Business

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে চার খাতে অতিরিক্ত ভর্তুকির চাপ: সংসদে অর্থমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে চার খাতে অতিরিক্ত ভর্তুকির চাপ

মধ যপ র চ য স কট – অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানসহ সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছে। তিনি বিএনপির সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য ঘোষণা করেন।

সংসদে আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্ব সংঘটিত হয়। অর্থমন্ত্রী জানান, জুন পর্যন্ত তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার খাতে অতিরিক্ত ভর্তুকি ব্যয়ের প্রয়োজন হতে পারে। এ সম্পর্কে প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী মোট প্রয়োজনীয় পরিমাণ প্রায় ৪২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

তিনি বলেন, চার খাতের মধ্যে তেলে প্রায় ১০ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা, গ্যাসে ১১ হাজার ১৭০ কোটি টাকা, বিদ্যুতে ১৯ হাজার ৮২১ কোটি টাকা এবং সারে প্রায় ১ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে।

সরকার অর্থনীতির স্থায়ী সমস্যার কারণে সাধারণ জনগণ, কৃষি ও উৎপাদন খাতকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রেখেছে। এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের প্রভাব প্রধানত জ্বালানি ব্যবস্থা, আমদানি ব্যয়, পরিবহন খাত, মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা ও প্রবাস আয়ের ক্ষেত্রে বেশি দৃশ্যমান।

অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল, এলএনজি ও সারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে আমদানি ও উৎপাদন খাতে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানান, জ্বালানি মূল্যের বৃদ্ধি বিদ্যুৎ, পরিবহন ও কৃষি খাতের ব্যয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে, যা মূল্যস্ফীতির প্রতিকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্য সংকট বাংলাদেশের প্রবাসী কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে, যা বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাস আয় নিয়ন্ত্রণের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। অর্থমন্ত্রী আন্তর্জাতিক বাজারে স্থায়ী অস্থিরতার কারণে সরকার পর্যবেক্ষণ করছে।

তিনি বলেন, জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ, স্থানীয় গ্যাস খুঁজতে চালিত হওয়া, প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ বজায় রাখা, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার সতর্কতা এবং বিকল্প শ্রমবাজার খুঁজে বার করতে প্রয়োজন হচ্ছে। খাতভিত্তিক ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা হলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

Leave a Comment