তাদের ছেড়ে দেব না, বাঁধনের ওপর হামলা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা
Table of Contents
ভেনিসের পার্কে অভিনেত্রীর ওপর হামলা: আইনানুগ পদক্ষেপের ঘোষণা ও রাজনৈতিক তীব্রতা
Banglajibon.com – ত দ র ছ ড় দ ব – ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের আসরে যোগ দিতে সপরিবারে ইতালি গমনকারী বাংলাদেশি অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর স্থানীয় পার্কে হামলার ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবারের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্টভাবে বক্তব্য দেন যে, ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত সব প্রক্রিয়া ইতালির আইনতন্ত্রের আওতায় শুরু হয়ে গেছে এবং সরকার এই মামলাকে কোনোভাবেই অবহেলা করবে না।
হামলার বিস্তারিত: পার্কে ঘোরাফেরার সময় আঘাত ও অপমান
ঘটনার দিন বাঁধন তাঁর ভাইয়ের পরিবারসহ একটি পার্কে ঘোরাফেরা করছিলেন। সেখানে একদল বাংলাদেশি প্রবাসী তাঁর দিকে এগিয়ে আসে। তাঁদের হাতে ছিল ডিম, পানি এবং কোমল পানীয়ের বোতল — যা একের পর এক বাঁধনের শরীরে নিক্ষেপ করা হয়। শারীরিক আঘাতের পাশাপাশি তাঁর মুঠোফোন হাত থেকে ছিটকে ফেলে দেওয়া হয়, কানের পাশে আঘাত লাগে। ঘটনার সময় তাঁর ভাইয়ের শিশুসন্তানও সেখানে উপস্থিত ছিলেন; হামলাকারীদের থামাতে শিশুটির কথা বলতে শোনা যায় ভিডিওতে। জবাবে একজন হামলাকারী বলেছিলেন, “কিসের আবার বাচ্চা, ওকে জয় বাংলা বলতে হবে।”
প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে কয়েকজনকে বাঁধনের দিকে তেড়ে যেতে, ধস্তাধস্তি করতে এবং উত্তেজিত ভাষায় কথা বলতে দেখা যায়। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন তাঁকে “জুলাই জঙ্গি” বলে আখ্যা দেন। একটি ভিডিওতে একজনকে বলতে শোনা যায়, “সে একজন ‘জুলাই জঙ্গী’। সে এখন ভেনিসে, আমরা ভেনিস ছাত্রলীগ এই দেশদ্রোহী ‘জঙ্গি’কে ধরেছি।” তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও আক্রমণাত্মক মন্তব্যের সুর ভিডিওতে পরিষ্কার।
বাঁধনের নিজের বর্ণনা: ফেসবুক লাইভে বিস্তারিত
সোমবার মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে বাঁধন পুরো ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, তাঁর শরীরে পানি ও কোক ছুড়ে মেরে একদম ভিজে যাওয়া হয়েছে। কানের পাশে আঘাত লাগে, ফোন ফেলে দেওয়া হয়। ভাইয়ের স্ত্রীকেও ধাক্কা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাঁকে জোর করে “জয় বাংলা” স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয় বলে তিনি জানান।
“তারা বলেছে, আমি জুলাই যোদ্ধা। ইয়েস, আই অ্যাম। আমি অবশ্যই জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি।”
“তারা বলেছে যে তারা বঙ্গবন্ধুর সৈনিক। তারা আমাকে বলেছে যে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে জোর করে। তো এবং তারা সেগুলো ভিডিও করেছে এবং সেগুলো তারা লাইভ করছিল, আপলোড করছিল।”
ঘটনার পর বাঁধন স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ভিডিও বার্তায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জি-র কথাও উল্লেখ করেন তিনি — জানতে পেরেছেন যে সজীবও ভেনিসে আছেন এবং তাঁর কাছে এই ঘটনা পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেছেন।
তথ্য উপদেষ্টার প্রতিক্রিয়া: “মাফিয়া গ্যাং” আখ্যা ও ধন্যবাদ
সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের উত্তরে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ইতালিতে আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং সরকার এটি ছেড়ে দেবে না। তিনি বাঁধনের উদ্দেশ্যে বলেন:
“আমি বাঁধনের উদ্দেশ্যে বলব, আওয়ামী মাফিয়া গ্যাংয়ের হেনস্তা হওয়ার শিকার হওয়া এক ধরনের অর্জন। আপনি আসলে সঠিক পথে ছিলেন, এটা তার প্রমাণ।”
আরও এক জায়গায় তিনি আওয়ামী লীগকে সরাসরি “মাফিয়া গ্যাং” বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, এই দলকে রাজনৈতিক দল হিসেবে মেনে নেওয়া হয় না। তিনি যোগ করেন, এই সহিংসতাই প্রমাণ করে যে দলটি রাজনীতিতে ফিরে আসার উদ্দেশ্যে কাজ করছে না — বরং সহিংসতাই তাদের পদ্ধতি।
“আজমেরী হক বাঁধনের ওপরে হামলা হয়েছে। যাঁরা এটা করেছেন তাঁদের একটু ধন্যবাদও দেওয়ার আছে। আওয়ামী লীগ কী বস্তু? আওয়ামী লীগ কারা করেন? তাঁরা আমাদের সামনে আবার হাজির করছেন।”
প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক তাৎপর্য
বাঁধন ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে একটি চলচ্চিত্র নিয়ে অংশ নিচ্ছিলেন। উল্লেখযোগ্য যে, ওই ছবির পরিচালক রুবাইয়াত হোসেন, যার পিতা আওয়ামী লীগের একজন মন্ত্রী ছিলেন। বাঁধন এই তথ্য উল্লেখ করে হামলাকারীদের প্রতি উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনারা একটু খবর নিয়ে দেখবেন। সো আমি তাঁর সঙ্গে কাজ করেছি এবং জুলাইয়ের পরেই কাজ করেছি।”
ঘটনার পর বাঁধনের মুখে-চোখে আতঙ্কের ছাপ লক্ষ্য করা যায়; আঘাতে মুখ ফুলে ও লাল হয়ে যায়। তবে তিনি স্পষ্টভাবে প্রতিবাদ জানান:
“একজন আজমেরী হক বাঁধনকে দমানো এত সহজ হবে না। আপনারা আজ সারা বিশ্বের মানুষকে দেখালেন, বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী একজন অভিনেত্রীকে হেনস্তা করা হলো।”
“আপনাদের এই অসংলগ্ন আচরণ থেকে বেরিয়ে আসা উচিত ছিল, আপনারা তা করতে পারেননি। আপনারা ভেবেছেন, এভাবে করেই হতো পরবর্তীকালে নিজেদের জায়গাটা ফের সুগঠিত করতে পারবেন। সেটা আমার মনে হচ্ছে না।”
প্রবাসে বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে রাজনৈতিক বিভাজনের প্রভাব এই ঘটনায় নতুন করে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একটি চলচ্চিত্র উৎসবের পার্কে পরিবারসহ ঘোরাফেরার সময় এমন আক্রমণ শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রশ্ন নয় — এটি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিত্ব ও নাগরিকদের বিদেশে নিরাপদে চলাফেরার অধিকারের প্রশ্নও। তথ্য উপদেষ্টার ঘোষণা অনুযায়ী আইনানুগ পদক্ষেপের ফলাফল নিয়ে সরকার নজর রাখবে বলে বোঝা যায়।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ত দ র ছ ড় দ ব?
ত দ র ছ ড় দ ব is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ত দ র ছ ড় দ ব matter?
ত দ র ছ ড় দ ব matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
