Bangladesh

এক মাসের বেতনে এক দিনের চিকিৎসা

এক মাসের বেতনে এক দিনের চিকিৎসা

এক ম স র ব তন এক – এক মাসের বেতন এক দিনের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত হয়নি নাসির উদ্দিন ও তাঁর স্ত্রী রাজেনা খাতুনের বাড়িতে। নাসির উদ্দিন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙা গ্রামে পুকুরের পাহারাদার হিসেবে কাজ করেন, যেখানে তাঁর মাসিক আয় ৭ হাজার টাকার মধ্যে থাকে। তাঁর স্ত্রী রাজেনা খাতুন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি, যেখানে তাঁর চিকিৎসার প্রতিদিনের খরচ এক মাসের বেতনের সমান হয়ে উঠেছে। তাঁদের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে আসছে এমন একটি অবস্থার কথা এখন আর ছোঁ হচ্ছে না।

রাজেনার চিকিৎসার বিস্তারিত বিবরণ

রাজেনা খাতুন গত ১৫ এপ্রিল রামেক হাসপাতালে মৃত সন্তানের জন্ম দেয়ার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছিল, যেন তাঁর কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। হাসপাতালে তাঁকে কিডনি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়, যেখানে ডায়ালাইসিস চালানো হচ্ছে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় আইসিইউতে নেওয়া হয়, যেখানে সামান্য মাত্রায় চিকিৎসা চালানো হচ্ছে। তাঁর দৈনিক খরচ প্রায় ১৫ হাজার টাকা, যেটি তাঁর স্বামী নাসির উদ্দিনের মাসিক আয়ের সমান। পরিবারের উপর এই ভার তাঁদের জীবন বিপন্ন করেছে।

নাসির উদ্দিন বলেন, “আমি পুকুর পাহারা দিয়ে মাসে ৭ হাজার টাকা পাই। কিন্তু হাসপাতালে আমার দিনে দিনে বিভিন্ন অবস্থায় বেতন খরচ হচ্ছে – কোনো দিন ৭ হাজার, কোনো দিন ৫ হাজার বা কোনো দিন ৩ হাজার টাকার কম দামে চিকিৎসা করা হচ্ছে। আমি কেবল কর্মচারী হিসেবে পরিচিত, কিন্তু এখন তাঁর পরিবার সম্পূর্ণ জীবন বিপন্ন হয়ে আসছে। ডাক্তারদের এবং নার্সদের অসাধারণ সাহায্য পাওয়া সত্ত্বেও এ চিকিৎসা আমার এক মাসের বেতন দ্বারা পরিচালন করা যাচ্ছে না।”

প্রতিবেশী ও বন্ধুদের সহায়তা

রাজেনার চিকিৎসা খরচ আরও বেড়ে চলছে, যার কারণে নাসির উদ্দিন তাঁর সামর্থ্যের বাইরে আছেন। তাঁর বিশেষ অসহায়তার কারণে প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুবান্ধবেরা এত দিন ধরে সাহায্য করে আসছেন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা প্রদানকারী চিকিৎসকদের অসাধারণ সহায্য পেয়েছেন রাজেনা খাতুন। কিন্তু এখনও এক মাসের বেতনে এক দিনের চিকিৎসা করা সম্ভব হচ্ছে না।

রামেক হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, “রাজেনা খাতুনের শরীর অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট হয়ে গেছে। আমরা প্রতিদিন দুইটি ইনজেকশন দিচ্ছি, যা তাঁর কিডনি রোগ নিরাময়ে সাহায্য করছে। একটি ইনজেকশনের দাম ১ হাজার ৫৫০ টাকা। সহযোগিতা করেছেন সিস্টাররা এবং সমাজসেবা প্রতিষ্ঠান থেকেও কিছু টাকার ব্যবস্থা করা হয

Leave a Comment