তারাগঞ্জ উপজেলার যমুনেশ্বরী নদীতে গোসল করতে নেমে দুই বন্ধুর জীবন হারিয়ে যায়
শ শব র বন ধ দ জন – রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের কায়িশাবাড়ি এলাকায় শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে একটি আঘাতপ্রাপ্ত ঘটনা ঘটে। দুই বন্ধু অহিদ ইসলাম (১৫) এবং মাসুদ রানা (১৬) নদীতে ডুবে মৃত্যুবরণ করে। এই দুর্ঘটনায় তেলিপাড়া গ্রামের পুরো পরিবার এবং প্রতিবেশী শোকে জড়িত হয়ে পড়ে।
শৈশবে গড়ে ওঠা বন্ধুত্ব হারিয়ে যায় এক ছুটির সময়
অহিদ ও মাসুদের বাড়ি ডাঙ্গীরহাট তেলিপাড়া গ্রামে। পাশাপাশি বাড়ি হওয়ায় শৈশব থেকেই গভীর বন্ধুত্ব তৈরি হয়। কিন্তু তাদের অভাব নিবারণের জন্য কিশোর বয়সে ঢাকায় কাজে নেমেছিল। রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে দুই ছেলে নির্মাণশ্রমিকের কাজ করত। তাদের আয়ের সিংহভাগ গ্রামে পাঠিয়ে দিত বাবা-মার কাছে। সেই আয়ের বিনিময়ে পরিবারের উৎসব কাটত ছেলেদের।
ঈদুল আজহা উদ্যাপনের জন্য ছেলেদের গ্রামে ফিরেছিল। সেদিন দুই ছেলে সাথে নামাজ আদায় করে এবং বন্ধুদের সঙ্গে উৎসব উপস্থাপনের পরিকল্পনা করে। কিন্তু অপেক্ষারত ছেলেদের হারিয়ে সেই উৎসব বুকফাটা কান্না আর শোকে রূপ নেয়।
‘বাবা মাসুদ (অহিদ) ! তুই হামাক ছাড়ি কই গেলু? মোর বুকটা কেন খালি করলু? মুই তোক ছাড়ি বাঁচিম কেমন করি! তুই আর ঢাকা যাবু না…’
অহিদের মা কাজলী বেগম স্বাক্ষর ছাড়া মৃত্যুতে শোকে তুমুল কান্না করছেন। মাসুদ রানার বাবা অবিচ্ছিন্ন কণ্ঠে বলেন, ‘একটাই ছেলে আমার। ছেলেকে নিয়ে আমরা ঢাকাতেই থাকতাম। কোরবানির ঈদ করতে গ্রামে আসছিলাম। আমার বাবাটাকেই কোরবানি দিয়ে দিতে হলো। আল্লাহ যেন আমার বাপের জন্য দোয়া করবেন।’
প্রতিবেশী জুয়েল বাবু মন্তব্য করেন, ‘ছেলে দুটি খুব নম্র আর ভদ্র ছিল। অভাবের কারণে তারা কিশোর বয়সেই ঢাকায় কঠোর পরিশ্রম করত। ঈদের আনন্দ করতে গিয়ে এভাবে চলে যাবে, তা ভাবতেই পারছি না। তারা দুজনেই ছিল বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে।’
তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মরদেহ হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া চলমান। নদীতে ডুবে যাওয়া মাসুদ রানাকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু ঘটে। একজনের মৃতদেহ বেলা ১টার দিকে আবিষ্কৃত হয়।
তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, ইউপি সদস্যের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে �
