উলিপুরে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের আরোপ হয়েছে
উল প র ভ জ এফ র – কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়ন পরিষদে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিতরণ প্রাপ্য ব্যক্তিরা প্রতিদিন ১০ কেজি চাল পেতে বলা হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে প্রায় সবাইকে দেড় থেকে দুই কেজি চাল দেওয়া হচ্ছে।
শনিবার (২৩ মে) বিকেলে সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা গেল কার্ড ধারী দুই ব্যক্তির জন্য বালতি দিয়ে ২০ কেজি চাল দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ওই চালের পরিমাপ করে দেখা গেল এর স্থলে ১৬ কেজি ৭০০ গ্রাম এবং কেউ কেউ প্রাপ্য ওজনের চেয়ে আরও কম পেয়েছেন।
ব্যক্তিদের অভিযোগে অসহায় পরিবারের চাল ওজন হ্রাস হচ্ছে
ভিজিএফের চাল নিতে আসা থেতরাই ইউনিয়নের খারিজা লাঠশালা এলাকার ববিতা আক্তার, শাহানারা বেগম, জয়নাল মিয়া, হাসিনা বেগম, বাকী মিয়া, এরশাদুল হকসহ অনেকে অভিযোগ করেন, “ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকার থেকে আমাদের ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রায় সবাইকে দেড় থেকে দুই কেজি চাল দেওয়া হচ্ছে। এ সামান্য ওজনেও যদি কম পেয়া হয়, তাহলে আমরা কোথায় যাব বলে ভাবছি।”
“আমরা কোথায় যাব।”
থেতরাই ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরণে দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা আনিছার রহমান দাবি করেন, তাঁর সামনে কাউকে চাল কম দেওয়া হয়নি। তবে কিছু সুবিধাভোগী ব্যক্তি মৌখিকভাবে চাল কম পেয়েছেন বলে জানান।
থেতরাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা বলেন, “তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের ১০ কেজি চাল দেওয়া হচ্ছে। অনেকে স্লিপ পেয়েও আসেননি। তাঁদের পরিবর্তে স্লিপ ছাড়া ব্যক্তিদের চাল দেওয়া হচ্ছে।”
যখন স্লিপ পাওয়া ব্যক্তিরা আসবেন, তখন কী করবেন—এই প্রশ্নে তিনি বলেন, “তাঁদেরও চাল দেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম আরিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভিজিএফের চাল ওজনে কম দেওয়ার বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ পাওয়া স্বীকার করেন। তিনি ঘোষণা করেন, “আগামীকাল (রোববার) সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
