গাজার মানুষ ঈদের আনন্দ হারিয়েছেন
ক রব ন ছ ড় ই এব – গাজার মানুষ যুদ্ধ, অবরোধ ও পুনরুত্থানের মধ্যে এবার ঈদুল আজহার উপলক্ষে সামান্য আশার আলো সামনে রেখে আনন্দ পাচ্ছেন না। এই ভূখণ্ডের বহু পরিবার তৃতীয় বছর ধরে উৎসবের শোভা হারিয়ে রয়েছেন। কোরবানি পাশাপাশি নতুন পোশাক বা হজে যাওয়ার সুযোগও দূরে সরে গেছে।
স্বপ্ন ভেঙে গেছে ইতিদাল হামদানের জন্য
গাজার একটি তাঁবুতে বসে ইতিদাল হামদান তাঁর বহু বছরের স্বপ্নের কথা স্মরণ করছিলেন। স্বামীকে সাথে নিয়ে হজে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল তাঁর। কিন্তু তাঁর স্বামী এক বছর আগে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন। তাই এবার তিনি হজে যাওয়ার সুযোগ পেলেন না।
“দশ বছরের বেশি সময় ধরে আমি এই স্বপ্ন দেখেছি। আমার স্বামী খুব হজে যেতে চাইতেন। কিন্তু সেই ইচ্ছা পূরণের আগেই তিনি নিহত হন।” – ইতিদাল হামদান
ঈদুল আজহার প্রধান অনুষঙ্গ কোরবানি। কিন্তু গাজার অধিকাংশ মানুষের জন্য এখন সেটি অসম্ভব হয়ে উঠেছে। উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া থেকে বাস্তুচ্যুত পাঁচ সন্তানের বাবা ইমাদ সুহওয়েইল বলেন, “আগে প্রতি বছর আমরা কোরবানি দিতাম, খেতাম একসঙ্গে, গরিবদের মধ্যে মাংস বিতরণ করতাম। সেই দিনগুলো খুব সুন্দর ছিল।”
যুদ্ধের আগে ভেড়ার দাম ছিল ৪০০ থেকে ৫০০ জর্ডানিয়ান দিনার। এখন সেটি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬ থেকে ১৭ হাজার শেকেল বা ৭ লাখ টাকার মতো। এতে পশুগুলোও খুব দুর্বল। সাধারণ মানুষের পক্ষে এমন দাম দিয়ে পশু কেনা সম্ভব নয়। গাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি বলেছে যুদ্ধ শুরুর পর ৯০ শতাংশের বেশি পশুখামার ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে এই অবস্থায় ঈদের অন্যান্য আনন্দও অস্ত্রোপচারে পড়েছে। ইমাদ সুহওয়েইল জানান, “এখন সন্তানদের নতুন পোশাকও কিনে দিতে পারি না। নারী, শিশু ও তরুণ সবাই ত্রাণের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে। মনে হয় আমরা যেন আলাদা এক সম্প্রদায় হয়ে গেছি, যাদের ঈদের কোনো রীতি নেই।”
৬৩ বছর বয়সী ফাওজি হামদা�
