আমতলী পৌরসভা: লেকের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজে অনিয়ম, ধস
Table of Contents
বরগুনার আমতলী লেকে ধসে পড়ল নির্মাণাধীন হাঁটার পথ: বিশ্বব্যাংক-অর্থায়িত প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ
Banglajibon.com – আমতল প রসভ – গতকাল রোববার সকালে বরগুনার আমতলী পৌরসভার কেন্দ্রীয় লেকের ভেতরে নির্মাণাধীন এক হাঁটার পথের (ওকওকের) অবকাঠামো হঠাৎ ধসে পড়ে। স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হওয়ার পর শ্রমিকরা ধসে যাওয়া অংশটি পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেয়। খবর পেয়ে সাংবাদিকরা তথ্য ও ছবি সংগ্রহে উপস্থিত হলে সাবেক পৌর মেয়র মতিয়ার রহমানের ব্যবস্থাপক শ্যামল চন্দ্র, ব্যক্তিগত সহকারী পান্নু মোল্লা ও তাঁদের সহযোগীরা বাধা দেয়। অভিযোগ পাওয়া গেছে, এই সময়ে কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে।
এই ধসের পেছনে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও ত্রুটিপূর্ণ কাজের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কাজের শুরু থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সস্তা ও অমান্যযোগ্য উপকরণ ব্যবহার করছে এবং একাধিকবার প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
প্রকল্পের আর্থিক ও প্রশাসনিক পটভূমি
আমতলী উপজেলার কেন্দ্রীয় লেকের সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পটি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হওয়ার কথা ছিল। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই উদ্দেশ্যে ১২ কোটি ৫৬ লাখ ৯৮ হাজার ৩২৩ টাকা বরাদ্দ করে। অর্থাৎ প্রায় ১২.৫৭ কোটি টাকার একটি বিশাল পরিকল্পনা, যা একটি উপজেলা লেকের চারপাশে হাঁটার পথ, আলোকসজ্জা ও অন্যান্য সুবিধা যুক্ত করার লক্ষ্যে ডিজাইন করা।
২০২৪ সালের এপ্রিলে তৎকালীন পৌর মেয়র এবং আওয়ামী লীগের উপজেলা সভাপতি মতিয়ার রহমান এই প্রকল্পের জন্য দরপত্র আহ্বান জানান। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, দরপত্র প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়নি। গোপনে ঝালকাঠি জেলার ইসলাম ব্রাদার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে কার্যাদেশ দেখিয়ে কাজ নিজেরা করানো হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
কাজের বিলম্ব ও প্রশাসনিক সংঘাত
প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার নির্ধারিত তারিখ ছিল ২০২৪ সালের ৩০ জুলাই। কিন্তু বাস্তবে কাজ শুরু হয় ২৫ অক্টোবর — প্রায় তিন মাসের বিলম্বের পর। উদ্বোধন করেন তৎকালীন আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আশরাফুল আলম।
কাজের শুরুতেই ইউএনও আশরাফুল আলম লক্ষ্য করেন যে প্রকল্পের বাজেট দ্বিগুণ করা হয়েছে। পরে তিনি এই বাজেট কমিয়ে অর্ধেকে নামান। এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে মতিয়ার রহমান কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন। এরপর সাবেক আরেক ইউএনও মো. রোকনুজ্জামান খান এবং সদ্য বিদায়ী ইউএনও মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করে মতিয়ার রহমান কাজ চালিয়ে যান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ও দাবি
আমতলীর বাসিন্দা শাহীন, নুরুল ইসলাম ও সাইদুজ্জামান জানান, কাজের শুরু থেকেই ঠিকাদার নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে আসছে। এ বিষয়ে একাধিকবার প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অবকাঠামো ধসের পর এই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন। দ্রুত তদন্ত করে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান স্থানীয়রা।
পক্ষগুলোর প্রতিক্রিয়া
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইসলাম ব্রাদার্সের মালিক মো. খাইরুল আজাদ বিষয়টি সম্পর্কে বলেন:
প্রকল্পটির কার্যাদেশ পেতে আমার প্রতিষ্ঠানে লাইসেন্স দিয়েছি, তা সত্য। কিন্তু কাজ করেন পৌরসভার সাবেক মেয়র মতিয়ার রহমান। ওইখানে আমার কিছুই নেই। আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।
অভিযোগের বিষয়ে আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মতিয়ার রহমানের মোবাইল ফোনে কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
আমতলী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান ঘটনার প্রকৃতি সম্পর্কে জানান, ওকওকের মূল পিলারে বা পাইলিংয়ে কোনো সমস্যা নেই। সেন্টারিংয়ের কাঠ (সাপোর্ট) খুলে যাওয়ার কারণে ঢালাইয়ের অংশটি কিছুটা ধসে পড়েছে।
আমতলীর ইউএনও (ভারপ্রাপ্ত) মো. আশরাফুল ইসলাম বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।
পাঠকের জন্য প্রাসঙ্গিক প্রেক্ষাপট
বিশ্বব্যাংক-অর্থায়িত স্থানীয় সরকার প্রকল্পগুলো সাধারণত কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও স্বচ্ছতার মানদণ্ড মেনে বাস্তবায়িত হওয়ার কথা। দরপত্র প্রক্রিয়া, কাজের মান যাচাই এবং পর্যায়ক্রমিক পরিদর্শন এই ধরনের প্রকল্পের অপরিহার্য অংশ। যখন একটি ১২ কোটি টাকার প্রকল্পে দরপত্র প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে সরাসরি কার্যাদেশ দেওয়া হয়, বাজেট দ্বিগুণের পর প্রশাসনিক প্রতিরোধে কাজ বন্ধ করা হয়, এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের পুনরাবৃত্তি অভিযোগ উপেক্ষা করা হয় — তখন প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে প্রশ্ন উঠে। লেকের ভেতরে ধসে পড়া একটি হাঁটার পথ কেবল একটি নির্মাণ ত্রুটি নয়; এটি একটি বৃহৎ জনস্বার্থ প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবের দৃশ্যমান প্রমাণ।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is আমতল প রসভ?
আমতল প রসভ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does আমতল প রসভ matter?
আমতল প রসভ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
