চন্দ্রনাথ হত্যায় জড়িত ‘ভাইপো গ্যাং’—অভিষেককে দায়ী করলেন শুভেন্দু
Table of Contents
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের প্রচারে চন্দ্রনাথ হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ শুভেন্দুর
Banglajibon.com – চন দ রন থ হত য য় – নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনকে সামনে রেখে চন্দ্রনাথ রাঠ হত্যাকাণ্ড ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক অভিযোগ তুললেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, সাবেক সহযোগী চন্দ্রনাথকে হত্যার পরিকল্পনায় ভাড়াটে খুনিদের ২ কোটি রুপি দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের নিয়ে গঠিত কথিত ‘ভাইপো গ্যাং’-এর সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রাঠের সমর্থনে আয়োজিত রোডশোতে এই মন্তব্য করেন শুভেন্দু। হাসিরানি রাঠ নিহত চন্দ্রনাথ রাঠের মা। নন্দীগ্রাম আসনের উপনির্বাচনে অংশ নিতে তিনি ইতিমধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আগামী ৬ অক্টোবর।
সহযোগিতার কারণেই হত্যার অভিযোগ
চন্দ্রনাথ রাঠ বিরোধী দলীয় নেতাকে সহযোগিতা করেছিলেন বলেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে—প্রচারণার মঞ্চে এমন দাবি করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর ভাষ্য, রাজনৈতিক আনুগত্য ও সহযোগিতাই চন্দ্রনাথের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
“চন্দ্রনাথের সবচেয়ে বড় অপরাধ ছিল, তিনি বিরোধী দলীয় নেতাকে সহযোগিতা করেছিলেন। এ কারণেই তাঁকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
শুভেন্দুর অভিযোগে চন্দ্রনাথ হত্যার ঘটনাটি শুধু একটি অপরাধমূলক মামলা নয়, বরং এর সঙ্গে রাজনীতির প্রভাবও যুক্ত। তবে তাঁর এই বক্তব্যের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের প্রতিক্রিয়ার কোনো তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকায় অভিযোগগুলোর সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।
২ কোটি রুপির ‘সুপারি’র দাবি
রোডশোতে শুভেন্দু বলেন, তাঁর কাছে আসা তথ্য থেকে তিনি মনে করছেন হত্যার পেছনে কথিত ‘ভাইপো গ্যাং’ সক্রিয় ছিল। তাঁর দাবি, খুনের কাজটি সম্পন্ন করতে পেশাদার অপরাধীদের ২ কোটি রুপি দেওয়া হয়। ডায়মন্ড হারবার এলাকার কয়েকজন ব্যক্তির কথোপকথনের কল রেকর্ডিং তিনি শুনেছেন বলেও জানান তিনি।
“আমি যে তথ্য পেয়েছি, তাতে এই ঘটনার পেছনে ভাইপো গ্যাং রয়েছে। ভাড়াটে খুনিদের ২ কোটি রুপি দেওয়া হয়েছিল।”
তবে ওই কল রেকর্ডিং বা অন্য কোনো তথ্যের বিস্তারিত প্রকাশ করেননি শুভেন্দু। বিচারাধীন মামলার বিষয়ে সীমিত পরিসরে কথা বলার কারণও তুলে ধরেন তিনি। রাজনৈতিক সমাবেশে উত্থাপিত এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে তদন্তের নথি, আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণ এবং বিচারিক সিদ্ধান্ত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
মধ্যমগ্রামে গুলিতে নিহত হন চন্দ্রনাথ
২০২৬ সালের ৬ মে কলকাতার কাছের মধ্যমগ্রামে দুষ্কৃতকারীদের গুলিতে নিহত হন চন্দ্রনাথ রাঠ। হত্যার সময় শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন না। ঘটনার তদন্তে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। সংস্থাটি আদালতে অভিযোগপত্রও দাখিল করেছে।
গ্রেপ্তার ও অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার ফলে মামলাটি এখন বিচারিক পর্যায়ে রয়েছে। এই পর্যায়ে তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ এবং অভিযুক্তদের বক্তব্য—দুই দিকই আদালতের বিবেচনায় আসবে। আইনগতভাবে অভিযোগপত্র দাখিল মানেই কারও অপরাধ চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হওয়া নয়; আদালতের রায়ই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে।
অভিযুক্তদের কঠোরতম দণ্ডের আশা প্রকাশ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, চন্দ্রনাথ হত্যায় দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত।
“আমি বিশ্বাস করি, তাদের ফাঁসি হবে।”
উপনির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে ইস্যুটি
নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনী প্রচারে নিহতের মা হাসিরানি রাঠকে বিজেপি প্রার্থী করায় চন্দ্রনাথ হত্যাকাণ্ড স্বাভাবিকভাবেই প্রচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। পরিবারের সদস্যকে প্রার্থী করার মধ্য দিয়ে বিজেপি ঘটনাটিকে ভোটারদের সামনে রাজনৈতিক ও মানবিক—দুই মাত্রাতেই তুলে ধরছে। অন্যদিকে, হত্যার তদন্ত ও আদালতের কার্যক্রম চলতে থাকায় এ ইস্যুতে প্রচারমূলক বক্তব্যের পাশাপাশি বিচারিক অগ্রগতির দিকেও নজর থাকবে।
নন্দীগ্রাম আসনটি শূন্য হওয়ার পেছনে রয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর দ্বৈত নির্বাচনী জয়ের ঘটনা। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্রেই জয়ী হন। পরে ভবানীপুর আসনটি ধরে রেখে নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়।
ভবানীপুরে সেই নির্বাচনে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজার ১০৫ ভোটে পরাজিত করেছিলেন শুভেন্দু। ফলে নন্দীগ্রামের ভোট কেবল একটি শূন্য আসন পূরণের নির্বাচন নয়; সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, স্থানীয় প্রচারের বার্তা এবং চন্দ্রনাথ রাঠ হত্যাকাণ্ডের মতো সংবেদনশীল বিষয়ও এতে প্রভাব ফেলতে পারে।
৬ অক্টোবরের ভোটের আগে প্রচারণা যত এগোবে, ততই এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক বক্তব্য জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু মামলার অভিযোগ, গ্রেপ্তার এবং সম্ভাব্য দায় নির্ধারণের প্রশ্নে শেষ কথা বলবে আদালতই।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is চন দ রন থ হত য য়?
চন দ রন থ হত য য় is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does চন দ রন থ হত য য় matter?
চন দ রন থ হত য য় matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
