Business

নিউ মুরিং টার্মিনাল: বিদেশি অপারেটরকে দেওয়ার চুক্তির খসড়া অনুমোদন

ctg-port_RtKhDtW
Foto : Matthew Wilson - banglajibon.com
Table of Contents
  1. নিউ মুরিং টার্মিনাল পরিচালনায় ১৫ বছরের কনসেশন চুক্তির খসড়া অনুমোদন
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

নিউ মুরিং টার্মিনাল পরিচালনায় ১৫ বছরের কনসেশন চুক্তির খসড়া অনুমোদন

Banglajibon.com – ন উ ম র ট র ম – চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ও এর অধীন ওভারফ্লো ইয়ার্ড পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটর যুক্ত করার উদ্যোগে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের আওতায় প্রস্তাবিত এ ব্যবস্থা ১৫ বছরের জন্য কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

রাজধানীর সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে কমিটির বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উত্থাপিত খসড়া কনসেশন চুক্তি অনুমোদিত হয়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বা সিপিএ আন্তর্জাতিক অপারেটরের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পাদন করবে।

সরকারের বিবেচনায়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে টার্মিনাল ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো গেলে এনসিটি ও ওসিওয়াইয়ের পরিচালন দক্ষতা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সামগ্রিক সেবার মান বাড়ানো সম্ভব হতে পারে। কনসেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট শর্তে পরিচালন দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগ, অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের কাঠামোও নির্ধারিত হবে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এনসিটি ও ওসিওয়াই

নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার ব্যবস্থাপনার একটি উল্লেখযোগ্য অবকাঠামো। এর সঙ্গে যুক্ত ওভারফ্লো ইয়ার্ড কনটেইনার রাখার অতিরিক্ত স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে এই দুই স্থাপনার ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন বন্দর ব্যবহারকারী, আমদানি-রপ্তানিকারক, পরিবহন খাত এবং কর্মরত জনবলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

কনসেশন চুক্তি সাধারণ ইজারা ব্যবস্থার চেয়ে বিস্তৃত ধরনের দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনা কাঠামো। এর শর্তের ওপর নির্ভর করে অপারেটরের ভূমিকা টার্মিনাল পরিচালনার বাইরেও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ পরিকল্পনা, অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ এবং কিছু বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এ কারণে চুক্তির আর্থিক ও প্রশাসনিক দিকগুলো নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

বন্দর রক্ষা কমিটির আপত্তি

বিদেশি বা আন্তর্জাতিক অপারেটরের কাছে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনার বিরোধিতা করে আসছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও আন্দোলনসংশ্লিষ্ট সংগঠন। ওভারফ্লো ইয়ার্ডসহ এনসিটিকে ১৫ বছরের কনসেশনে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে বন্দর রক্ষা কমিটি, চট্টগ্রাম। সংগঠনটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার ও সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টু যৌথ বিবৃতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

“জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল একটি বিষয় মূল এজেন্ডার বাইরে ‘বিবিধ’ হিসেবে উত্থাপন করে আলোচনায় আনা হয়েছে।”

তাঁদের বক্তব্য, এ ধরনের সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, জনস্বার্থ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক মূল্যায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। মূল আলোচ্যসূচির বাইরে বিষয়টি আনার পদ্ধতি জনমনে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে বলেও তাঁরা মনে করেন।

বন্দর রক্ষা কমিটির নেতারা বলেছেন, চুক্তির প্রতিটি ধারা জনসমক্ষে যাচাইযোগ্য হওয়া দরকার। বিশেষ করে রাজস্ব বণ্টন, বিনিয়োগের অঙ্গীকার, ঝুঁকির দায় কার ওপর থাকবে, নিরাপত্তার বিষয়, কর্মসংস্থানের শর্ত এবং চুক্তি বাতিল বা পুনর্বিবেচনার সুযোগ—এসব স্পষ্ট হওয়া জরুরি।

“শুধু পরিচালনার দায়িত্ব নয়, দীর্ঘ সময়ের জন্য রাজস্ব, বিনিয়োগ, অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা ও বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তে অপারেটরের প্রভাব তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।”

তাঁরা আরও প্রশ্ন তুলেছেন, রাষ্ট্রের নিজস্ব অর্থায়নে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠিত টার্মিনালকে দীর্ঘমেয়াদি কনসেশনে দেওয়ার আগে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এর সক্ষমতা ও আয় বাড়ানোর সম্ভাবনা যথেষ্টভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে কি না। আধুনিক প্রযুক্তি, অটোমেশন, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের মাধ্যমে দেশের প্রতিষ্ঠান ও জনবলকে আরও সক্ষম করা সম্ভব বলেও তাঁদের মত।

স্বচ্ছতা ও শ্রমিকস্বার্থের দাবি

বন্দর রক্ষা কমিটি পূর্ণাঙ্গ খসড়া কনসেশন চুক্তি এবং এর আর্থিক কাঠামো প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে স্বাধীন অর্থনৈতিক ও কারিগরি মূল্যায়ন, শ্রমিক-কর্মচারীদের চাকরি ও অধিকার সুরক্ষার নিশ্চয়তা এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার বিষয়গুলো নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

সংগঠনটির নেতাদের মতে, কোনো চুক্তি যদি দীর্ঘ সময়ে রাষ্ট্রের আর্থিক দায় বাড়ায়, রাজস্ব কমার ঝুঁকি তৈরি করে বা ভবিষ্যতের নীতিগত সিদ্ধান্তে সীমাবদ্ধতা আনে, তবে তা তাড়াহুড়ো করে চূড়ান্ত করা সমীচীন নয়। প্রয়োজন হলে স্বাক্ষরের আগে জাতীয় পর্যায়ে উন্মুক্ত আলোচনা এবং সংসদীয় পর্যালোচনার ব্যবস্থা রাখার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

এনসিটি পরিচালনায় দেশের নিজস্ব সক্ষমতা ও বিকল্প ব্যবস্থাপনার সম্ভাবনাও বিবেচনায় নেওয়ার দাবি তাদের। চূড়ান্ত চুক্তির আগে জাতীয় স্বার্থের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন না হলে সিদ্ধান্ত বাতিলের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

সার আমদানি ও বড় ক্রয় প্রস্তাব

একই বৈঠকে দেশের নিরাপত্তা মজুত গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ১ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির নীতিগত প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। সেদিন একই স্থানে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৩১তম বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়, যার সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

ক্রয় কমিটির বৈঠকে ২ লাখ ৬০ হাজার টন ইউরিয়া, ডিএপি ও টিএসপি সার কেনার জন্য ২ হাজার ১০৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকার ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিটের এমআরটি লাইন-১ ও লাইন-৫-এর বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকার ক্রয় প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়।

আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানির ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কেনার ট্যারিফেও সংশোধন আনা হয়েছে। প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টার মূল্য ৫ টাকা ৮১ পয়সা থেকে কমিয়ে ৫ টাকা ৭৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বছরে প্রায় ৩০ কোটি ৯ লাখ টাকা সাশ্রয়ের কথা বলা হয়েছে। চুক্তির বাকি সময়ে মোট সাশ্রয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে ৪৩১ কোটি ৭৯ লাখ ১৫ হাজার টাকা।

সংশোধিত এ ট্যারিফ ২০২৫ সালের ১ আগস্ট থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত ক্রয় প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে।

Frequently Asked Questions

What is ন উ ম র ট র ম?

ন উ ম র ট র ম is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ন উ ম র ট র ম matter?

ন উ ম র ট র ম matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment