Bangladesh

অভিমান করে বাড়ি ছাড়ে কিশোরী, ৭ দিন পর নদীতে মিলল লাশ

নবম শ্রেণির ছাত্রীর লাশ ধলেশ্বরী নদীতে পাওয়া হয়

অভ ম ন কর ব ড় ছ – কেরানীগঞ্জের কলাতিয়া ইউনিয়নে বাস করে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী কিশোরী একটি ঘটনার পরিণতি হিসাবে নদীতে মিলেছে। ছেলে সহপাঠী এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে বাইরে ঘুরতে বেড়িয়ে বাসায় ফেরতে দেরি হয় তার পরিবারের প্রতিবেশী মেয়েটি। মায়ের কাছে এ বিষয়টি নিয়ে তোঁষ করে এবং কিছু সময় ঘরে ঢুকতে দেননি। সেখান থেকে চলে যাওয়ার আগে বাড়ির সামনে প্রায় আধা ঘণ্টা অবস্থান করে তার অভিমান বাড়ে।

৪ জুন বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে নবাবগঞ্জ উপজেলার দৌলতপুর গ্রামে ধলেশ্বরী নদীতে কচুরিপানার সঙ্গে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে তারা স্বজনদের ছুটে আসায় লাশটি কিশোরীর বলে পরিচিত হয়। প্রত্যক্ষদর্শী রিয়াজ জানান, সকাল ১০টার দিকে লোকজন নদীতে লাশ দেখে মাইকিং করতে থাকে। তখন স্বজনদের খবর পেয়ে তারা মরদেহ শনাক্ত করে।

গত ৩০ মে কিশোরী ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। তার স্বজন আব্দুল কাইয়ুম জানান, মেয়েটির সহপাঠী এক ছেলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। পরিবারে এ বিষয়টি নিয়ে আপত্তি ছিল। ঘটনার দিন মায়ের বকাঝকার পর সে অভিমানে চলে যায়। আর ফিরে আসেনি।

প্রতিবেশী আমেনা বলেন, আজকের এই ঘটনা পুরো এলাকাকে নাড়া দিয়েছে। কেউ ভাবতে পারেনি যে একটি মেয়ে সামান্য অভিমানে নিজের জীবন শেষ করে দেবে।

নিখোঁজ হওয়ার পর কয়েক দিন পর লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুদ্দীন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এর আগে কলাতিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে নিখোঁজের ঘটনায় ডায়েরি করা হয়েছিল।

মেয়েটির বোরকার ওড়না ও ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নদীর ভেন্ডিঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। তখন থেকে পরিবারের লোকজন আশঙ্কা জানায়, মেয়েটি আর বেঁচে নেই। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সামান্য একটি ঘটনার পরিণতি যে কত ভয়াবহ হতে পারে, সেই বার্তা মেয়েটির মৃত্যু দিয়ে গেল।

Leave a Comment