Bangladesh

এবার কুলাউড়ায় সিলিকা বালু লুট

কুলাউড়ায় সিলিকা বালু লুটের আশঙ্কা

এব র ক ল উড় য় স – মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন ছড়া থেকে প্রাকৃতিক সম্পদ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও সিলিকা বালু অবাধে তুলে নিচ্ছে অসাধু চক্র। তিনটি প্রধান সেতু, একটি স্লুইস গেট এবং সিলেট-ঢাকা রেললাইন ও সিলেট-ব্রাহ্মণবাজার সড়ক নির্মাণে ব্যবহৃত সেতুগুলো ধসে পড়ার সম্ভাবনা বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা পরিবেশ ও প্রতিবেশ দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির আশঙ্কা করছেন এবং ইউপেজিলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন।

আগে থেকেই মৌলভীবাজারে কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল ও রাজনগর উপজেলায় সিলিকা বালু লুটের অভিযোগ ছিল। এবার কুলাউড়াতে এই চক্র সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে বালু তুলে বিক্রি করছে। বরমচাল ইউনিয়ন পরিষদের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে অবৈধভাবে বালু তুলে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে।

“অতীতে বড় ছড়া থেকে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা অবাধে বালু তুলে বিক্রি করেছেন। আমি বালু তোলার সঙ্গে জড়িত না। এলাকার একটি স্বার্থান্বেষী মহল মিথ্যা অভিযোগ তুলে আমার সামাজিক মর্যাদা নষ্ট করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে।”

রাজিব উদ্দিনের নেতৃত্বে চক্রটি রাতে শ্রমিকদের ব্যবহার করে বালু তুলছে। একটি ট্রাক সিলিকা বালু ১৭-১৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাঁদের লাভের অংশ বিভিন্ন নেতার পকেটে চলে যাচ্ছে। এ অভিযোগ উঠেছে বড় ছড়া থেকে তোলা বালু তিনটি সেতু ও স্লুইস গেট বিনষ্ট হওয়ার কারণে।

বরমচাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আহমদ খান সুইট বলেন, “আগে এই বড় ছড়া থেকে তোলা বালু একাধিকবার জব্দ করিয়েছি, কিন্তু পরে সেই বালুও লুট হয়ে গেছে। বর্তমানে রাতে স্থানীয় একটি চক্র অবাধে বালু তুলে বিক্রি করছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।”

কুলাউড়া উপজেলার পরিবেশ রক্ষায় কাজ করে আসা নাজমুল ইসলাম বলেন, “মৌলভীবাজারে অর্ধশতাধিক ছড়া রয়েছে। এসব ছড়া ইজারা না থাকায় নিয়মিত অবৈধভাবে বালু লুট চলছে। ইজারা দেওয়া হলে সরকার প্রতিবছর লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করতে পারত। কিন্তু সরকার ইজারা না দিয়ে লুটের সুযোগ করে দিয়েছে।”

কুলাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আনিছুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, “বড় ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার বিষয়টি স্থানীয় লোকজন আমাদের জানিয়েছে। শিগগির অভিযান চালিয়ে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Leave a Comment