National

সব ধর্মের মানুষের সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতে জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

Fakrul_bm8lWTc
Foto : Matthew Wilson - banglajibon.com
Table of Contents
  1. সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

Banglajibon.com – সব ধর ম র ম ন ষ – সব ধর্মের নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি জাতীয় কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে বুধবার সকালে বঙ্গভবনে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও দেশজুড়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে পাঠানো বার্তায় তিনি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও দেশের প্রতিটি মানুষ সমানভাবে রাষ্ট্রের নাগরিক। তাই অধিকার, মর্যাদা, আইনগত সুরক্ষা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নে কারও সঙ্গে ভিন্ন আচরণ গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সংবিধান সব নাগরিকের জন্য যে সমতার ভিত্তি স্থাপন করেছে, তা বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

“ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারও সবার।”

হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব সম্প্রদায়ের মানুষকে বাংলাদেশের সমঅধিকারসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, সাংবিধানিকভাবে প্রত্যেকের মর্যাদা ও নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা স্বীকৃত। এই অধিকার কেবল নীতিগত অঙ্গীকারে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব জীবনেও কার্যকর করা জরুরি বলে তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

সম্প্রীতি রক্ষায় সতর্ক থাকার তাগিদ

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ, সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক সংঘাত চলার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে নানা ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব উদ্‌যাপনকে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বর্ণনা করেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর মতে, পারস্পরিক সহাবস্থান ও সামাজিক সম্প্রীতিই দেশের শক্তি এবং জাতীয় অস্তিত্বের একটি ভিত্তি। এই পরিবেশ যে কোনো পরিস্থিতিতে ধরে রাখার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

তিনি সতর্ক করে বলেন, গুজব, অপপ্রচার এবং ধর্মীয় উগ্রতাকে ব্যবহার করে সমাজে বিভাজন তৈরির চেষ্টা হতে পারে। এমন অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সবাইকে দৃঢ় অবস্থানে থাকতে হবে। বিশেষত তরুণদের সত্য, ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

“কখনো কখনো গুজব, অপপ্রচার ও ধর্মীয় উগ্রতার মাধ্যমে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা হয়। এসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আমাদের দৃঢ় ও আপসহীন থাকতে হবে।”

রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে জাতীয় ঐক্য রক্ষার বিষয়টিও বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। তিনি বলেন, দেশ গঠনের দায়িত্ব সকল নাগরিকের; বিভেদ উসকে দিয়ে কোনো অপশক্তিকে জাতীয় অগ্রগতি ব্যাহত করতে দেওয়া যাবে না। পারস্পরিক সম্মান, সাম্য এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

ঐতিহাসিক সহাবস্থানের কথা স্মরণ

বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ আখ্যা দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই ভূখণ্ডে বহু শতাব্দী ধরে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক বজায় রেখে বসবাস করে আসছে। মহান মুক্তিযুদ্ধ, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণ জাতীয় ঐক্যকে সুদৃঢ় করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ উৎসবের মূল বার্তা অশুভ শক্তির অবসান এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের বিজয়। ধর্ম, বর্ণ কিংবা গোষ্ঠীগত পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক বৈষম্য বা নির্যাতনের শিকার হবেন—এমন পরিস্থিতি মেনে নেওয়া যায় না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

“এই দেশ আমাদের সকলের। সকলে মিলে দেশকে গড়তে হবে। কোনো অপশক্তিকে বিভেদ সৃষ্টি করে জাতীয় ঐক্য ও অগ্রগতি বিনষ্ট করতে দেওয়া যাবে না।”

ধর্মীয় উৎসবের সময় নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়েও রাষ্ট্রপতি নির্দেশনার কথা জানান। সব ধর্মের মানুষ যাতে নির্ভয়ে ও আনন্দের সঙ্গে ধর্মীয় আচার পালন করতে পারেন, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এ ধরনের প্রস্তুতি শুধু উৎসবকেন্দ্রিক নিরাপত্তার জন্য নয়, নাগরিক আস্থা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

বঙ্গভবনে শুভেচ্ছা বিনিময়

অনুষ্ঠানে বঙ্গভবনের ক্রেডেনশিয়াল হলে রাষ্ট্রপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ এবং মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির নেতারা। পরে রাষ্ট্রপতি আগত অতিথি ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

বিজয়া দশমী উপলক্ষে উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের স্বাগত জানিয়ে তিনি বঙ্গভবনে তাঁদের উপস্থিতিকে আনন্দের বলে অভিহিত করেন। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগমও উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন, প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী—প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার—বিজন কান্তি সরকার এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

রাষ্ট্রপতির জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বানটি সব ধর্মের মানুষের নাগরিক সুবিধা ও অধিকার নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রয়োজনের দিকে দৃষ্টি দেয়। তাঁর বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল—ধর্মীয় বৈচিত্র্যকে বিভেদের কারণ নয়, বরং পারস্পরিক আস্থা, মানবিকতা ও জাতীয় সংহতির শক্তি হিসেবে ধরে রাখতে হবে।

Frequently Asked Questions

What is সব ধর ম র ম ন ষ?

সব ধর ম র ম ন ষ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does সব ধর ম র ম ন ষ matter?

সব ধর ম র ম ন ষ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment