ভোলা: লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ গ্রাহক, কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত
Table of Contents
ভোলায় বিদ্যুৎ সংকট: দ্বীপের শিল্প ও বাসিন্দা দুই-পাশেই ক্ষতিগ্রস্ত
Banglajibon.com – ভ ল – বাংলাদেশের দ্বীপ জেলা ভোলায় বিদ্যুৎ সরবরাহের নিয়মিত বন্ধ-খোলা, অর্থাৎ লোডশেডিং, এখন আর সাময়িক সমস্যা নয় — এটি দৈনন্দিন জীবনের একটি স্থায়ী বোঝা হয়ে উঠেছে। আবাসিক গ্রাহক থেকে শুরু করে শিল্পকারখানার মালিক, সবাই এই ঘাটতির প্রত্যক্ষ শিকার। গরমের তীব্রতায় ফ্যান, রেফ্রিজারেটর ও অন্যান্য যন্ত্রপাতির চাহিদা বাড়ার সময়ই বিদ্যুৎ কেটে যাওয়ায় বাসিন্দাদের ভোগান্তি আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। অন্যদিকে, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বিদ্যুৎ অপরিহার্য হওয়ায় কারখানাগুলো প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা থেমে থাকতে বাধ্যতামূলক হচ্ছে, যা সরাসরি আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংখ্যায় চিত্র: ঘাটতি কত?
পশ্চিম জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) ভোলা কার্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার ভোলা ও বোরহানউদ্দিন পৌরসহা এবং আশপাশের এলাকার বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল ২৩ মেগাওয়াট, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছিল মাত্র ১৫ মেগাওয়াট। ফলে ৮ মেগাওয়াটের ঘাটতি লোডশেডিং হিসেবে অনুবাদ হয়েছে। একই ধরনের চিত্র ছিল আগের দিনও — গত শনিবার চাহিদা ২১ মেগাওয়াটের বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৪ মেগাওয়াট, অর্থাৎ ৭ মেগাওয়াটের ঘাটতি। গত শুক্রবারের হিসাবও প্রায় একই রকম: চাহিদা ২৪ মেগাওয়াট, সরবরাহ ১৭ মেগাওয়াট। এই তিন দিনের ধারাবাহিক ঘাটতির ফলে ভোলা সদর উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকছে।
বাসিন্দার কণ্ঠে ভোগান্তি
ভোলা সদর উপজেলার হাসপাতাল রোড এলাকায় বসবাসকারী এক আবাসিক গ্রাহক মুন্সি জহুরুল ইসলাম খুসবু দীর্ঘদিনের এই সমস্যার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
কতক দিন ধরে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আগের তুলনায় বেড়েছে। গরমের মধ্যে আমাদের অনেক ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
দ্বীপের ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় বিদ্যুৎ সরবরাহেই ভোলার জন্য অতিরিক্ত জটিলতা রয়েছে। স্থলভাগের সাথে সরাসরি সংযোগের অভাবে গ্রিডের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে, আর যেকোনো ছোট ত্রুটিই পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার কারণ হতে পারে।
কারখানা বন্ধ, ক্ষতি লাখ টাকার
শিল্পখাতে প্রভাব আরও গুরুতর। ভোলার ব্যবসায়ী মেসার্স খান ফ্লাউর মিলসের স্বত্বাধিকারী এবং ভোলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মো. জামাল উদ্দিন খান জানান, লোডশেডিংয়ের তীব্রতা বাড়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ট্যারিফও বেড়েছে। ফলে প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে বিকেল পর্যন্ত মিল চালাতে বাধ্যতামূলক হলেও এই সময়ের মধ্যেই গড়ে তিন-চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না।
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে শনিবার মিলের একটি মোটর পুড়ে গেছে। এতে প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।
জামাল উদ্দিন খান আরও উল্লেখ করেন, ভোলায় হাতে গোনা যে কটি শিল্পকারখানা এখনো কার্যকর রয়েছে, তাদের উৎপাদন এই বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্বীপে শিল্প উন্নয়ন এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকা সত্ত্বেও, প্রতিটি কারখানা স্থানীয় কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ — তা বন্ধ থাকলে প্রভাব কেবল মালিকের পকেটে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং শ্রমিক ও স্থানীয় বাজারেও ছড়িয়ে পড়ে।
ভোক্তা সংগঠনের প্রশ্ন: গ্যাস আছে, তাহলে কেন ঘাটতি?
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ভোলা জেলা শাখার সভাপতি মো. সুলাইমান বিষয়টির একটি ভিন্ন দিক তুলে ধরেন। ভোলায় প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ বিদ্যমান হওয়া সত্ত্বেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং চলতে থাকা তাকে অত্যন্ত দুঃখজনক মনে হয়।
এখানে উৎপাদিত বিদ্যুতের একটি অংশ যদি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়, তাহলে স্থানীয় চাহিদা পূরণে ঘাটতি কেন থাকবে?
এই প্রশ্ন মূলত স্থানীয় উৎপাদন ও জাতীয় গ্রিডের মধ্যে অগ্রাধিকার বণ্টনের বিষয়ে। দ্বীপে গ্যাস ভিত্তিক প্ল্যান্ট থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ যদি প্রথমে স্থানীয় চাহিদা মেটানোর জন্য সংরক্ষিত হয়, তবে লোডশেডিংয়ের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
বিদ্যুৎ প্রতিষ্ঠানের ব্যাখ্যা
ওজোপাডিকো ভোলার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউছুফ জানান, কতক দিন ধরে ৩০-৩৫ শতাংশ লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। ভোলায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে, তবে জেলার চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম পাওয়ার কারণেই লোডশেডিং করতে বাধ্যত হয়ে পড়ছে।
এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে অব্যাহত থাকলে ভোলার শিল্প উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও সাধারণ নাগরিকের জীবনযাত্রার মান — তিনটিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দ্বীপের ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা, গ্যাস-ভিত্তিক উৎপাদনের অবকাঠামো এবং জাতীয় গ্রিডের অগ্রাধিকার নীতি — এই তিনটি বিষয়ের সমন্বয় না করা পর্যন্ত লোডশেডিং ভোলার দৈনন্দিন বাস্তবতা থেকে মুক্ত হওয়ার পথ খোলা নয়।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ভ ল?
ভ ল is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ভ ল matter?
ভ ল matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
