Science

প্রাণের বিকাশের জন্য পৃথিবী নিখুঁত নয়, মহাবিশ্বে আছে অতি-বাসযোগ্য গ্রহ: গবেষণা

earth_1rXMPFt
Foto : Richard Smith - banglajibon.com
Table of Contents
  1. Related Reading
  2. Frequently Asked Questions

Banglajibon.com – প র ণ র ব ক শ – জীবন ধারণের জন্য এখন পর্যন্ত আমাদের জানা একমাত্র স্থান পৃথিবী। তবে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, মহাবিশ্বে এমন কিছু গ্রহ থাকতে পারে যেখানে প্রাণের বেঁচে থাকা ও বিকাশের জন্য পৃথিবীর চেয়েও অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। বিজ্ঞানীদের ভাষায় এই সম্ভাব্য জগৎগুলোকে বলা হচ্ছে ‘সুপারহ্যাবিটেবল’ বা অতি-বাসযোগ্য গ্রহ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এসব গ্রহে অপেক্ষাকৃত উষ্ণ জলবায়ু, বিশাল জলাশয় এবং এমন পরিবেশ থাকতে পারে যা কোটি কোটি বছর ধরে প্রাণ টিকিয়ে রাখার জন্য পৃথিবীর চেয়েও উপযুক্ত। গবেষকদের মতে, বিশেষ কিছু তারকাকে (নক্ষত্র) কেন্দ্র করে ঘোরা পৃথিবীর চেয়ে সামান্য বড় আকারের গ্রহগুলো জীবনের জন্য আরও বেশি উপযোগী হতে পারে। বিজ্ঞানীদের মতে, অতি-বাসযোগ্য গ্রহ বলতে এমন জগৎকে বোঝায় যেখানে প্রাণের বিকাশ ও টিকে থাকার সম্ভাবনা পৃথিবীর তুলনায় বেশি। সাধারণত এসব গ্রহ ব্যাসের দিক থেকে পৃথিবীর চেয়ে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বড় এবং ভর প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। এগুলোর শক্তিশালী অভিকর্ষ বল ঘন বায়ুমণ্ডল ধরে রাখতে সাহায্য করে, যা গ্রহটিতে দীর্ঘ মেয়াদে উষ্ণ ও স্থিতিশীল জলবায়ু তৈরি করতে পারে। এ ছাড়া এগুলোর কেন্দ্রে বড় আকারের লোহার কেন্দ্র বা ‘আয়রন কোর’ থাকায় এগুলোর চৌম্বক ক্ষেত্রও হতে পারে অনেক বেশি শক্তিশালী, যা মহাজাগতিক ক্ষতিকর বিকিরণ থেকে গ্রহকে সুরক্ষা দেয়। গবেষকদের ধারণা, এসব গ্রহে ছোট ছোট দ্বীপ এবং বিশাল অগভীর সমুদ্র থাকতে পারে। পৃথিবীতে ক্রান্তীয় দ্বীপ ও অগভীর জলাশয়ে যেমন সবচেয়ে সমৃদ্ধ বাস্তুতন্ত্র দেখা যায়, তেমনি এসব গ্রহেও বিশাল অঞ্চলজুড়ে একই পরিবেশ থাকলে তা আরও বৈচিত্র্যময় প্রাণের বিকাশ ঘটাতে পারে। তবে এসব শর্ত বা বৈশিষ্ট্য এখনো তাত্ত্বিক পর্যায় রয়েছে এবং নিশ্চিতভাবে কোনো ‘সুপারহ্যাবিটেবল’ গ্রহ এখনো শনাক্ত করা যায়নি। গবেষণার অন্যতম একটি আকর্ষণীয় দিক হলো ‘কে-ডোয়ার্ফ’ নামের এক বিশেষ ধরনের তারা বা নক্ষত্র। এসব নক্ষত্র আমাদের সূর্যের তুলনায় আকারে ছোট, তুলনামূলক শীতল এবং কমলা রঙের হয়ে থাকে। এগুলো খুব ধীরে নিজেদের জ্বালানি খরচ করে, যার ফলে ১০ হাজার কোটি বছরেরও বেশি সময় ধরে এগুলো একইভাবে আলো ও উত্তাপ দিতে পারে। এর ফলে নক্ষত্রগুলোর কাছাকাছি থাকা গ্রহগুলোতে প্রাণের বিবর্তন ও বিকাশ লাভের জন্য বিশাল সময় পাওয়া যায়। জার্মানির লাইবনিজ ইনস্টিটিউট ফর অ্যাস্ট্রোফিজিকস-এর জ্যোতির্বিজ্ঞানী ইভা ভিলোভিচ বার্লিনের একটি গবেষণাগারে কৃত্রিমভাবে ‘কে-ডোয়ার্ফ’ নক্ষত্রের আলো তৈরি করে পরীক্ষা চালিয়েছেন। সেখানে ‘গার্ডেন ক্রেস’ নামের উদ্ভিদের ওপর এই আলো ফেলে তিনি দেখেন, কৃত্রিম সূর্যালোকের তুলনায় কমলা রঙের আলোতে উদ্ভিদগুলো দ্রুত এবং বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ফলাফল নির্দেশ করে, কে-ডোয়ার্ফ নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করা গ্রহগুলোতে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া অত্যন্ত কার্যকরভাবে ঘটতে পারে। ইভা ভিলোভিচ নিউইয়র্ক টাইমস-কে বলেন, ‘ভিনগ্রহে প্রাণের অনুসন্ধানে এই নক্ষত্রগুলোর আলোকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।’ পৃথিবীই প্রাণের জন্য সবচেয়ে আদর্শ জায়গা নাও হতে পারে—এই ধারণার সপক্ষে প্রথম বিশদ আলোচনা শুরু হয় ২০১০-এর দশকে। ২০১৪ সালে জ্যোতির্বিজ্ঞানী রেনে হেলার এবং জন আর্মস্ট্রং একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা পত্রে প্রথম ‘সুপারহ্যাবিটেবল’ গ্রহের ধারণাটি উপস্থাপন করেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের শুধু অবিকল পৃথিবীর মতো গ্রহ খোঁজার ওপর নজর দেওয়া উচিত নয়। পৃথিবী অসংখ্য জীব প্রজাতিকে টিকিয়ে রাখলেও, এর ওপর জীবনের অস্তিত্ব নির্ভর করে কিছু সূক্ষ্ম ভারসাম্যের ওপর। বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন, পৃথিবী যদি সূর্যের আরেকটু কাছে হতো, তবে হয়তো এখানে কোনো মহাসাগরই তৈরি হতো না। তা ছাড়া সূর্য সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও বেশি উজ্জ্বল ও উত্তপ্ত হচ্ছে। বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, আগামী প্রায় ৫০ কোটি বছরের মধ্যে পৃথিবী জটিল কোনো জীব প্রজাতি বা গাছপালার বেঁচে থাকার জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠবে, কারণ তখন সূর্য অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। এর বিপরীতে, কে-ডোয়ার্ফ নক্ষত্রগুলো ধীর গতিতে পরিবর্তিত হওয়ায় এগুলোর গ্রহগুলোতে জীবন টিকে থাকার মেয়াদ অনেক দীর্ঘ হতে পারে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এসব অতি-বাসযোগ্য গ্রহে জটিল বাস্তুতন্ত্র গড়ে ওঠা সম্ভব, যেখানে উদ্ভিদ বা প্রাণীর মতো জীবের অস্তিত্ব থাকতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত পৃথিবীর বাইরে কোনো ধরনের বাস্তুতন্ত্র বা প্রাণের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একটি গ্রহে অনুকূল পরিবেশ থাকার অর্থই এই নয় যে সেখানে নিশ্চিতভাবে প্রাণের বিকাশ ঘটেছে। তাই বিজ্ঞানীরা বর্তমানে এমন গ্রহগুলো খোঁজার চেষ্টা করছেন যেগুলোতে উপযুক্ত তাপমাত্রা, তরল পানি এবং বায়ুমণ্ডলে জৈবিক কর্মকাণ্ডের লক্ষণ থাকতে পারে। মহাকাশে এ ধরনের সম্ভাবনাময় গ্রহ খুঁজতে শক্তিশালী টেলিস্কোপ ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার (ইএসএ) ‘প্ল্যাটো’ (PLATO) মিশন ২০২৭ সালে উৎক্ষেপণের কথা রয়েছে। এটি কে-ডোয়ার্ফ নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণকারী পাথুরে গ্রহগুলো শনাক্ত করতে সাহায্য করবে। এই মিশনের সঙ্গে যুক্ত রেনে হেলার আশা করছেন, এর মাধ্যমে বেশ কিছু সম্ভাবনাময় গ্রহের সন্ধান মিলবে। তবে গ্রহ শনাক্ত করাই শেষ কথা নয়। এরপর সেগুলোর বায়ুমণ্ডলে প্রাণের ইঙ্গিতবাহী কোনো গ্যাস রয়েছে কি না তা বিশ্লেষণ করতে হবে। বর্তমানে মহাকাশে থাকা ‘জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ’ এবং চিলিতে নির্মাণাধীন ‘এক্সট্রিমলি লার্জ টেলিস্কোপ’ এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারবে। এ ছাড়া ২০৪০-এর দশকে উৎক্ষেপণের জন্য নাসার প্রস্তাবিত ‘হ্যাবিটেবল ওয়ার্ল্ডস অবজারভেটর’ দূরবর্তী গ্রহগুলোতে প্রাণের সন্ধান চালানের কাজটি আরও এগিয়ে নেবে। পৃথিবীর চেয়েও বাসযোগ্য সত্যি কোনো গ্রহের অস্তিত্ব আছে কি না, তা হয়তো ভবিষ্যৎ মিশনগুলোর মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।

Frequently Asked Questions

What is প র ণ র ব ক শ?

প র ণ র ব ক শ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does প র ণ র ব ক শ matter?

প র ণ র ব ক শ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment