Islam

চামড়ার কারুশিল্পে বেলুচি মুসলমানদের মুনশিয়ানা

Table of Contents
  1. পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে চামড়ার কারুশিল্পে আগ্রহ ফিরে আসছে
  2. তারাক্কি ফাউন্ডেশনের সহযোগিতার ফলে আশার আলো

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে চামড়ার কারুশিল্পে আগ্রহ ফিরে আসছে

চ মড় র ক র শ ল – বেলুচিস্তানের সিব্বি জেলার লহড়ি এলাকায় বসবাস করেন মোহাম্মদ হাসান। তাঁর চামড়ার ওপর সুই-সুতার কাজ করার দক্ষতা তাঁর পরিবারের ঐতিহ্যের অংশ। তিনি বলেন, ‘আমার দাদার আমলে এই কাজ শুধুমাত্র রূপায়িত করতে পারেনি, পরে আমরা আধুনিকতার সাথে এটিকে জুড়ে ফেলেছি।’ হাসানের হাতে নান্দনিক নকশা তৈরির প্রক্রিয়ায় মানুষের চোখের দৃষ্টি ক্ষীণ হয়ে এসেছে, কিন্তু কাজ চলতে শুরু করলে তাঁর হাতের অসাধারণ দক্ষতা যন্ত্রের গতিতে কাজ করে।

কাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে হাসান চিন্তিত

বাজারজাতকরণের সঠিক পন্থা পাওয়া না গেলে হাসানের ভাষায় বলা হয়েছে, নতুন প্রজন্ম এই শিল্পে আর কোনো আগ্রহ দেখছে না। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘পূর্বে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিল অনেক মানুষ, কিন্তু এখন হাতে গোনা কয়েকজন মাত্র টিকে আছেন। আমার ভয় হয়, আমাদের ক্ষেত্রে অনন্য কারুকাজটি আর চলবে না।’

‘এটি তোমাদের বাপ-দাদার স্মৃতি, একে হারিয়ে যেতে দিয়ো না।’ বলে তিনি আমাদের সন্তানদের সম্ভবত উৎসাহিত করেছেন।

নিজের সন্তানদের প্রতি তিনি ক্ষুধিত হাত তুলে দিয়েছেন, কিন্তু তারা জীবনের সংকট বুঝতে পেরেছে। কিছু প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন, ‘এই কাজ করে আপনাদের যেখানে নুন আনতে পারেন, আমাদের ভবিষ্যৎ কেমন হবে?’

তারাক্কি ফাউন্ডেশনের সহযোগিতার ফলে আশার আলো

তারাক্কি ফাউন্ডেশন বেলুচিস্তানে এই প্রাচীন শিল্পটি বাঁচানোর জন্য কাজ করছে। বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে নারীদের দক্ষতা বিকাশের জন্য। হাসান নিয়মিত কোয়েটার গাউসাবাদ এলাকায় যান, যেখানে আফগান শরণার্থী নারীদের জন্য প্রশিক্ষণকেন্দ্র পরিচালিত হয়।

‘আগে এই কাজ সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই ছিল না, কিন্তু এখন এটি শিখতে পেরে আমার ভীষণ ভালো লাগছে।’ বলে ফাতেমা মহিলা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন।

বিশেষ করে মার্কেটিং অ্যান্ড ডিজাইনিং অ্যাসিস্ট্যান্ট সানিয়া রহমত জানান, বেলুচিস্তানের অসাধারণ শিল্পটিকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে এই প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘হাতের কাজের সৌন্দর্য যন্ত্র তৈরি করা জিনিসের সম্পূর্ণ পৃথক। আমাদের কাছে সামনে এই কারুকাজের অবিস্মরণীয় ভূমিকা রয়েছে।’

তারাক্কি ফাউন্ডেশন আফগান শরণার্থী নারীদের স্বাবলম্বী করার জন্য এই কেন্দ্রটি খুলেছে। তাঁদের প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা হাসানের তৈরি করা পণ্যগুলো দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। কারুকাজটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক মহলে বেলুচিস্তানের একটি বিশেষ পরিচয় হয়ে উঠতে পারে।

Leave a Comment