International

নেপালে বন্যার এক মাস: নিহত ১৪৫৩, এখনো নিখোঁজ প্রায় ৬ হাজার

AFP__NepalDisasterFlood_16zbcKL
Foto : Mary Taylor - banglajibon.com
Table of Contents
  1. নেপালে বন্যার এক মাস: উদ্ধারকাজ চলছেই, নিখোঁজ প্রায় ৬ হাজার
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

নেপালে বন্যার এক মাস: উদ্ধারকাজ চলছেই, নিখোঁজ প্রায় ৬ হাজার

Banglajibon.com – ন প ল বন য র এক – প্রলয়ংকরী বন্যা ও ভূমিধসের এক মাস পরও নেপালের বহু জনপদে বিপর্যয়ের ক্ষত স্পষ্ট। ঘরহারা পরিবারগুলো অস্থায়ী আশ্রয়ে দিন কাটাচ্ছে, আর নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে উদ্ধারকারীদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত ১ হাজার ৪৫৩ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে; এখনো অন্তত ৫ হাজার ৬৪৪ জনের কোনো খোঁজ মেলেনি।

বিপর্যয়ের আঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের একজন নারায়ণ প্রসন্ন। সৌদি আরবে পাঁচ বছর কাজ করে সঞ্চিত অর্থ নিয়ে দেশে ফেরার পর ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে তাঁর বাড়ি ধ্বংস হয়েছিল। পরিবারকে ঘুরে দাঁড় করাতে তাঁকে আবার বিদেশে যেতে হয়। পরে কষ্টার্জিত অর্থে নতুন বাড়ি নির্মাণ করে পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস শুরু করেছিলেন। গত মাসের বন্যা ও ধস সেই নতুন আশ্রয়ও কেড়ে নিয়েছে।

ভিটেমাটি হারিয়ে এখন তিনি স্বজনের বাড়িতে পরিবারসহ আশ্রয় নিয়েছেন। ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় আবারও বিদেশে কাজের কথা ভাবছেন প্রসন্ন।

এই বন্যা আমার সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। আমি এখন কী করব, কিছুই বুঝতে পারছি না।

তাঁর মতো হাজারো মানুষ ঘর, জমিজমা ও জীবিকার উৎস হারিয়েছেন। অনেক পরিবারে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা একাধিক। উদ্ধার অভিযানে কর্মরতদের ধারণা, নিখোঁজদের একটি অংশ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ছয়টি সুড়ঙ্গে আটকা পড়তে পারেন। দুর্গম এলাকা, ধ্বংসপ্রাপ্ত সড়ক এবং বিচ্ছিন্ন যোগাযোগব্যবস্থা উদ্ধার তৎপরতাকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

পরিচয় শনাক্তে দীর্ঘ অপেক্ষা

উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত মাত্র ১১২টি মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়েছে। পরিচয় স্থির না হওয়ায় ১ হাজার ৩৩৩টি মরদেহ সাময়িকভাবে দাফন বা সৎকার করা হয়েছে।

নিখোঁজদের মধ্যে কমপক্ষে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে চীন সীমান্তের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। কাঠমান্ডুর নেপাল পুলিশ হাসপাতালে বিশেষ তাঁবুতে স্বজনদের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরিচয় নির্ধারণের কাজে ভারত ছাড়াও চীন, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়ার ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছেন।

জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের শ্রমিক রবি কুমার থাপা মগার বন্যায় স্ত্রী, ভাই, ভাবি ও মাকে হারিয়েছেন। পুলিশের দেখানো ছবিতে তিনি তাঁর স্ত্রীর মরদেহ চিনতে পেরেছিলেন। কিন্তু আইনি ও বৈজ্ঞানিক যাচাই শেষ না হওয়ায় মরদেহটি এখনো পরিবারের হাতে দেওয়া হয়নি। পূর্ণ ডিএনএ প্রোফাইলিং শেষ হতে অন্তত এক মাস লাগতে পারে বলে তাঁকে জানানো হয়েছে।

অপেক্ষার সেই ভার সহ্য করতে না পেরে পরিবারকে প্রতীকী কুশপুত্তলিকা দাহের মাধ্যমে শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হয়েছে। বহু শোকাহত পরিবারের কাছে প্রিয়জনের মরদেহ পাওয়া বা তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া এখনো অধরা রয়ে গেছে।

