উত্তরাঞ্চলে ১২ জেলায় বন্যার সতর্কতা, নদীসমূহে পানির স্তর বাড়ছে
Banglajibon.com – ১২ জ ল য় বন য র – ভারতের উজান থেকে আসা ভারী বৃষ্টি এবং দেশজুড়ে টানা বর্ষণের প্রভাবে আগামী তিন দিনের মধ্যে উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও উত্তর-মধ্যাঞ্চলের বহু এলাকায় পানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, এই সময়ে অন্তত দ্বাদশটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
নদীসমূহে পানির স্তর বৃদ্ধির পূর্বাভাস
পূর্বাভাস অনুযায়ী, তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর জলস্তর আগামী দুই থেকে তিন দিন ধরে বাড়তে থাকতে পারে। এর মধ্যে কিছু নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে বা তার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহসহ আশপাশের নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, তিস্তা অববাহিকার লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার নিম্নাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। উজানের ভারী বৃষ্টির কারণে তিস্তা ও এর শাখা নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানিও বাড়ছে, যার প্রভাবে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের চরাঞ্চল এবং নদীতীরবর্তী এলাকায় পানি প্রবেশ করতে পারে।
তিস্তা ব্যারেজে পানির স্তর ও জলকপাট খোলার তথ্য
ডালিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্র জানায়, আজ বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার সেচপ্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ ডালিগঞ্জ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ৫২ দশমিক ১৩ মিটার, যা বিপৎসীমার (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ১৫ মিটার) ২ সেন্টিমিটার নিচে।
এর আগে সকাল ৬টা ও ৯টায় পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার উপরে প্রবাহিত হয়েছিল। পরে পানির উচ্চতা কমতে থাকে। এর ধারাবাহিকতায় সকাল ১১টায় বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার নিচে, দুপুর ১২টায় ৬ সেন্টিমিটার, বেলা ২টায় ২ সেন্টিমিটার ও ৪টায় স্বাভাবিক উচ্চতায় প্রবাহিত হয়।
তিস্তা ব্যারেজে পানির চাপ কমাতে ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। এদিকে নীলফামারীর ডালিগঞ্জ পয়েন্টে তিস্তার পানি বিকেল ৬টায় বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে।
সিলেট ও উত্তর-মধ্যাঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি
সিলেট বিভাগের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিও বাড়ছে। ভারতের মেঘালয় ও আসামে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় আগামী কয়েক দিনে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলে নতুন করে প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে। নদীতীরবর্তী বসতি, হাওরাঞ্চল এবং গ্রামীণ সড়কে পানি ওঠার শঙ্কার কথা জানিয়েছে পূর্বাভাস কেন্দ্র।
উত্তর-মধ্যাঞ্চলেও বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। সোমেশ্বরী, ভোগাই-কংস এবং পুরাতন ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে পারে এই সময়ে। বিশেষ করে পাহাড়ি ঢলের কারণে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে পূর্বাভাস কেন্দ্র।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস ও স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় রয়েছে। এর প্রভাবে আগামী কয়েক দিন দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি ভারতের উজানেও ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে নদ-নদীর পানি আরও বাড়বে এবং বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, এটি আপাতত স্বল্পমেয়াদি বন্যার পূর্বাভাস। বৃষ্টিপাত কমে গেলে অধিকাংশ নদীর পানি ধীরে ধীরে নামতে পারে। তবে টানা ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হবে।
এদিকে সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নদীর পানি ও আবহাওয়ার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ১২ জ ল য় বন য র?
১২ জ ল য় বন য র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ১২ জ ল য় বন য র matter?
১২ জ ল য় বন য র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
