আলোচিত বনাম আড়ালে থাকা বিচারের সংস্কৃতি
আল চ ত বন ম আড় ল – ২০২৫ সালের ৬ মার্চ, সকালবেলা মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে একটি শিশুকে তার বোনের শয়নকক্ষে নির্মমভাবে ধর্ষণ এবং হত্যার চেষ্টা করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়, যার পর ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেয়া হয়। কিন্তু ঘটনাটি চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ শিশুটি মারা যায়।
খবর গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠে আসে। শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের লাগাতার সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভের মুখে প্রশাসন চরম তৎপরতা দেখায়। মামলা করার পর একটি নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর রাষ্ট্রের দ্রুত ক্রিয়া করে চারজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এমএসএফের জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা মনিটরিং প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এ বছরের এপ্রিল ও মে মাসে নারী ও শিশু সহিংসতার ঘটনা তুলনামূলক হ্রাস হয়েছে। গত মে মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৭৮ জন নারী ও শিশু, যা এপ্রিলের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি। প্রতিটি অপরাধকে সমান গুরুত্ব দিয়ে নিরপেক্ষ ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব।
এমএসএফের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের অন্যান্য মাসের তুলনায় মে মাসে এই অপরাধের হার সবচেয়ে বেশি এবং এই সহিংসতার শিকার হওয়া প্রত্যেকেই ছিল শিশু। এর মধ্যে মাদকাসক্তের হাতে ধর্ষণের চেষ্টা বা ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে শিশুকে হত্যার মতো রোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে।
মাগুরার সেই শিশু কিংবা রামিসার মতো ঘটনাগুলো দেশে শিশু ও নারীদের ওপর নেমে আসা এক ভয়াবহ ও কাঠামোগত যৌন সহিংসতার খণ্ডচিত্র মাত্র। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের তীব্রতা এবং বিভিন্ন সংগঠনের জোরালো দাবির মুখে রাষ্ট্রের এই দ্রুত তৎপরতা ও সক্রিয়তা সাময়িক সান্ত্বনা দেয় বটে। কিন্তু প্রতিদিন আড়ালে থেকে যাওয়া অসংখ্য শিশু-নারীর কান্না বিচারহীনতার সংস্কৃতির নিচে চাপা পড়ে যাচ্ছে।
