Technology

জনসাধারণের জন্য ‘উপদ্রব’, যুক্তরাষ্ট্রে মেটাকে ৫৭ কোটি ডলার জরিমানা

meta-facebook
Foto : Joseph Lopez - banglajibon.com
Table of Contents
  1. মেটাকে ৫৭ কোটি ডলার জরিমানা: শিশুদের নিরাপত্তায় ব্যর্থতার জন্য ‘উপদ্রব’ ঘোষণা
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

মেটাকে ৫৭ কোটি ডলার জরিমানা: শিশুদের নিরাপত্তায় ব্যর্থতার জন্য ‘উপদ্রব’ ঘোষণা

Banglajibon.com – জনস ধ রণ র জন য উপদ – যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের এক বিচারক গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময়ে মেটাকে আরও ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৫৭ কোটি ডলার জরিমানা করার নির্দেশ দিয়েছেন। শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে কোম্পানিটি যে ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে, সে বিষয়ে জনসাধারণকে সঠিকভাবে সতর্ক করতে না পারার অভিযোগে এই রায়ে মেটাকে শাস্তি দেওয়া হলো। এটি এখন পর্যন্ত শিশুদের নিরাপত্তা ইস্যুতে মেটার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ অর্থদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিচারক ব্রায়াণ বিডশাইড এই রায়ে মেটাকে একটি কারখানার সাথে তুলনা করেছেন। তাঁর মতে, ওই কারখানার পণ্য হলো বিজ্ঞাপন ও কনটেন্ট, আর ‘শিশুদের মানসিক ক্ষতি ও যৌন শোষণ হলো সেই দূষণ, যা অবশ্যই কমাতে হবে।’ তিনি আরও বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট মেটাকে ‘জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর উপদ্রব’ হিসেবে গণ্য করা হবে, অনেকটা বায়ুদূষণের মতো।

কারখানা থেকে উৎপন্ন বিষাক্ত দূষণ যেমন সাধারণ মানুষের যুক্তিসঙ্গতভাবে পরিষ্কার বাতাস পাওয়ার অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তেমনি শিশুদের ওপর মেটার প্ল্যাটফর্মগুলোর ক্ষতিকর প্রভাব শুধু তার নিজস্ব প্ল্যাটফর্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।

বিচারক বিডশাইড তাঁর রায়ে লিখেছেন, বরং তা পুরো ইন্টারনেটজগতে ছড়িয়ে পড়ে এবং সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—বাস্তব জগতেও পৌঁছে যায়। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত শিশু ও তাদের পরিবার, স্কুল, হাসপাতাল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর ওপর একটি সাধারণ সামাজিক বোঝা ও ক্ষতি তৈরি হয়।

মেটার প্রতিক্রিয়া ও আপিলের ঘোষণা

ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও থ্রেডস পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান মেটার মুখপাত্র গতকাল বৃহস্পতিবার বলেন, ‘আমরা এই রায়ের সঙ্গে একমত নই এবং এর বিরুদ্ধে আপিল করব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের প্ল্যাটফর্মে মানুষকে নিরাপদ রাখতে কঠোর পরিশ্রম করি এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট ও খারাপ উদ্দেশ্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের শনাক্ত ও অপসারণের চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে আমরা স্বচ্ছ থেকেছি।’

মুখপাত্র আরও যোগ করেন, অনলাইনে কিশোরদের সুরক্ষার আমাদের রেকর্ড নিয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী এবং যেসব দাবি বাস্তব ঘটনাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে, সেগুলোর বিরুদ্ধে আমরা আমাদের অবস্থান রক্ষা করে যাব। মামলাটির আগের পর্যায়ে দেওয়া ৩৭৫ মিলিয়ন ডলারের রায়েও মেটা জানিয়েছিল যে তারা সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে এবং একই ধরনের ব্যাখ্যা দিয়েছিল।

তহবিল গঠন ও ভবিষ্যৎ ব্যবস্থা

ভবিষ্যতে এ ধরনের ক্ষতি কমানোর লক্ষ্যে একটি তহবিল গঠন করে সেখানে এই অর্থ জমা দিতে হবে কোম্পানিটিকে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, অর্থের সিংহভাগ, অর্থাৎ ৪২০ মিলিয়ন ডলার, মেটার প্ল্যাটফর্মের কারণে ইতোমধ্যে যে ক্ষতি হয়েছে, তার চিকিৎসা ও মোকাবিলায় ব্যয় করা হবে। এর আওতায় ‘উপযুক্ত ক্লিনিক্যাল বা অন্যান্য আচরণগত স্বাস্থ্য কর্মসূচি এবং পেশাজীবীদের’ অর্থায়ন করা হবে।

তহবিলের আরও একটি অংশ সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক প্রশিক্ষণের জন্য ব্যয় করা হবে। এর মধ্যে শিক্ষক ও স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের প্রশিক্ষণও থাকবে, যাতে তারা শিশুদের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাব কীভাবে মোকাবিলা করতে হয়, সে বিষয়ে প্রস্তুত হতে পারেন। এসব ব্যবহারকারীর জন্য ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক মিলিয়ে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ৯০ ঘণ্টার বাধ্যতামূলক ব্যবহারসীমা চালু করতে হবে। অর্থাৎ, সপ্তাহে প্রতিদিন প্রায় তিন ঘণ্টা ব্যবহার করা যাবে।

মামলার পটভূমি ও প্রেক্ষাপট

নিউ মেক্সিকোর মামলাটি শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালে। ওই সময় নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নিদের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছিল। মামলায় বলা হয়েছিল, শিশুদের বিপদের মধ্যে ফেলে দেওয়া এবং তাদের যৌন স্পষ্ট কনটেন্ট ও যৌন শিকারিদের সংস্পর্শে আসার সুযোগ তৈরি করার জন্য মেটাকে দায়ী করা উচিত।

বিচারের প্রথম ধাপে আদালত দেখতে পায়, মেটা বারবার নিউ মেক্সিকোর ‘Unfair Practices Act’ বা অন্যায্য ব্যবসায়িক চর্চা আইন লঙ্ঘন করেছে। আদালতের মতে, কোম্পানিটির রেকমেন্ডেশন অ্যালগরিদম কার্যত তরুণ ব্যবহারকারীদের ক্ষতিকর কনটেন্ট ও ব্যক্তিদের দিকে ‘পরিচালিত’ করেছে। রেকমেন্ডেশন অ্যালগরিদম হলো মেটার ব্যবহৃত এমন প্রযুক্তি, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারণ করে একজন ব্যবহারকারী তার প্ল্যাটফর্মে কী ধরনের কনটেন্ট দেখতে পাবেন।

নিউ মেক্সিকোর এই দুই দফা রায়ের পাশাপাশি চলতি বছরের শুরুর দিকে লস অ্যাঞ্জেলেসেও একই ধরনের অভিযোগের একটি মামলায় মেটা হেরে যায়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে একই ধরনের অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা চলছে। এদিকে, আগামী সপ্তাহে ক্যালিফোর্নিয়ায় মেটার বিরুদ্ধে আরেকটি বড় মামলা শুরু হতে যাচ্ছে।

Frequently Asked Questions

What is জনস ধ রণ র জন য উপদ?

জনস ধ রণ র জন য উপদ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does জনস ধ রণ র জন য উপদ matter?

জনস ধ রণ র জন য উপদ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment