার্লামেন্টে নারীদের প্রতিনিধিত্ব ৫০ শতাংশ হয়েছে। তাঁদের নারী মন্ত্রণালয় বা সাবস্ট্যান্টিভ ইকুয়ালিটি ডিক্রি মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার প্রতি দায়িত্ব বহন করছে।
স্বাধীনতার ইতিহাসের জন্য ২০০ বছরের বেশি সময় পূর্ণ করেছে মেক্সিকো। কিন্তু স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও ভক্তদের অধিকার রক্ষার দাবি তুলে ধরেছে নারী সংগঠনগুলো। তারা বিচার ব্যবস্থাকে সপ্তাহের ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা সচল করে সমাজের অসমান অবস্থার মুখোমুখি করেছে মেক্সিকো সরকারকে।
