ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেললেন ঢাবির প্রবীণতম স্নাতক পড়ুয়া
Table of Contents
ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর তিন ছবি ভাঙচুর ও ছেঁড়ার ঘটনা
Banglajibon.com – ড কস র স গ রহশ ল – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ বা ডাকসুর সংগ্রহশালায় থাকা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি প্রতিকৃতি ভেঙে ও ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়া আবু তৈয়ব হাবিলদার এ কাজ করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি নিজেই।
সোমবার দুপুর ২টার দিকে তিনি তাঁর দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ডাকসু সংগ্রহশালায় যান। সেখানে প্রদর্শিত জিন্নাহর একটি একক ছবির ফ্রেম তিনি প্রথমে ভেঙে ফেলেন। এরপর ফ্রেম থেকে ছবিটি বের করে ছিঁড়ে দেন।
ঘটনাটি সেখানেই থেমে থাকেনি। পরে আরও দুই দফায় সংগ্রহশালায় থাকা জিন্নাহর অপর দুটি ছবিও মেঝেতে আছাড় দেওয়া হয়। সেগুলোর ফ্রেম থেকে প্রতিকৃতি বের করে ছিঁড়ে ফেলা হয়। ফলে সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত তিনটি ছবিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জিন্নাহর প্রতিকৃতি নিয়ে আপত্তি
ঘটনার পর সাংবাদিকদের সামনে আবু তৈয়ব হাবিলদার তাঁর অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, ডাকসুর মতো একটি প্রতিষ্ঠানে জিন্নাহর ছবি রাখা গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি মনে করেন। তাঁর বক্তব্যে ভাষা আন্দোলন ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির প্রসঙ্গও উঠে আসে।
“যা মন চায় তা করতে দেওয়া হবে না। এই খলনায়কের ছবি ডাকসুতে থাকবে না। তাদের ইশতেহারে কী ছিল, তারা ডাকসুর মতো এমন জায়গাতে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে প্রতিষ্ঠিত করবে? বলেছিলেন কি, জিন্নাহকে আপনারা আপনাদের নায়ক বানাবেন? আমরা একাত্তর, ভাষা সংগ্রাম ভুলি নাই।”
ডাকসু সংগ্রহশালা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতি, সাংগঠনিক ইতিহাস এবং সংশ্লিষ্ট স্মারকের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি স্থান। সেখানে থাকা কোনো প্রতিকৃতি বা ঐতিহাসিক উপকরণ নিয়ে মতভেদ থাকলেও সেগুলোর সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। এ ঘটনায় ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের মূল্যায়ন, স্মারক সংরক্ষণ এবং ক্যাম্পাসের মতপ্রকাশের সীমা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি হতে পারে।
আবু তৈয়ব হাবিলদারের পরিচয় ও শিক্ষাজীবন
আবু তৈয়ব হাবিলদার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সহসভাপতি বা ভিপি পদে প্রার্থী হয়েছিলেন। নির্বাচনে তিনি সবচেয়ে প্রবীণ প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন বলে পরিচিতি পান।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে পুনরায় নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে চতুর্থ বর্ষে ভর্তি হন। বর্তমানে তিনি উর্দু বিভাগে স্নাতক চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়ন করছেন বলে তাঁর পরিচিতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিজের রাজনৈতিক ও আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট ভূমিকার কথাও তুলে ধরেছেন আবু তৈয়ব হাবিলদার। তাঁর দাবি, ১/১১-এর সময় তিনি সক্রিয় ছিলেন। বিভিন্ন কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলনেও ভূমিকা রেখেছেন তিনি। পাশাপাশি ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়ার দাবিও করেছেন।
ইতিহাস, স্মৃতি ও ক্যাম্পাসের দায়িত্ব
মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ উপমহাদেশের ইতিহাসে আলোচিত ও বিতর্কিত একটি নাম। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা জড়িত থাকলেও বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন এবং স্বাধীনতার ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে তাঁকে নিয়ে ভিন্নমত প্রবল। বিশেষ করে রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে তাঁর অবস্থান বাঙালির রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্মৃতিতে দীর্ঘদিনের বিতর্কের বিষয়।
তবে কোনো প্রতিকৃতি বা নথি সংগ্রহশালায় রাখা মানেই সেই ব্যক্তির সব কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করা—এমন ব্যাখ্যা সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। অনেক সময় ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায়, বিতর্ক ও রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা তুলে ধরার জন্যও স্মারক সংরক্ষিত থাকে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালা তাই কেবল প্রশংসার জায়গা নয়; এটি অতীতকে বোঝা, প্রশ্ন করা এবং আলোচনার ক্ষেত্রও হতে পারে।
এই ঘটনার পর ডাকসু সংগ্রহশালার নিরাপত্তা, ক্ষতিগ্রস্ত সামগ্রী পুনরুদ্ধার এবং সেখানে থাকা ঐতিহাসিক উপকরণের প্রদর্শন-পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। মতাদর্শগত আপত্তি প্রকাশের অধিকার থাকলেও কোনো সংরক্ষিত সামগ্রী নষ্ট করা ক্যাম্পাসের সাংস্কৃতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশে কী প্রভাব ফেলে, সেটিও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। সেই ইতিহাসের অংশ হিসেবে ডাকসুও দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদের প্রতিনিধিত্ব, বিতর্ক এবং অধিকার আদায়ের প্রতীক। ফলে সংগ্রহশালায় সংঘটিত এ ঘটনার গুরুত্ব শুধু ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি ছবিতে সীমাবদ্ধ নয়; এটি ইতিহাসের ব্যাখ্যা, রাজনৈতিক স্মৃতি এবং বিশ্ববিদ্যালয় পরিসরে মতভেদ প্রকাশের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন সামনে এনেছে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ড কস র স গ রহশ ল?
ড কস র স গ রহশ ল is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ড কস র স গ রহশ ল matter?
ড কস র স গ রহশ ল matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
