ফকিরহাটে চিংড়ি চাষীদের মুখে তীব্র রেণু সংকট
ব গ রহ ট র ফক রহ – বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় চিংড়ি চাষের মৌসুমে রেণু সংগ্রহে বিপর্যয় ঘটছে। এপ্রিল, মে এবং জুন মাসগুলি রেণু ছাড়ার জন্য প্রাকৃতিক জলাশয়ের সংকট হয়ে উঠেছে। এক একর পরিমাণে ঘের প্রস্তুত করে চাষিদের দুই থেকে তিন মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে। মৌসুম শেষ হওয়া সত্ত্বেও রেণু সরবরাহ হচ্ছে না।
উৎপাদন ও বাজারের প্রতিক্রিয়া
বর্তমানে উপজেলায় বাণিজ্যিক ভাবে প্রায় ৮ হাজার ৪টি ঘের ও দুই হাজার ৬০৮টি পুকুর রয়েছে। এগুলিতে প্রতি বছর গড়ে ৪ কোটি ২৬ লাখ বাগদা ও ৭ কোটি ৪৬ লাখ গলদার রেণু চাহিদা থাকে। কিন্তু স্থানীয় চাষিদের দাবি, সাধারণ ক্ষেত্রে এই চাহিদা মৎস্য বিভাগ দ্বারা দেওয়া ১১ কোটি ৭২ লাখ পোনা প্রায় চার গুণ বেশি। চলতি মৌসুমে উপজেলায় রেণুর চাহিদা প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ কোটি হয়েছে।
এবার মৌসুম শেষের দিকে এসেও মাত্র ১৮ হাজার পোনা সংগ্রহ করতে পেরেছি। ঋণ নিয়ে ঘের প্রস্তুত করে মাছ ছাড়তে না পারায় আমাদের দিশেহারা হয়ে পড়েছি।
আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ
ফকিরহাটের রেণু আড়তদার শেখ মনি জানান, বাজারে রেণুর দাম গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। গত বছর প্রতি হাজার রেণু ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হলেও এবার দাম ৩ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। কুমিল্লা ও নোয়াখালীর সরবরাহকারীদের কাছে অগ্রিম দেওয়া ৭৮ লাখ টাকার দাদন আটকে আছে।
মৎস্য চাষের ওপর গুরুতর প্রভাব
প্রাকৃতিক জলাশয় থেকে রেণু আহরণ ও বিক্রি আইনত নিষিদ্ধ হওয়ায় অভিযান চালানো হচ্ছে। হ্যাচারির রেণু চাষ বাড়াতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। তবে বর্তমানে সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কেবল ৮ শতাংশ রেণু প্রাপ্ত হচ্ছে। অধিকাংশ ঘের প্রস্তুত করে চাষীরা কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।
এখন আমাদের প্রাকৃতিক রেণু ও সীমান্তবর্তী এলাকার পোনা আর বাগদা নিয়ে চিংড়ি চাষের জন্য নির্ভর করতে হচ্ছে।
উপজেলা মৎস্য বিভাগ থেকে জানা গেছে, ফকিরহাটে গত অর্থবছরে মোট ২ হাজার ৩১৫ টন চিংড়ি উৎপাদন হয়েছিল। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪৩০ টন। বাগেরহাট চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এইচ এম রাকিবুল ইসলাম বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে ২০১১-১২ সালে রেণু চাষ করার জন্য প্রায় ৭৮টি হ্যাচারি ছিল। কিন্তু মান নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণে এখন তা ৩৭টিতে নেমে এসেছে।
