National

বাংলাদেশ-ভারত: সম্পর্কের পারদে আবার তাপ

Foto : Jennifer Jones - banglajibon.com
Table of Contents
  1. ভারতে শেখ হাসিনার বক্তব্য: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

ভারতে শেখ হাসিনার বক্তব্য: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন

Banglajibon.com – ব ল দ শ ভ রত – বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চায় দিল্লি। তবে সেই লক্ষ্যে এগোচ্ছে না ভারত। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এই টানাপোড়েনে উত্তাপ বাড়িয়েছে শেখ হাসিনা ইস্যু। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা যেন ভারতে থেকে রাজনৈতিক বক্তব্য না দিতে পারেন, সে জন্য আগেই বাংলাদেশের আহ্বান। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি।

গত বুধবার নতুন দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে শেখ হাসিনা বক্তব্য দেন। এটি করা হয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির দিনেই। বিষয়টি সহজভাবে নেয়নি ঢাকা। কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া টানাপোড়েন অবশ্যই বাড়াবে।

ভারতের অবস্থান ও বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়া

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর থেকে প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে অবনমন হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর প্রতিফলনও দেখা গেছে। তবে গত ফেব্রুয়ারি দেশে নির্বাচিত সরকার আসার পর থেকে সম্পর্কের বরফ ধীরে ধীরে গলতে শুরু করে।

দুই দেশের মধ্যে ভিসা আদান-প্রদান ছাড়াও ছোট ছোট নানা ইতিবাচক পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছিল। এর মধ্যে কয়েক দিন আগে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে, গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির দিন ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা নতুন দিল্লিতে সাংবাদিকদের এক আয়োজনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেবেন। এটা ঠেকাতে সক্রিয় হয় বাংলাদেশ।

কূটনৈতিক চেষ্টা ও ভারতের প্রতিক্রিয়া

শেখ হাসিনা ভারতে বসে যাতে রাজনৈতিক বক্তব্য না দিতে পারেন, সে বিষয়ে ৩ আগস্ট দেশটির সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। ভারতে বসে শেখ হাসিনা রাজনৈতিক কার্যক্রম চালালে দেশটির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিদেবীকে জানিয়েছিলেন উপদেষ্টা।

পরদিন ৪ আগস্ট পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়দ ভারত সরকারকে এ বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিকে ঘিরে এমন আয়োজন দুই দেশের সম্পর্ককে স্বাভাবিক করার চেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জসওয়াল ৪ আগস্ট জানান, শেখ হাসিনার নির্ধারিত ভার্চুয়াল বক্তব্যের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

ওই অনুষ্ঠানে যে মতামত প্রকাশ করা হতে পারে, ভারত সরকার তাতে কোনো সমর্থন দিচ্ছে না। তবে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়া ঠেকাতে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি ভারতের সরকার।

বিভিন্ন স্তরের প্রতিক্রিয়া

গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির দিনে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ঢাকা। বুধবার রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলেছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে এ অনুষ্ঠানের প্রভাব নিয়ে আগে থেকে ভারত সরকারের কাছে উদ্বেগ জানানোর পরও তা হতে দেওয়ার গভীর ক্ষোভ জানাচ্ছে ঢাকা।

বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী ভারত শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে না দিয়ে তাঁকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়ে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে অপমান করেছে বলে মন্তব্য করেছেন রুহুল কবির রিজভী। ড্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর তিনি বলেন, এটা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ।

পলাতক আসামি যদি কোনো দেশে পালিয়ে থাকে, তাহলে সেই দেশ থেকে তো রাজনীতি করার সুযোগ পেতে পারে না। তিনি সেখান থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য অনর্গল অডিও রেকর্ড পাঠাচ্ছে, বার্তা পাঠাচ্ছে।

এদিকে গতকাল বাংলা একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেছেন, শেখ হাসিনাকে ভারতে বসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া এবং অডিও কলের মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে ভারত সরকারের একটি দুরভিসন্ধিমূলক পদক্ষেপ।

কূটনৈতিক বিশ্লেষণ

তবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সহনশীল সম্পর্ক না থাকলে দুই পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফজলে আহমেদ। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বক্তব্য প্রচারের পর সে রকমই একটা অবস্থা তৈরি হয়েছে। আমি মনে করি, এটা সঠিক হচ্ছে না। যেভাবেই হোক ভারতের সঙ্গে একটা সক্রিয়-সুন্দর সম্পর্ক রাখার প্রয়োজন আছে।

শেখ হাসিনা ভারতের আশ্রয়ে থাকা অবস্থায়ও চাইলে কৌশলে দেওয়া যেতে পারে। এ ইস্যুতে সরকারের অবস্থান আরও পরিষ্কার হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীর মন্তব্যে। গতকাল রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, দিনক্ষণ ঘোষণা দিয়ে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দিয়ে ভারত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছে।

শেখ হাসিনাকে ব্যবহার করে দেশটি বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়।

Frequently Asked Questions

What is ব ল দ শ ভ রত?

ব ল দ শ ভ রত is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ব ল দ শ ভ রত matter?

ব ল দ শ ভ রত matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment