১২ মিনিটের ‘মৃত্যু’ থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে স্ত্রীকে চুম্বন
১২ ম ন ট র ম ত – নরওয়ে যে সেনেগালের বিরুদ্ধে স্বল্প সময়ে গোল করে পরবর্তী পর্বে উপস্থিত হয়েছে, তা তাদের কোচ স্টালে সোলবাকেনের একটি অসাধারণ উদ্যাপনের সূত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। খেলা শেষে তিনি গ্যালারিতে উঠে স্ত্রী আননিকেনকে আবেগঘন চুম্বন করেন, যার জন্য সমগ্র দুনিয়া তাঁর গোলপতনের কথা মনে রেখেছে।
সোলবাকেন বলেন, তিনি অনুমান করতে পারেননি তার স্ত্রী কোথায় বসে আছেন। তাই কোন কোন প্রস্তুতি নিয়ে খেলার পর গ্যালারিতে উঠার চেষ্টা করতে হয়েছিল। খেলার মাঝখানে তিনি নরওয়ের প্রতিভাবান ফরোয়ার্ড আরলিং হালান্ডের পরিষ্কার সুযোগ মিস করায় কিছুটা হাসিমুখে তাঁকে কমেন্ট করেন।
“সে (হালান্ড) একটি পরিষ্কার সুযোগ মিস করেছে। সে আরও গোল করতে পারত।”
খেলার শেষ পর্যায়ে নরওয়েকে সেনেগালের বিরুদ্ধে বিশেষ সংকটের মুখে দাঁড়াতে হয়। কঠিন পরীক্ষা পেতে হয়েছিল তাদের, কিন্তু পরবর্তী পর্বের আশায় তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছেন সোলবাকেন। তিনি জানান, “আমরা ইতিমধ্যেই প্রতিযোগিতার সামনে উপস্থিত হয়েছি।”
এই সফলতার পেছনে সোলবাকেনের জীবনের ভয়াবহ অধ্যায় ছিল। ২০০১ সালের মার্চে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। চিকিৎসকরা জানান যে তার হৃদস্পন্দন প্রায় ১২ মিনিট বন্ধ ছিল। সেই মুহূর্তে তাঁর পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল।
“আমার মা আমার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন। প্রথমে তারা ভাবছিল আমি বেঁচে থাকব কি না, পরে ভাবছিল আমি মস্তিষ্কে ক্ষতিগ্রস্ত হব কি না।”
মানসিক ভেঙে পড়া তাঁদের পরিবারকে সামনে রেখে সোলবাকেন বলেন, “এটা ছিল এক অলৌকিক ঘটনা, কারণ তার হৃদস্পন্দন ১২ মিনিট বন্ধ ছিল।” তিনি যে স্মৃতি সামনে রেখে জীবন সম্পূর্ণ অন্ধকার ছিল, সে ব্যাপারে তিনি মন্তব্য করেন, “প্রথমে আমি কিছুই দেখতে পাচ্ছিলাম না, শুধু সম্পূর্ণ অন্ধকার। তারপর হালকা নীল আলো দেখা গেল… এটা ছিল এক সুন্দর আলো।”
ঘটনাস্থলে উপস্থিত চিকিৎসক ফ্রাঙ্ক ওডগার্ড তাকে সিপিআর ও ডিফিব্রিলেটরের মাধ্যমে পুনরায় জীবিত করেন। তিনি বলেন, “আমি ওই মুহূর্তে ভাবলাম: ওহ না, আমি কি সেখানে একটু আরও থাকতে পারতাম?” সে ব্যাপারে তিনি মনে করেন কোন ব্যাখ্যা নেই।
