গোমস্তাপুরে ভুয়া ভাউচারে টাকা আত্মসাৎ অভিযোগ
চ প ইনব বগঞ জ র গ – চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ওয়াসিম আকরামের বিরুদ্ধে লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এলডিডিপি) থেকে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সূত্রে জানা গেছে, এলডিডিপি প্রকল্পের মেয়াদ পূর্বনির্ধারিত ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত দুই দিন বাড়িয়ে পরিবর্তিত হয়েছে।
প্রকল্পের প্রডিউসার গ্রুপ বা খামারি দলের সদস্যদের প্রতি মাসে দুই বার সভা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচী পরিচালনার কথা ছিল। যদিও প্রতিটি সভায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য জনপ্রতি ৩২০ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে তাদের মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ টাকার নাশতা দেওয়া হয়েছিল।
সদস্যদের প্রতিটি প্রশিক্ষণে চারটি বিভিন্ন মাস্টাররোলে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল। এ মাধ্যমে চার মাসের মতো সভার ভুয়া উপস্থিতি ঘোষণা করে প্রায় ৮ লাখ ১৯ হাজার ২০০ টাকা বিল-ভাউচার নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। প্রকল্পের আওতায় প্রতিজন খামারি সদস্যকে ১০ হাজার টাকার মালামাল দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু অধিকাংশ সদস্য তা পাননি।
অনিয়ম ছড়িয়ে পড়েছিল উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে
৫ মে সকালে গোপনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল প্রথম ধাপে ৪০ জন খামারি সদস্যকে। বিকেলে দ্বিতীয় ধাপে আরও ৪০ জন সদস্যকে নিয়ে প্রশিক্ষণ চলছিল যখন অনিয়মের খবর প্রকাশিত হয়। কয়েকজন সদস্য লক্ষ করেন যে একজন ব্যক্তি থেকে চারটি আলাদা স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।
প্রাণিসম্পদ দপ্তরের এলএফও মো. সাদেক আলী বলেন, “প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ মে) পিজি সদস্যদের প্রশিক্ষণ চলছিল। সেখানে আমি ভুলবশত একজন সদস্য থেকে চারটি স্বাক্ষর নিয়েছিলাম। এটি অনিচ্ছাকৃত ভুল ছিল, কোনো অপ্রতিকূল উদ্দেশ্য ছিল না।”
যোগাযোগ করলে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. শারমিন আক্তার জানান যে তিনি ১১ মে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেবেন। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হেমন্ত কুমার রায় মোবাইল ফোনে জানান, “অভিযোগ পেয়েছি। গতকাল (মঙ্গলবার) আমি এবং বিভাগীয় পরিচালক স্যার উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস পরিদর্শন করেছি। সেখানে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হয়েছে।”