স্কুলগামী শিশুদের ওপর ভয়াবহ আঘাত

২৬ আগস্ট সকালের বন্যা আঘাত হেনেছিল এমন সময়ে, যখন বহু শিক্ষার্থী স্কুলে পৌঁছাচ্ছিল। নুওয়াকোটের একটি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ৩২ বছর বয়সী পাসং মায়া তামাং তাঁর ছোট ছেলেকে হারিয়েছেন। শিশুটি এক প্রতিবেশীর সঙ্গে স্কুলে গিয়েছিল। পরে তিনি জানতে পারেন, স্রোতে পুরো স্কুলভবন ভেসে গেছে।

তিন দিন পরে দক্ষিণাঞ্চলের একটি জেলা থেকে তাঁর ছেলের মরদেহ উদ্ধার হয়। দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে সেখানে গিয়ে শেষবার সন্তানের মুখ দেখার সুযোগ পাননি তামাং।

আমার ছেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, কিন্তু তাকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগটুকুও আমি পাইনি। স্বপ্নে আমি স্পষ্ট শুনি—সে আমাকে প্রশ্ন করছে, কেন আমি তাকে এভাবে একা ফেলে রেখে গেলাম?

স্থানীয় বাসিন্দা অস্ত মান ডাংগোল বলেন, উদ্ধার হওয়া কয়েকজন শিশুর শরীরে তখনো স্কুলের লোগোযুক্ত টাই ছিল। তাঁর ভাষ্য, বয়সে বড় শিক্ষার্থীরা দ্রুত উঁচু পাহাড়ের দিকে ছুটে গিয়ে নিজেদের বাঁচাতে পেরেছিল। ছোট শিশুরা স্রোতের তীব্রতার সঙ্গে পাল্লা দিতে না পারায় অনেকেই ভেসে যায়।

পুনর্গঠন ব্যয় ৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার

নেপাল সরকারের প্রাথমিক হিসাব বলছে, পুনর্গঠন ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে প্রায় ৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে। বন্যায় সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩৩ হাজার। আংশিক বা পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে সাড়ে সাত হাজারের বেশি ঘরবাড়ি।

ত্রাণ পৌঁছানো এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে নষ্ট হয়ে যাওয়া অবকাঠামো। পাহাড়ি এলাকায় রাস্তা, সেতু ও যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বহু জনপদ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। তাই সড়ক ও সেতু পুনর্নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যাতে উদ্ধার, ত্রাণ এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া যায়।

জলবায়ু ঝুঁকি নিয়ে আন্তর্জাতিক আহ্বান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে নিজের প্রথম ভাষণে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ হিমালয় অঞ্চলে বাড়তে থাকা জলবায়ু ঝুঁকির প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি এই দুর্যোগকে কেবল নেপালের সংকট হিসেবে না দেখে আন্তর্জাতিক সতর্কতা হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানান।

বিপর্যয়টি কেবল একটি আঞ্চলিক ট্র্যাজেডি নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। আমি আজ আপনাদের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই—আমরা কি সত্যিই সেই সতর্কবার্তা শুনতে পেরেছি?

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি সামাল দিতে আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর পাশাপাশি আঞ্চলিক দুর্যোগ মোকাবিলায় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, হিমবাহ গলে যাওয়া বা বন্যার মতো বিপদ কোনো রাষ্ট্রসীমা, পাসপোর্ট কিংবা ভিসা মানে না।

নেপালের সামনে তাই এখন দ্বৈত লড়াই—একদিকে নিখোঁজদের সন্ধান ও শোকাহত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো, অন্যদিকে বিধ্বস্ত জনপদ পুনর্গঠন করে মানুষকে নিরাপদ জীবনে ফেরানো। এক মাস পেরিয়ে গেলেও বহু পরিবারের জন্য দুর্যোগের শেষ অধ্যায় এখনো লেখা হয়নি।

Frequently Asked Questions

What is ন প ল বন য র এক?

ন প ল বন য র এক is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ন প ল বন য র এক matter?

ন প ল বন য র এক matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment