Bangladesh

হতাশার মধ্যেও বিচারপ্রক্রিয়ায় আশার আলো দেখছি: পল্লবীতে ধর্ষণের শিকার শিশুটির বাবা

হতাশার মধ্যেও বিচারপ্রক্রিয়ায় আশার আলো দেখছি: পল্লবীতে ধর্ষণের শিকার শিশুটির বাবা

হত শ র মধ য ও ব – রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে একজন বাবা তার অভিযোগ জানায়। তিনি বলেন, বিচার প্রক্রিয়ায় আমি একটি আশার আলো দেখতে পেয়েছি অনেক হতাশার মধ্যেও। সরকারের কাছে স্পষ্ট আশ্বাস পেয়েছিলাম যে ক্ষুদ্র সময়ের মধ্যে বিচার শেষ করা হবে, তার প্রতিফলন আমি দেখতে পেয়েছি।

‘আমি আমার বাচ্চার সুষ্ঠু বিচার চাই। বাংলাদেশের আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করি। সেই শাস্তি যেন দ্রুত কার্যকর হয়ে থাকে। অন্তত এমন একটি সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলুন যেখানে আর কোনো বাবা-মায়ের বুক খালি হবে না।’

তার বাচ্চার হত্যার জন্য দায়ী কে হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বাবা। তিনি বলেন, ‘আজ আমি একজন ধর্ষিতার বাবা হিসেবে পরিচিত। এই দায়ভার কে নেবে—আমি, সমাজ নাকি রাষ্ট্র? আমার সন্তানের এমন পরিণতির জন্য দায়ী কে?’

বাবা মিলনায়তনে যোগদানের আগে অনেক কষ্ট ও অস্থিরতা ভোগ করেছেন। তার স্ত্রী গভীর ট্রমার মধ্যে রয়েছেন এবং তাকে সার্বক্ষণিক দেখাশোনা করতে হচ্ছে। পরিবারে আরেক সন্তান রয়েছে, যার জন্য তিনি আতঙ্ক ও শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

শিশু নির্যাতনের আঘাত

তিনি প্রসঙ্গ তুলে ধরেন যে সম্প্রতি এক বাবা নিজের মেয়েকে নিয়ে বাসায় আসেন। কারণ শিশুটি চরম মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। মেয়েটি ধর্ষণ শব্দটি শিখে গেছে এবং জিজ্ঞেস করেছে, ‘আংকেল, এই দরজার ভেতরে কী ধর্ষণ হয়েছে?’ এখন সে মায়ের আঁচল ছেড়ে এমনকি একা টয়লেটেও যেতে পারে না।

নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেল আয়োজিত বৈঠকে আইনজীবী, চিকিৎসক, শিক্ষক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যকর আইন প্রয়োগ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, একজন সন্তানকে জন্ম দেওয়া থেকে বড় করে তোলা পর্যন্ত বাবা-মা অক্লান্ত পরিশ্রম, মায়া-মমতা ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে তাকে মানুষ করেন। কিন্তু সেই সন্তান যদি সমাজের নৃশংসতার শিকার হয়, তাহলে এর দায় শুধু পরিবারের নয়; সমাজ ও রাষ্ট্রকেও এর জবাবদিহি করতে হবে।

তিনি আরও আহ্বান জানান, ভবিষ্যতে যেন কোনো শিশুকে এমন ভয়াবহ নির্যাতন ও হত্যার শিকার হতে না হয়। তার মতে, আলোচনা ও গোলটেবিল বৈঠক অনেক হয়, কিন্তু বাস্তবে সমস্যার সমাধান কতটা হয় সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Comment