Bangladesh

পান কিনতে পাঠিয়ে কিশোরের ভ্যান নিয়ে চম্পট যাত্রী, কিস্তি নিয়ে বিপাকে পরিবার

কুষ্টিয়ায় ভ্যানচালকের জীবন খারাপ হয়ে গেছে

প ন ক নত প ঠ য় – পান কিনতে পাঠিয়ে কিশোরের ভ্যান নিয়ে চম্পট যাত্রী বিপাকে পরিবার জুড়ে শোকের ছায়া ছাড়া নেই। বাহাদুর পরিবারের বাসিন্দা হিসেবে সংসারের অর্থনৈতিক উৎস হিসেবে বিশেষ ভূমিকা পালন করত তার ছেলে রাজুর ভ্যান। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঘটা এই প্রতারণা ঘটনার ফলে সেই ভ্যানটি এবং যাত্রী দুই জন সম্পূর্ণ অস্তিত্বহীন হয়ে গেছে। পান কিনতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল রাজুকে, কিন্তু সে দোকানে পৌঁছে আসার পর চম্পট যাত্রী দুই জন পান কিনতে যায় না এবং ভ্যান নিয়ে চলে যায়। এই ঘটনার পর থেকে পরিবারের প্রতিটি সদস্য নিজের অসহায়তার কাছে মুখ তুলতে পারছে না।

পরিবারের জীবনে বিপর্যয়

রাজু কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের বাসিন্দা। এই সংসারে বাবা হৃদ রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ সময় ধরে কোনো কাজ করতে পারছেন না। তার কাছে কোনো আয়ের উৎস নেই। কিন্তু বাবা স্বামী ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ভ্যানটি কিনে দেন ছেলেকে। সেই ভ্যানটি পরিবারের টেনেটুনে একমাত্র আয়ের উৎস। এখন সেই ভ্যানটি হারিয়ে গেলে পরিবার নিশ্চিত ভাবে আর কোনো কাজ করতে পারছে না। সংসারের সমস্ত আশা অসম্পূর্ণ হয়ে গেছে।

সংসারের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই কারুপ হয়ে গেছে। পান কিনতে পাঠানো হয়েছিল রাজুকে বাবার কাছে অপারেশনের জন্য সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে গেছে। রাজু একজন নিরাপদ স্থানে পৌঁছে আসেন পান কিনে আনার জন্য। কিন্তু একটি চম্পট যাত্রী দুই জনকে পান কিনতে যায় এবং ভ্যানটি নিয়ে চলে যায়। সেই ঘটনার পর থেকে রাজু আর কোনো ব্যবস্থা করতে পারছে না। পরিবার কোনো দিনই আর পান কিনতে পারছে না।

প্রতারণার প্রতিক্রিয়া ও চাইতে পারা প্রাণী

পান কিনতে পাঠানো ঘটনার পর রাজু অসহায় হয়ে আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি করে। কিন্তু ভ্যানটি কোনো হদিস পায়নি। তার পর থেকে তার চোখে অশ্রুসজল হয়ে গেছে। বাহাদুর বলেন, আমি আর হার্ট রোগে ভ্যান চালাতে পারি না। তার স্ত্রী ও দুই ছেলে ছাড়া আর কোনো সংসার হাল ধরতে পারছে না। পান কিনতে পাঠিয়ে যাত্রী নিয়ে চম্পট হয়ে যাওয়া ঘটনা বিশেষ আঘাত করেছে পরিবারকে। এখন কিশ্তি শোধ করার জন্য কোনো চাহিদা নেই।

অপরিচিত ব্যক্তি রাজুকে পান কিনতে পাঠিয়েছিল কুষ্টিয়া শহরের ব্যস্ত স্থানে। তারা কিশ্তি শোধ করার জন্য কোনো সম্পূর্ণ ব্যবস্থা করেছিল। কিন্তু দোকানে পৌঁছে আসার পর রাজু চম্পট যাত্রী দুই জনকে দেখে হতাশ হয়ে গেছে। ভ্যান ও যাত্রী দুই জন ছিল পরিবারের অস্তিত্বের বিষয়। এখন সেই অস্তিত্ব সম্পূর্ণ নেই। সংসারের সব আশা নষ্ট হয়েছে।

অশ্রুসজল চোখে বাহাদুর বলেন, আমার হার্টের অসুখে কোনো ভারী কাজ বা ভ্যান চালাতে পারি না। স্ত্রী ও দুই ছেলে

Leave a Comment