শেষ মুহূর্তে বিক্রির চাপে ব্যাপারীরা, দাম কমার অপেক্ষায় ক্রেতারা
শ ষ ম হ র ত ব – ঈদুল আজহার সময়ে রাজধানীর পশু হাটগুলোতে শেষ মুহূর্তের বিক্রি বৃদ্ধি পেয়েছে। দিনের মাঝে ক্রেতার আসার পরিমাণ কম ছিল, কিন্তু সন্ধ্যার পর হাটগুলোতে বিক্রেতার ভিড় এবং বিক্রি পরিমাণ প্রতিদিন বেড়ে চলেছে। সেই সাথে শেষ সময়ে অবিক্রীত পশু নিয়ে চরম উদ্বেগের মুখে পড়েছেন দূর থেকে আসা ব্যবসায়ী ও খামারিরা। তাঁদের লোকসান এড়াতে অনেকে কম দামে পশু ছেড়ে দিচ্ছেন।
আফতাবনগর, শাহজাহানপুর ও হাজীপাড়া ইকরা মাদ্রাসা হাটসহ বেশ কয়েকটি পশুর হাটে রাত বাড়ানোর সাথে সাথে ক্রেতাদের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। পছন্দের পশুটি কিনে ট্রাক বা ভ্যানে বাড়ি পৌঁছানোর জন্য মানুষ দ্রুত ঘুরে দেখছেন। হাটগুলোতে পশু সরবরাহ বেশি থাকলেও বিক্রেতাদের মনস্তাত্ত্বিক ও আর্থিক চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।
টাঙ্গাইল থেকে আফতাবনগর হাটে গরু আনার পর ব্যাপারী শাকিল মিয়া বলেন, তিনি এখনো দশটি গরু বিক্রি করতে পেরেছেন। অবশিষ্ট চারটি গরু নিয়ে তিনি খুব অনিশ্চিত হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, “যে গরুর দাম আমি এক লাখ টাকা চাচ্ছি, ক্রেতারা সেটির দাম ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার বেশি বলতে চাচ্ছেন না। কিন্তু আর গরু নিয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়া সম্ভব না।”
সিরাজগঞ্জ থেকে আসা আরেক ব্যবসায়ী আবুল মিয়া বলেন, “আমি ১৭টি ছোট গরু আনেছিলাম, যার মধ্যে ১৬টি বিক্রি হয়েছে। কিন্তু শেষ গরুটির কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছি না। আমি এই গরুটির জন্য ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা চাই, কিন্তু ক্রেতারা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত দাম তুলছেন।”
এই বিক্রি পরিস্থিতিতে ক্রেতারা অনেকেই শেষ মুহূর্তের সুযোগ গ্রহণ করছেন। তাঁদের আশা, ঈদের আগে দাম কিছুটা কমবে। যেমন, রামপুরার বাসিন্দা মাকসুদ হোসেন বলেন, “ফ্ল্যাটে গরু রাখার জায়গা কম। তাই আমরা প্রতিবছরই শেষ মুহূর্তে কোরবানির পশু কিনি। এবারও আশা ছিল শেষ রাতে দাম কিছুটা কমবে। হাটে ঘুরে দেখছি বিক্রেতারা আগের চেয়ে কিছুটা নমনীয় হচ্ছেন।”
পশুর হাটে শেষ মুহূর্তের দর কষাকষি প্রতিবছরই দেখা যায়। তবে গোখাদ্য এবং পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে বলে বিক্রেতাদের লোকসানের ঝুঁকি অন্য সময়ের তুলনায় বেশি। রাতের বাকি সময়ে বিক্রি পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপর বহু ব্যাপার�
