Bangladesh

বনরূপা হর্টিকালচার সেন্টার: চারা উৎপাদন নয়, কিনে প্রকল্পে বিক্রি ডিডির

Foto : James Anderson - banglajibon.com
Table of Contents
  1. বনরূপা হর্টিকালচার সেন্টারে চারা কেনা-বেচা নিয়ে বিতর্ক
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

বনরূপা হর্টিকালচার সেন্টারে চারা কেনা-বেচা নিয়ে বিতর্ক

Banglajibon.com – বনর প হর ট ক লচ র – পার্বত্য রাঙামাটি জেলার বনরূপা হর্টিকালচার সেন্টারে বর্তমানে এক ধরনের বিপরীতমুখী ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় মাটি ও আবহাওয়ায় টিকে থাকার মতো মানসম্পন্ন বীজ, চারা ও কলম তৈরি করে তা কৃষকদের কাছে সাশ্রয়ী দামে পৌঁছানোর কথা থাকলেও, সেখানে উল্টোটা হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এই কেন্দ্রের উপপরিচালক মো. মাহবুবুর রশীদ নিজের এলাকার চারা উৎপাদন না করে দূরের জেলার নার্সারিগুলো থেকে ফলদ চারা কিনে আনছেন। পরবর্তীতে সেই চারাগুলো একটি চলমান প্রকল্পের আওতায় বিক্রি হিসেবে দেখিয়ে নিজের পকেটে টাকা জমাচ্ছেন।

প্রকল্পের চারা বিতরণে কৃষকের ক্ষতি

পার্বত্য অঞ্চলের পরিবেশের জন্য উপযোগী নয়—এমন চারাগুলো কৃষকদের দেওয়ায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এমনকি বিতরণের জন্য আনা অনেক চারা সেন্টারের ভেতরেই মারা যাচ্ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ‘বিল্ডিং ক্লাইমেট রেসিলিয়েন্ট লাইভলিহুডস ইন ভালনারেবল ল্যান্ডস্কেপ ইন বাংলাদেশ’ বা বিসিআরএল নামক প্রকল্পের জন্য রাঙামাটির কাউখালী উপজেলাকে নির্বাচন করা হয়েছে। জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ খাড়া পাহাড়ি এলাকা ও মাটি ক্ষয়প্রবণ অঞ্চল হিসেবে এই উপজেলার নাম উঠে এসেছে।

প্রকল্পের আওতায় চারটি ভিন্ন জাতের মোট ১ লাখ ২০ হাজার আমের চারা কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ১ হাজার ২০০ জন কৃষক এই সুবিধা পাবেন। এছাড়াও হর্টিকালচার সেন্টারের কৃষি গুচ্ছের সদস্যদের ড্রাগনের চারা এবং আম চাষ ও সংরক্ষণের সরঞ্জাম সরবরাহ করা হচ্ছে। তাদের প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে। গত মে মাসে ঘূর্ণমান তহবিল থেকে এই সেন্টারটি ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছিল।

কর্মচারীদের অভিযোগ ও বদলির হুমকি

বনরূপা হর্টিকালচার সেন্টারের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দাবি, মাহবুবুর রশীদ গত ১২ জানুয়ারি এই পদে যোগদান করেন। যোগদানের পরপরই তিনি সেন্টারের উৎপাদন ব্যবস্থা বন্ধ করে চারা ব্যবসায়ী হিসেবে কাজ শুরু করেন। গত ছয় মাস ধরে তিনি বাইরের জেলা থেকে চারা কিনে এনে কেন্দ্রে বিক্রি দেখিয়ে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করছেন। এই বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে কর্মচারীদের তিনি বদলির হুমকি দিচ্ছেন।

সেন্টারের দুজন কর্মী মো. রবিউল ও মিল্টন চাকমা জানান, সেন্টারে চারা উৎপাদন না করলেও খরচ দেখানো হচ্ছে। বাইরে থেকে এনে মজুত করা চারার বেশির ভাগই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই অনিয়ম ঢাকতে অফিসের সবাইকে বদলির হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

মাহবুবুর রশীদ আমাদের থেকে ৪৫০টি ফলদ চারাসহ অন্যান্য চারা নিয়েছেন, কিন্তু তিনি কোনো অর্থ পরিশোধ করেননি। এমনকি উল্টো ৫০ হাজার টাকা চেয়েছেন। না দিলে বদলির হুমকি দেন। আমি স্যারকে বলেছি, টাকা দেওয়ার সামর্থ্য আমার নাই। যেখানে মন চায় সেখানে যেন বদলি করে দেন।

স্থানীয় সেন্টার থেকে চারা নেওয়ায় অভিযোগ

নিজ কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ রেখে মাহবুবুর রশীদ জেলার পাঁচটি হর্টিকালচার সেন্টার থেকে বিনা মূল্যে চারা নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সদর উপজেলার আসাম বস্তি হর্টিকালচার সেন্টারের উপসহকারী উদ্যান কর্মকর্তা (এসএএও) মো. কামাল হোসেন বলেন, তিনি কোনো অর্থ পরিশোধ করেননি। এমনকি উল্টো ৫০ হাজার টাকা চেয়েছেন। না দিলে বদলির হুমকি দেন।

লংগদু, বালুখালী, কাপ্তাই ও নানিয়ারচর উপজেলার হর্টিকালচার সেন্টার থেকেও কোনো টাকা না দিয়ে প্রায় ৩ হাজার ফলদ চারা নেওয়ার কথা জানান দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।

চারা বিতরণ নিয়ে প্রশ্ন

প্রকল্পের আওতায় কৃষকের মাঝে চারা বিতরণ প্রসঙ্গে কাউখালীর উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. তৈয়ব বলেন, চারাগুলো জাত নিয়ে আমরা শতভাগ নিশ্চিত নই। তবে এগুলো বনরূপা হর্টিকালচার সেন্টারের উৎপাদিত নয়। কাউখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাসেল সরকার বলেন, ডিডি স্যার চারা সরবরাহ করছেন, আমরা তা বিতরণ করছি। তবে কোথা থেকে আনা হচ্ছে বা মান কেমন, তা জানার সুযোগ নেই। আম্রপালি, বারি-৪, কাটিমন এবং ব্যানানা ম্যাঙ্গো—এই চার জাতের চারা দেওয়া হচ্ছে, শুধু এটা জানি।

বাইরের নার্সারি থেকে চারা এনে পার্বত্য অঞ্চলে বিতরণ করা হলে এতে কৃষকের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। নিজস্ব চারা উৎপাদন না করে বাইরে থেকে চারা এনে বিতরণ দেখানো আইনবহির্ভূত।

ডিডি মাহবুবুর রশীদের দাবি

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বনরূপা হর্টিকালচার সেন্টারের ডিডি মাহবুবুর রশীদ বলেন, ঘূর্ণমান তহবিলের টাকা দিয়ে আমি আমার হর্টিকালচারে চারা উৎপাদন করিনি—ঠিক আছে। যে সময়ে আমি টাকা নিয়েছি, এই সময়ের মধ্যে চারা উৎপাদন করে কৃষকের মাঝে পৌঁছানো সম্ভব ছিল না।

মাহবুবুর রশীদের দাবি, এই টাকা দিয়ে আমি বাইরে থেকে দেখেশুনে, আমার লোক পরীক্ষা করে শতভাগ নিশ্চিত হয়ে চারাগুলো কিনে কৃষকের মাঝে বিতরণ করেছি। চারার মান নিয়ে কোনো অভিযোগ এ পর্যন্ত আসেনি। কর্মচারীদের বদলির হুমকির অভিযোগ প্রসঙ্গে মাহবুবুর রশীদ বলেন, অনেককে দেখেছি, কোনো কাজের না। তাঁদের বদলির ব্যবস্থা করার আমার ওপর ক্ষুব্ধ।

রাঙামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা (ডিডি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীর বদলির কাজটি আগে করতেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণের ডিডি। নতুন কোনো আইন তৈরি হয়েছে কি না, আমার জানা নেই।

Frequently Asked Questions

What is বনর প হর ট ক লচ র?

বনর প হর ট ক লচ র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does বনর প হর ট ক লচ র matter?

বনর প হর ট ক লচ র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment