বন্যার আশঙ্কা উঠেছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে
১০ জ ল য় বন য র – টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান অঞ্চলে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব, উত্তরাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে কমপক্ষে ১০ জেলায় বন্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। বাপাউবো বলেছে যে আগামী তিন দিন এই অঞ্চলগুলোতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর
পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে যে বান্দরবানের সাঙ্গু নদী এবং কক্সবাজারের মাতামুহুরি নদী বিপৎসীমার পারে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে সিলেট ও সুনামগঞ্জে কুশিয়ারা নদী সতর্কসীমায় রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী ইমন কল্যাণ দাস বলেছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে। ভারতের মেঘালয়, ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ ও অরুণাচল প্রদেশেও একই ধরনের বৃষ্টিপাত দেখা গেল।
প্রবাহিত পানির প্রত্যাশা
আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী তিন দিনে চট্টগ্রাম বিভাগে গোমতী, মুহুরি, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীগুলোর পানি আরও দ্রুত বাড়তে পারে। এ কারণে বান্দরবান ও কক্সবাজারে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বন্যার পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
পাহাড়ি অঞ্চলে ভয়ের সৃষ্টি
ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির বিভিন্ন স্থানে নদীগুলোর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নদীসংলগ্ন নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে যে তিস্তা নদীর পানি নীলফামারীর ডালিয়া, লালমনিরহাটের কাউনিয়া ও গাইবান্ধার তারাপুর স্টেশনে সতর্কসীমা ছুঁয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পানিও সতর্কসীমা ছুঁয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
উত্তরাঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নীলফামারী, লালমনিরহাট এবং রংপুর জেলার নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হতে পারে।
তবে দেশের প্রধান নদী ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মার পানি আগামী কয়েক দিনে কিছুটা বাড়লেও বিপৎসীমার নিচে থাকবে। ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে সীমান্তবর্তী ও পাহাড়ি ঢলপ্রবণ এলাকাগুলোর পরিস্থিতি আরও দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে।
