Health

বিশ্ব হার্ট দিবস আজ: হৃদ্‌রোগের পর ওষুধ নেননি ঝুঁকিতে থাকাদের ৭৭ শতাংশ

01_wkt09xx
Foto : Mary Taylor - banglajibon.com
Table of Contents
  1. বিশ্ব হার্ট দিবসে স্ট্যাটিন ব্যবহারের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

বিশ্ব হার্ট দিবসে স্ট্যাটিন ব্যবহারের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ

Banglajibon.com – ব শ ব হ র ট দ – হার্ট অ্যাটাকের পর স্টেন্ট বসানো বা বাইপাস সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন হলেও চিকিৎসার পথ সেখানে শেষ হয় না। ভবিষ্যতে আবার হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক কিংবা অন্যান্য জটিলতা এড়াতে অনেক রোগীর দীর্ঘ সময় ধরে ওষুধ ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা প্রয়োজন। তবে বাংলাদেশে আগে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়েছেন এমন ব্যক্তিদের বড় একটি অংশ গুরুত্বপূর্ণ স্ট্যাটিন ওষুধ গ্রহণ করছেন না।

বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ের স্বাস্থ্যতথ্য বিশ্লেষণ করে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, কার্ডিওভাসকুলার রোগের ইতিহাস থাকা মানুষের মাত্র ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ স্ট্যাটিন ব্যবহার করছিলেন। অর্থাৎ প্রায় ৭৭ শতাংশেরও বেশি ব্যক্তি এই ওষুধের আওতার বাইরে ছিলেন।

‘বার্ডেন অ্যান্ড প্রিডিক্টরস অব স্ট্যাটিন ইউজ ফর প্রাইমারি অ্যান্ড সেকেন্ডারি প্রিভেনশন অব কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ ইন বাংলাদেশ: এভিডেন্স ফ্রম আ ন্যাশনালি রিপ্রেজেন্টেটিভ সার্ভে’ শিরোনামের গবেষণাটি গত বছরের মার্চে বৈশ্বিক বৈজ্ঞানিক সাময়িকী গ্লোবাল হার্ট-এ প্রকাশিত হয়। এটি পরিচালনা করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষকেরা।

জাতীয় জরিপে যে চিত্র

গবেষণার জন্য ২০১৮ সালের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্টেপস বাংলাদেশ জরিপে অংশ নেওয়া ৩ হাজার ১৪০ জনের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের বয়স ছিল ৪০ থেকে ৬৯ বছরের মধ্যে। তাঁদের মধ্যে ৪৪৩ জন আগে কোনো না কোনো কার্ডিওভাসকুলার রোগে ভুগেছিলেন। এই দলটির মাত্র ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ স্ট্যাটিন নিচ্ছিলেন।

ডব্লিউএইচও-স্টেপস বাংলাদেশ জরিপ অসংক্রামক রোগ এবং সেসব রোগের ঝুঁকি চিহ্নিত করার একটি জাতীয় স্বাস্থ্য জরিপ। এতে তামাকের ব্যবহার, খাদ্যাভ্যাস, দেহের বিভিন্ন পরিমাপ, রক্তচাপ, রক্তের শর্করা ও কোলেস্টেরলের মতো বিষয় মূল্যায়ন করা হয়। এ ধরনের তথ্য স্বাস্থ্যসেবায় কোন জায়গায় ঘাটতি রয়েছে, তা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশে হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক ও ডায়াবেটিসের মতো অসংক্রামক রোগে মৃত্যুর বোঝা বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেশভিত্তিক সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, ২০২১ সালে দেশে ইস্কেমিক হার্ট ডিজিজে প্রতি লাখে ৫৮ দশমিক ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই বছরে স্ট্রোকে মৃত্যুর হার ছিল প্রতি লাখে ৮০ দশমিক ২ জন।

স্ট্যাটিন কেন গুরুত্বপূর্ণ

স্ট্যাটিন হলো এমন একদল ওষুধ, যা রক্তের এলডিএল বা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে। এলডিএল কোলেস্টেরল বেশি থাকলে ধমনির ভেতরের দেয়ালে চর্বি ও অন্যান্য উপাদান জমে প্লাক তৈরি হতে পারে। সময়ের সঙ্গে এই জমা ধমনিকে সরু করে ফেলতে পারে। আবার প্লাক ফেটে গেলে রক্ত জমাট বেঁধে রক্ত চলাচল বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এর ফল হতে পারে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক।

তাই স্ট্যাটিনের ভূমিকা কেবল কোলেস্টেরলের সংখ্যা কমানোর মধ্যে সীমিত নয়। যাঁদের আগে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা অন্য কার্ডিওভাসকুলার সমস্যা হয়েছে, তাঁদের পুনরায় একই ধরনের ঘটনার ঝুঁকি কমাতেও এই ওষুধ ব্যবহার করা হয়। স্টেন্ট বসানোর পরও অনেক রোগীকে স্ট্যাটিন চালিয়ে যেতে হয়। কারও কারও ক্ষেত্রে এটি দীর্ঘমেয়াদি, এমনকি আজীবন ব্যবহারের ওষুধ হতে পারে।

ওষুধটি কত দিন এবং কী মাত্রায় নিতে হবে, সেটি রোগীর ব্যক্তিগত ঝুঁকি, অন্যান্য রোগ, পরীক্ষার ফল এবং চিকিৎসকের মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করে। নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ শুরু, বন্ধ বা মাত্রা পরিবর্তন করা নিরাপদ নয়।

হৃদ্‌রোগ না হলেও কারা উপকৃত হতে পারেন

গবেষণায় প্রাথমিক প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও স্ট্যাটিন ব্যবহারের ঘাটতি ধরা পড়েছে। ২০১৯ সালের ডব্লিউএইচও নির্দেশিকা অনুসারে, যাঁদের আগে হৃদ্‌রোগ হয়নি তাঁদের মধ্যে ১১ দশমিক ২ শতাংশের ঝুঁকি বিবেচনায় স্ট্যাটিন ব্যবহার উপযোগী ছিল। কিন্তু এই গোষ্ঠীতে ওষুধটি গ্রহণ করছিলেন মাত্র ৬ দশমিক ৯ শতাংশ।

শুধু রক্তে কোলেস্টেরল বেশি থাকলেই স্ট্যাটিন দেওয়া হয়—এ ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। ৪০ বছরের বেশি বয়সী ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি, উচ্চ রক্তচাপের রোগী, ধূমপায়ী অথবা যাঁদের হৃদ্‌রোগের সামগ্রিক ঝুঁকি বেশি, তাঁদের ক্ষেত্রেও চিকিৎসক স্ট্যাটিনের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করতে পারেন। কোলেস্টেরলের পরীক্ষার ফলের পাশাপাশি বয়স, রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান এবং পূর্ববর্তী রোগের ইতিহাসও সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখে।

“স্ট্যাটিন শুধু রক্তে কোলেস্টেরল বেশি থাকা ব্যক্তিদের জন্য নয়; হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বেশি থাকা লোকদেরও দেওয়া হয়। প্রাথমিক প্রতিরোধের ক্ষেত্রে যাঁদের এখনো হৃদ্‌রোগ হয়নি, কিন্তু ঝুঁকি বেশি; যেমন ৪০ বছরের বেশি বয়সী ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী বা ধূমপায়ী, তাঁদের নির্দিষ্ট ঝুঁকি বিবেচনায় স্ট্যাটিন দেওয়ার সুপারিশ রয়েছে।”

গবেষকদের অন্যতম এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ হাসপাতালের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, হৃদ্‌রোগ হওয়ার পর স্ট্যাটিনের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।

“হৃদ্‌রোগ হওয়ার পরও স্ট্যাটিন গুরুত্বপূর্ণ। এটা সেকেন্ডারি প্রিভেনশন। অর্থাৎ কারও হৃদ্‌রোগ হয়ে গেছে, এখন যাতে আবার হার্ট অ্যাটাক বা অন্য কোনো কার্ডিওভাসকুলার সমস্যা না ঘটে, সে জন্য স্ট্যাটিন দেওয়া হয়। কিন্তু আমাদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যাঁদের এই ওষুধ নেওয়া উচিত, তাঁদের ২৫ শতাংশের কম নিয়মিত স্ট্যাটিন ব্যবহার করছেন।”

নিয়মিত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি

স্ট্যাটিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে খরচ একটি বিবেচ্য বিষয় হতে পারে। তবে অনেকে নিয়মিত ওষুধ না নেওয়ার পাশাপাশি রক্তের লিপিড বা কোলেস্টেরল পরীক্ষাও করান না। ফলে নিজের ঝুঁকির মাত্রা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে আগে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, স্টেন্ট বা বাইপাসের ইতিহাস থাকলে নিয়মিত ফলোআপের গুরুত্ব অনেক বেশি।

হৃদ্‌স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ওষুধের পাশাপাশি ধূমপান এড়িয়ে চলা, সুষম খাদ্য গ্রহণ, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। বিশ্ব হার্ট দিবসের বার্তা তাই শুধু জরুরি চিকিৎসা পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; হৃদ্‌রোগের পর দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধমূলক যত্ন নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

Frequently Asked Questions

What is ব শ ব হ র ট দ?

ব শ ব হ র ট দ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ব শ ব হ র ট দ matter?

ব শ ব হ র ট দ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment